বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

বিশ্ববিদ্যালয় হোক মুক্তচিন্তার প্রাণকেন্দ্র

Author

মোছাঃ ইসমা খাতুন , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পাঠ: ৫৭ বার

বিশ্ববিদ্যালয় হলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এবং জ্ঞান চর্চার সর্বোচ্চ স্থান। এখানে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় বরং শিক্ষকেরাও জ্ঞান অন্বেষণ, গবেষণা ও সৃষ্টিশীল আবিষ্কারের জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ পায়। কিন্তু যখন এখানে মুক্তচিন্তার ধারাটি ব্যাহত হয় তখন এর বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে অনেক বড় বড় ডিগ্রিধারী মানুষ এখান থেকে বের হলেও তারা প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেকটা দূরেই সরে থাকে। যা ভবিষ্যতের সঠিক নেতৃত্বের অভাব এবং দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় যাতে মুক্ত চিন্তার প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে এবং তাদের প্রত্যাশিত বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী- মোছা: ইসমা খাতুন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

বন্ধ হোক লেজুরবৃত্তিক শিক্ষক রাজনীতি :

লেজুরবৃত্তিক শিক্ষক রাজনীতি শিক্ষকতার পবিত্র পেশাকে দলীয় আনুগত্যের জালে আবদ্ধ করে স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্তচিন্তাকে রুদ্ধ করে। শিক্ষার্থীদের সামনে কলুষিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ ধ্বংস করে দেয়। গবেষণা, শিক্ষাদান ও মুক্ত বিতর্ক রাজনৈতিক স্বার্থে নিয়ন্ত্রিত হলে একদিকে যেমন জ্ঞানচর্চা ব্যাহত হয় অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় তার মৌলিক উদ্দেশ্য হারায়। শুধু শিক্ষকই নয়; ভবিষ্যতে যদি কোন ছাত্র সংসদের মধ্যে লেজুবৃত্তিক প্রবণতা না থাকে তবেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠবে মুক্তচিন্তার প্রাণকেন্দ্র।
সুমাইয়া খাতুন,
শিক্ষার্থী, সমাজকল্যাণ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

শুধু সংগঠন নয়; চাই কার্যকরী প্রয়োগ।

শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের সংগঠন রয়েছে। যেমন: ডিবেট ক্লাব, সাহিত্য সংসদ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, কুইজ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এসব সংগঠন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব গুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দুঃখজনক ভাবে বলতে হয়, অনেক সংগঠন কেবল নামেই সীমাবদ্ধ থাকে। পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ও সঠিক কার্যক্রম পরিচালনার দ্বারা বাস্তবায়িত হয় না। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এজন্য শুধু সংগঠন গড়ে তুললেই হবে না; এর সঠিক পরিকল্পনা, দায়িত্ববোধ, সময়োপযোগী কর্মসূচি ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই সংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উন্নয়নে সহায়ক হবে।
শশী বিশ্বাস
শিক্ষার্থী: পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ আবশ্যক।

ছাত্র সংসদ এমন একটি সংগঠন যা শিক্ষাঙ্গনের নীতি নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়। বর্তমান সময়ে শিক্ষাঙ্গনের বিশৃঙ্খলতা দূর করতে, লেজুরবৃত্তিক শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি দমন করে শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আনার জন্য ছাত্র সংসদ গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি গঠনের ফলে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দানের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন ধরনের অনুশীলন, মুক্ত বিতর্ক ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তার বিকাশের সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।
মোঃ রায়হান সরকার
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া

সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রসার।

একজন শিক্ষার্থী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুধু সার্টিফিকেট আশা করে না। সহশিক্ষা শিক্ষার অন্যতম প্রধান অঙ্গ। একজন শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তুলতে নানা ধরনের সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের বিকল্প নেই। যেমন- বিতর্ক, পাবলিক স্পিকিং, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, কুইজ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা জাগিয়ে তুলতে ও সহশিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা, সময় এবং কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার মাধ্যমে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের উন্নয়ন ও প্রসার ঘটনো অত্যন্ত জরুরী।
চয়ন মন্ডল
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

লেখক: কার্যনির্বাহী সদস্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!