মশার উপদ্রব বৃদ্ধি

মশার উপদ্রব বৃদ্ধি
শহরাঞ্চলে মশার উপদ্রব দিন দিন বেড়ে এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিক জনজীবনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে শুধু রাতে নয়, এখন দিনে অনেক বাসাবাড়িতে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হচ্ছে। তবু মশার কামড় থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।
মশার এই ব্যাপক বিস্তারের কারণগুলো স্পষ্ট। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জমে থাকা আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে। এ ছাড়া অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণও মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অনেক ক্ষেত্রে ঘরের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখা এবং নিয়মিত ফগিং বা মশা নিধন কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
ফলে মশাবাহিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৪০১ জন এবং প্রায় এক লাখ মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ ছাড়া মশার কামড়ে মানুষ চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া ও ফাইলেরিয়ার মতো রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধের সংখ্যা বেশি।
প্রায়ই দেখা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তখনই সরকার মশা নিধন কর্মসূচি জোরদার করার উদ্যোগ নেয়। তবে বাস্তবে এর কার্যকারিতা অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ। সিটি করপোরেশনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফগিং (ধোঁয়া দেওয়া) কার্যক্রম চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হয়, কিন্তু অনেক স্থানীয় এলাকায় মশার উপদ্রব আগের মতোই থেকে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
তাই আমরা চাই, প্রশাসন যেন দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যকর মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে এবং জনজীবনকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করে।
আশা মনি
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ

