ঈদে বাড়ী ফেরার দুর্ভোগ

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের মাঝে একটি পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। মুসল্লিরা সারাবছর অপেক্ষায় থাকে এই উৎসবের। কিছুদিন পরেই পবিত্র ঈদ-উল -ফিতর। জীবিকার তাগিদে, চাকরিসূত্রে কিংবা উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য লাখ লাখ লোক নিজ এলাকার বাহিরে অবস্থান করছে। ঈদে এরা সবাই নিজের গ্রামে পাড়ি জমাবে প্রিয়জনের সাথে ঈদ করার জন্য। নিরাপদে বাড়ি ফেরার প্রত্যাশা থাকে সবার। কিন্তু তা আর হয় কোথায়! এই ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে ট্রেনের ওপরে। স্বল্প খরচে দূর ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক বাহন হচ্ছে ট্রেন। ফলে বেশিরভাগ মানুষই ট্রেনে গন্তব্য স্থলে পৌঁছাতে চায়। এই সুযোগে ট্রেনের টিকিটে চলে কালোবাজারি। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটেই ভোজবাজির মতো মুহুর্তে টিকিট শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্লাটফর্মে এসে একটু এদিক ওদিক তাকালেই দেখা যায় অদৃশ্য হাতে টিকিট চলে আসছে। কিন্তু দাম হাঁকা হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি।
আবার অনেক যাত্রী টিকেট ছাড়াই ট্রেনে উঠে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করে। এমনকি ট্রেনের ছাঁদে বসে ঝুঁকি নিয়েও বাড়ী ফিরতে দেখা যায় হাজার হাজার মানুষকে। অন্যদিকে ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাসযোগে রওনা হয় অনেকে। তখন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাসের টিকিটগুলোরও দামও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাধ্য হয়ে জনসাধারণকে সেটাই ক্রয় করতে হয়। এসময় আবার ট্রাক,মালবাহী গাড়ীতে করেও লোকজনকে বাড়ী ফিরতে দেখা যায়। এদিকে ঈদে সবার ছুটি একই সাথে শুরু হওয়ায় বাড়ীর উদ্দেশ্য রওনা দেয় সবাই একই সময়ে। ফলস্বরূপ গাড়ী ও যাত্রীর চাপ থাকায় রাস্তাঘাটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটের জন্য একই স্থানে টানা কয়েকঘন্টা সকল যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিবছরই। আর যানজটের জন্য যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্য’তে পৌঁছাতেও অনেক দেরি হয়।এছাড়া প্রতি বছর দেখা যায়, ঈদের সময় বিভিন্ন চক্র যেমন ছিনতাইকারী, মলমপার্টির আবির্ভাব হয়। বিশেষ করে মলমপার্টির উৎপাত ঈদের সময় বেশি দেখা যায়। খাবারের মধ্যে নেশাজাতীয় বা চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে মানুষকে অজ্ঞান করে অর্থ, মোবাইল এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়াই তাদের কাজ। অথচ এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি প্রয়োজন। দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে মানুষ সড়কপথের পরিবর্তে ট্রেনে করে ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। পাশাপাশি ঈদযাত্রায় সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সময় বিশেষ ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত। তাহলে মানুষের যাতায়াত কিছুটা হলেও আরামদায়ক হবে। ইদের সময় যানজট নিরসন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ট্রেনের টিকিটে কালোবাজারি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ জরুরি এবং যারা এসব অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন। তবেই মানুষের ভ্রমণ হবে নিরাপদ ও শান্তির।

