বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

একদিন গিয়ে দেখি…

Author

বরকত আলী , দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর।

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৪ পাঠ: ১৪ বার

ক্যাম্পাস লাইফ মানেই যেন স্মৃতির ঝাঁপি। সেই ঝাঁপি থেকেই কিছু স্মৃতি সংগ্রহ করেছেন মারুফ হোসেন।

 

সেবার ঠিক করেছি আর অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করব না। যেই ভাবা সেই কাজ, অ্যান্ড্রয়েড ফোন ট্রাঙ্কে রেখে দিলাম। ক্লাসের খোঁজখবর বন্ধুদের ফোন দিয়ে নেব। শনিবারের বিকেলের ক্লাস স্যার সকালে এনেছে, এক বন্ধু শুক্রবার রাতে জানাল। সকালে ঘুম থেকে উঠে তড়িঘড়ি করে ক্যাম্পাসের দিকে রওনা দিলাম, ক্লাসে দেরি হলে স্যার আবার ঢুকতে দেবে না। ডিপার্টমেন্টের সামনে গিয়ে দেখি সুনসান নীরবতা। কেউ নেই কোথাও! মিনিট দশেক অপেক্ষার পর আর সহ্য হয়নি, ওই বন্ধুকে ফোন দিলাম। ‘কীরে সবাই কই, আমি তো ডিপার্টমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।’ বিপরীত পাশ থেকে জবাব, ‘কেন সকালে মেসেঞ্জার চেক করিসনি! স্যার ক্লাসের সময় চেঞ্জ করেছে আবার, দুপুরে ক্লাস নেবে। মনে মনে ভাবছি, আমি অ্যানালগ যুগে ফিরে গেলেও ও সবাই সবাই। ডিজিটাল ডিজিটাললে যুগেই আছে।

-আবদুল্লাহ আল মামুন, পরিসংখ্যান, পাবিপ্রবি

 

এদিন ক্যাম্পাসে গিয়ে এক বন্ধুকে খুঁজতে লাগলাম। অনেককেই জিজ্ঞেস করে তার হদিস মেলল না। পরে জানতে পারলাম, আসলে সে আমার বন্ধু নয়, আমার এক ব্যাচ সিনিয়র। ২০১৮ সালের কথা। নতুন ক্যাম্পাসে নতুন বন্ধুর সঙ্গে পরিচয়। মেসেঞ্জারে সখ্য গড়ে উঠল একজনের সঙ্গে। ভাবলাম, তার সঙ্গে এক হলে উঠব, একই রুমে থাকব। মনে মনে খুশিও হলাম। অপরিচিত মানুষের মধ্যে কাউকে খুঁজে পেলাম। বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস শুরুর আগের দিন তাকে কল দিলাম। বললাম, ‘কালকে দেখা করিস ডিপার্টমেন্টে।’ সে ‘আচ্ছা’ বলে রেখে দিল। কিন্তু পরে কী ঘটল তা তো প্রথমেই বলে দিলাম।

-আতিকুর রহমান,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ

 

সেদিন ঘুম ভাঙতে একটু দেরি হয়। দেখি ক্লাসের সময় হয়ে গেছে। দ্রুত রেডি হয়ে ডিপার্টমেন্টের দিকে হাঁটা দিলাম। হাঁটার গতি একটু বেশিই

ছিল। কিন্তু ডিপার্টমেন্টে এসে দেখি রুম তালা মারা। চোখ কচলাতে কচলাতে মোবাইলের ক্যালেন্ডার বের করে দেখি আজ সরকারি ছুটির দিন ছিল! আক্ষেপ ঝেড়ে বললাম, অন্তত আরেকটু ধীরে হেঁটে এলেও পারতাম।

-বরকত আলী

রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দিনাজপুর সরকারি কলেজ

 

ভার্সিটিতে প্রথম যেদিন পুরো ব্যাচ মিলে ইমিডিয়েট ভাইয়া-আপুদের সঙ্গে দেখা, সেদিন এক আপু বলল, তোমাদের মধ্যে কাকন কে? আমি: আপু আমি (ভয়ে ভয়ে)

আপু: তুমি আমাকে ফেসবুকে মেসেজ দিয়েছিলে? আমি: জি, আপু।

এভাবে আমাকে স্মরণ করার কারণটা ভালো

করেই বুঝেছিলাম।

কারণ আপুর প্রোফাইলে ডিপার্টমেন্টের নাম দেখে ব্যাচমেট ভেবেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিই। সঙ্গে মেসেজও করে বসি। তাও আবার একবার নয়, দুবার।

-কাকন চন্দ্র রায়, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

 

গত বছর ২০২২-২৩ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় ভাইয়ের অভিভাবক হয়ে সকালের শিফটে তাকে হলে দিতে গিয়েছিলাম। সময়মতো ভাইকে হলের গেটে রেখে এক পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। পেছন থেকে এক আঙ্কেল বললেন, ‘তোমার এক্সাম কোন শিফটে?’ আঙ্কেলকে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে শিওর হলাম উনি প্রশ্নটা আমাকেই করলেন। বললাম ‘বিকেলের শিফটে’। শুনে তিনি দয়াপরবশ হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার সঙ্গে কেউ আসেনি?’ আঙ্কেলকে তো আর বুঝতে দেওয়া যাবে না! বললাম, ‘আমার ভাইয়া আসছে। আমাকে হল দেখাতে নিয়ে এসেছে।’ রুমে এসে ভাবতে লাগলাম, অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়েও গায়ে এখনো ক্যান্ডিডেটের বাতাস লেগে আছে।

-তৌহিদা আকতার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৩১ মার্চ ২০২৪ তারিখে দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!