দাবি উঠুক মনুষ্যত্বের

দাবি উঠুক মনুষ্যত্বের
জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জন বা গোষ্ঠী বিভিন্ন রকমের চাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছে। আমার ব্যক্তিগত মত—বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি অভাব মনুষ্যত্বের। মনুষ্যত্বের অভাবে ঘটে যাচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত সব ঘটনা। উদাহরণ হিসেবে বলতে গেলে, কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া সিলেটের কানাইঘাটের পাঁচ বছরের মুনতাহার হত্যাই যথেষ্ট। কতটা মনুষ্যত্বহীন হলে একটা মানুষ এমন ফুটফুটে শিশুর প্রাণ নিতে পারে। মুনতাহার মতো দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুর প্রাণহানি ঘটছে মনুষ্যত্বহীনতায় আক্রান্ত মানুষের দ্বারা।
একটি জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের প্রথম দশ মাসে হত্যার শিকার হয়েছে প্রায় ৪৮২ জন শিশু। মনুষ্যত্বের অভাবেই রাস্তায় ময়লার স্তূপে পাওয়া যায় সদ্য জন্ম নেওয়া নিষ্পাপ বাচ্চা। মনুষ্যত্বের অভাবেই বন্ধ করা দরজা খুলতেই দেখা যায়, স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গলায় দড়ি দেওয়া গৃহবধূর ঝুলন্ত নরদেহ। এরকম আরো একাধিক ঘটনা ঘটেছে শুধুমাত্র মনুষ্যত্বহীনতার কারণে। এসব অমানবিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে প্রথমত প্রয়োজন মনুষ্যত্ব। মনুষ্যত্বের জন্য সমাজ ও ব্যক্তির মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি। এটি একটি প্রচেষ্টা—যা ধৈর্য, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। এবং সকলকে সমস্বরে আওয়াজ তুলতে হবে, ‘দাবি উঠুক মনুষ্যত্বের’।
সাব্বির হাসান নীরব
শিক্ষার্থী,
বাজিতপুর সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ

