মরণোত্তর চক্ষুদান: দাতার চোখের পাওয়ার কি গ্রহীতার চোখে স্থানান্তরিত হয়?
মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে আমাদের সমাজে নানা রকম ভ্রান্ত ধারণা আর অদ্ভুত সব কুসংস্কার ঘুরে বেড়ায়। এর মধ্যে খুব সাধারণ, অথচ অনেকেই মনে মনে বয়ে বেড়ায় এমন একটা প্রশ্ন হলো—”যে মানুষটা চোখ দান করে যাচ্ছেন, তাঁর চোখে যদি চশমা বা পাওয়ারের সমস্যা থাকে, তবে যিনি সেই চোখটা পাবেন, তাঁরও কি একই সমস্যা হবে?”
সোজা কথায় উত্তরটা হলো—না, একদমই না। দাতার চোখে মায়োপিয়া বা হাইপারমেট্রোপিয়া—যেই পাওয়ারেরই সমস্যা থাকুক না কেন, সেটা কোনো ম্যাজিকের মতো গ্রহীতার চোখে স্থানান্তরিত (transfer) হয় না।
আসলে আমরা অনেকেই একটা জিনিস ভুল জানি। মরণোত্তর চক্ষুদানে কিন্তু পুরো আস্ত চোখটা উপড়ে এনে আরেকজনের চোখে বসিয়ে দেওয়া হয় না। এখানে প্রতিস্থাপন করা হয় শুধু চোখের একদম সামনের স্বচ্ছ পর্দাটুকু, যেটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘কর্নিয়া’ (cornea)। এই কর্নিয়ার মূল কাজ হলো বাইরের আলোটাকে নিখুঁতভাবে চোখের ভেতরে প্রবেশ করানো, ব্যস এটুকুই।
তাহলে চশমা বা পাওয়ারের গোলমালটা আসলে কোথায় হয়? সেটা হয় চোখের একদম ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক লেন্সের গঠনগত ত্রুটি কিংবা অক্ষিগোলকের দৈর্ঘ্য কম-বেশি হওয়ার কারণে। কর্নিয়া ট্রান্সপ্ল্যান্টের সময় গ্রহীতার চোখের ভেতরের সেই লেন্স বা অক্ষিগোলক কিন্তু একদম আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকে। সেখানে কোনো হাতই দেওয়া হয় না। ফলে দাতার চশমার পাওয়ার গ্রহীতার চোখে বিন্দুমাত্র কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।
সবচেয়ে বড় সত্যটা হলো, চোখের পাওয়ারের সমস্যা কোনো স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা নয়। তাই চশমা পরেন বলে মরণোত্তর চক্ষুদান করতে পারবেন না—এই ধারণাটা একটা মস্ত বড় ভুল। হয়তো আপনার এই একটা সঠিক সিদ্ধান্ত কোনো অন্ধ মানুষের জীবনে আলো ফিরিয়ে আনতে পারে, তাকে দেখাতে পারে এক নতুন পৃথিবী। মানুষের এই জেগে ওঠার যাত্রাটাই তো আসল, তাই না?
