নারী নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার প্রয়োজন
নারী নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার প্রয়োজন
সম্প্রতি সময়ে দেশজুড়ে নারীদের প্রতি সহিংসতার যে চিত্র আমরা দেখতে পাই তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, পারিবারিক সহিংসতা এই ঘটনাগুলো সার্বিকভাবে নারীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে । পথে-ঘাটে, গণপরিবহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মক্ষেত্রে সহজ কথায় ঘরে-বাইরে কোথাও নারী নিরাপদ নয় যা আমাদের সমাজের বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। এই সমস্যার মূলে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
এর মধ্যে পুরোনো সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি একটি কারণ। ছোট থেকেই ছেলে ও মেয়ের মধ্যে পার্থক্যটা আমাদের দারুণ ভাবে চর্চা করানো হয়। ছেলেদের শেখানো হয় যে সে শক্তিশালী এবং তার যা মন চায় তাই করতে পারবে। সকল ক্ষেত্রে তার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। মেয়েদের শেখানো হয় তুমি চুপ থাকো, সকল কিছু তোমার জন্য প্রযোজ্য নয়। চলাফেরা থেকে শুরু করে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেও সীমাবদ্ধ করে তোলা হয়।আমাদের সমাজে নারীরা সহিংসতার স্বীকার হলে একতরফা ভাবে তাকে দোষারোপ করা হয়।
আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে এই সমস্যা স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থাকলেও মামলা দায়ের করা থেকে শুরু করে বিচার পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারকে যে চাপের সম্মুখীন হতে হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মামলার বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা সহজে রেহাই পেয়ে যায়।শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে এই বিষয়গুলো আরও জটিল থেকে জটিলতর হয়ে যাচ্ছে। এই সকল কারণে নারীর কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যায়। বিবিএসের তথ্যমতে, প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজন নারী কখনোই নির্যাতনের কথা কারো কাছে প্রকাশ করেন না, মেনে চলে নীরবতার সংস্কৃতি ।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না সেই আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নারী নির্যাতনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সক্রিয় রাখতে হবে, রাস্তাঘাটে পর্যাপ্ত আলো ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে, গণপরিবহনে নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে,প্রতিটি কর্মপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে, সাইবার অপরাধ দমনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। সুস্থ মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি গড়ে তোলা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানসিক পরিবর্তনেও আমাদের সমান মনোযোগ দিতে হবে। সরকার, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এখন সময়ের দাবি।অতএব, কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন উক্ত বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।
নাম: নূর সানজিদা স্মৃতি
বিভাগ : কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।
ইমেইল :sanjidarahman5489@gmail.com
মোবাইল নম্বর :01764416131
