হামে শিশুমৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝঁুকি
হামে শিশুমৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
আশা মনি
সরকারি তথ্য অনুযায়ী হামে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর, কোভিড-১৯ ছাড়া স্বল্প সময়ে কোনো রোগে এত মৃত্যুর ঘটনা সম্ভবত আর দেখা যায়নি। ব্যাপকভাবে শিশুদের এভাবে মৃত্যু দেশের জন্য একটি বড় হুমকি।
হাম সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ না হলেও বিগত বছরগুলোয় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি রোগ কীভাবে এত দ্রুত আবার বৃদ্ধি পেল—এ নিয়ে চলছে নানা ধরনের দোষারোপ।
হাম প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো শিশুকে হামের টিকা প্রদান করা। এ ছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার মাধ্যমেও হাম প্রতিরোধ সম্ভব।
গত বছর টিকাদান কার্যক্রম কমে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু পরিবার স্বেচ্ছায় শিশুদের টিকা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যায়, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণের পর অনেকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিশেষ করে ত্বকজনিত সমস্যা (স্কিন ডিজিজ) নিয়ে তৈরি হওয়া ভীতি। এর ফলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা ও ভ্যাকসিন গ্রহণেও মানুষের মধ্যে অনীহা ও সন্দেহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে সরকার হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত এক মাস ধরে টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক ও স্কুলভিত্তিকভাবে শিশুদের হামের টিকা প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তবে হাসপাতালগুলোর চিত্র এখনো সন্তোষজনক নয়। অনেক শিশু টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মরণের লড়াই করছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ির করুণ চিত্রও দেখা যাচ্ছে।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীদের হামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো দক্ষ ও সচেতন করে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকার প্রতি ভীতি দূর করতে সরকারকে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা জোরদার করতে হবে। অন্যথায় এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
