বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।

Author

আশা মনি , ইডেন মহিলা কলেজ

প্রকাশ: ৪ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ১৩৪ বার

রমজানে দ্রব্যমূল্য।

বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সবচেয়ে কাঙ্খিত এবং পবিত্র মাস রমজান।রমজানকে কেন্দ্র করে মানুষের যেমন সুপরিকল্পনা থাকে,একইভাবে কিছু অসৎ ও নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষের মাঝে দেখা যায় বিরুপ চিন্তাভাবনা।বিশেষ করে ব্যাবসায়ী শ্রেনী পেশার মানুষের মাঝে।রমজান কে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করা যেনো এদেশের ব্যাবসায়ীদের একটি স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।যা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে।বেশ কিছু জরিপে দেখা যায়,২০২৬ সালের রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১০-১২%।সাধারণ মানুষের অভিযোগ,বিগত বছরের রমজান মাসে হালি প্রতি লেবু ছিলো ২০-৪০ টাকা যা এবছরে ৮০-১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।একইভাবে দাম উচ্চ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে খেজুর,গুড়,ছোলা,তেল,সবজি ও ফলমূলের মতো রমজানের বিশেষ প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রেও।যার ফলে সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তিতে পরেছে।বিশেষ করে নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ জন।এছাড়াও রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের দ্রব্যমূল্যে বৃদ্ধির প্রভাব পরে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও।সারা বছরের তুলনায় রমজান মাস এলে তাদেরকেও উচ্চমূল্য দিয়ে কিনতে হয় নিত্যপণ্য।এ বিষয়ে তাদের মাঝেও দূর্ভোগ এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ব্যবসায়ীদের দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তারা এড়িয়ে যেতে চায় কিংবা ভূল তথ্য দিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা দেখা যায়।পবিত্র এই মাস কে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের এই অন্যায় উৎসব থেকে পরিত্রাণ চায় সাধারণ জনগন।এক্ষেত্রে প্রতি বছরই প্রশাসনকে রমজানের শুরুতে কিছুদিন বাজার মনিটরিং এর দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও,তাদের চলে যাওয়ার পরই সব আগের ন্যায় চলতে থাকে।অন্যদিকে শহরাঞ্চলের ছোট ছোট বাজার গুলোতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না থাকায়,এই বাজার গুলোতে চড়ামূল্যেই সারামাস ক্রয় বিক্রয় চলে।যার প্রধান ভুক্তভোগী হয় প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ।এক্ষেত্রে বছরের শুরুতেই রমজানের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করার জন্য কৃষক,খামারী ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।সরকারের বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে উৎপাদিত দ্রব্য সংগ্রহ করে তা খুচরা ব্যাবসায়ীদের নিকট পৌছাতে হবে।তবে পরিবহন সেবায় বিশেষ মূল্যছাড় দিলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে লাগাম টানা সম্ভব এবং সারা মাস ব্যাপি বাজার মনিটরিং এর মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যের ন্যায্য দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয় পক্ষের সন্তুষ্টির মাধ্যমেই রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

আশা মনি
ইংরেজি বিভাগ,
ইডেন মহিলা কলেজ।

লেখক: সাধারণ সদস্য, ইডেন মহিলা কলেজ।
এই লেখাটি ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!