মা দিবস : শুধু কেন একটি দিন।
❝মা কথাটি ছোট্ট অতি
কিন্তু জানো ভাই?
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর
ত্রিভুবনেও নাই! ❞
মাকে নিয়ে লিখব কিন্তু শুধু মাত্র কিছু শব্দের বিনিময়ে তা কিঞ্চিৎ অসম্ভব নয় কি?
মাকে নিয়ে লিখতে শুরু করলে তো কিছু শব্দ কেন সহস্র শব্দই কম পড়ে যাবে বরং লক্ষ-কোটি শব্দ ছাড়িয়ে অনায়েসেই পরিণত হবে এক সুবিশাল মহাকাব্যে। “মা” শব্দটা ছোট, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে পুরো একটি পৃথিবী। যে পৃথিবীতে ক্লান্তি আছে, তবু অভিযোগ নেই; কষ্ট আছে, তবু আক্ষেপ নেই ; হাজার অভাব আছে, তবুও সন্তানের জন্য ভালোবাসার কোনো কমতি নেই।
আমার মা এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের স্বপ্নগুলোকে খুব নিঃশব্দে কবর দিয়ে আমার স্বপ্নগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
কিন্তু সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় এই যে,আমরা অনেক সময় মায়ের এই ভালোবাসাগুলোকে স্বাভাবিক ভেবে নিই,এটাকে প্রকৃতির নিয়ম হিসেবে ধরে নেই। কিন্তু একটা দিন যদি মা অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকেন, তখন উপলব্ধি যায় ঘর নামক অন্দরমহলের প্রাণ আসলে কে। মা কেবল পরিবারের একজন সদস্য নন, মা সমস্ত সংসারের প্রশান্তি ও চালিকাশক্তি।
সমাজে আমরা কর্মজীবী নারীদের স্বীকৃতি দিই, তাদের সাফল্য উদযাপন করি যা অবশ্যই তাদের প্রাপ্য। কিন্তু গৃহিণী মায়েদের শ্রম?তাদের শ্রম কেন প্রায়ই অবহেলিত থেকে যায়? অথচ তারাই একটি পরিবারের ভিত্তি গড়ে তোলেন, একটি প্রজন্মকে তৈরি করেন। নিজেদের স্বপ্ন, ইচ্ছা, শখ,ক্যারিয়ার সবকিছু খুব নিঃশব্দে বিসর্জন দিয়ে তারা পরিবারের জন্যই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেন।
মায়ের এই ত্যাগ ও শ্রমের প্রকৃত মূল্য কখনো অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা অন্তত তাকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু জ্ঞাপন করতে পারি , তার কষ্টগুলো উপলব্ধি করা শিখতে পারি। কারণ একজন মা শুধুমাত্র একজন মা নন তিনি একজন নিরলস যোদ্ধা, একজন নীরব শ্রমিক, এবং আমাদের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় আমার পুরো পৃথিবী।
যেখানে একজন মা নিজের প্রতিটি সকাল সন্তানের চিন্তায় শুরু করেন,এবং প্রতিটি রাত শেষ করেন সন্তানের ভবিষ্যতের প্রার্থনায়, যেখানে তার পুরো জীবনটাই সন্তান আর পরিবারকে ঘিরে নিঃস্বার্থ ত্যাগের এক অনন্ত গল্প সেখানে সেই মায়ের জন্য ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কেন কেবল একটি দিনই বরাদ্দ?প্রতিটি দিন,প্রতিটি মুহূর্তই কি হওয়া উচিত নয় “মা দিবস”?
