জীববিজ্ঞান

দ্বিতীয় অধ্যায় : জীবকোষ ও টিস্যু
সৃজনশীল প্রশ্ন
শিপন সাহেব একজন প্রকৃতিপ্রেমী যুবক। শীতকালের এক সকালে তিনি দেখতে পেলেন যে, আশপাশের গাছ থেকে পাতা ঝরে যাচ্ছে। তিনি আরও খেয়াল করলেন যে তার হাতের চামড়া উঠছে।
ক. কোষ কাকে বলে?
খ. কোষের প্রকারভেদ বর্ণনা কর।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত গাছে যে ধরনের কোষ বিদ্যমান তার চিত্র অংকন করে অঙ্গাণুগুলো চিহ্নিত কর।
ঘ. উদ্দীপকের গাছের পাতার কোষ ও হাতের চামড়ার কোষ এক নয়। ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
ক. জীবদেহের গঠন ও কাজের একককে কোষ বলে।
খ. নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের।
যথা : ১. আদিকোষ : এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই। এদের দেহ রাইবোজোম থাকে, ক্রোমোজোমে থাকে। অন্যান্য কোষীয় আঙ্গাণু অনুপস্থিত।
২. প্রকৃত কোষ : এ ধরনের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। কোষীয় সব উপাদান মাইটোকন্ডিয়া, প্লাজমিক, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম প্রভৃতি উপস্থিত থাকে।
গ. গাছের পাতার কোষ প্রকৃত কোষ। প্রকৃত কোষের উদ্ভিদকোষ গাছের পাতায় বিদ্যমান। নিচে উদ্ভিদকোষের চিত্র অংকন করে অঙ্গাণু চিহ্নিত করা হলো।
চিত্র : গাছের পাতার কোষ
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত গাছের পাতা ও হাতের চামড়া উভয়ই প্রকৃতকোষী। তবে গাছের পাতা উদ্ভিদকোষ ও হাতের চামড়া প্রাণীকোষের অন্তর্গত।
গাছের পাতার কোষ (উদ্ভিদকোষ) : উদ্ভিদকোষ দেহে যে কোষ থাকে তাকে উদ্ভিদ কোষ বলে। এটি উদ্ভিদের গঠন ও কার্যের একক। উদ্ভিদকোষ বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণু নিয়ে গঠিত। উদ্ভিদকোষে কোষ প্রাচীর থাকে। প্লাসিড থাকে যা খাদ্য উৎপাদনে সাহায্য করে। এ ছাড়াও বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থও থাকে। উদ্ভিদ কোষে কোষ গহ্বর থাকে।
হাতের চামড়ার কোষ (প্রাণীকোষ) : প্রাণীদেহে যে কোষ থাকে তাকে প্রাণীকোষ বলে। প্রাণীকোষ মাইটোকন্ডিয়া, নিউক্লিয়াস, ক্রোমাটিড, মাইক্রোভিলাস প্রভৃতি কোষীয় অঙ্গাণু নিয়ে গঠিত। উদ্ভিদকোষে প্লাসিড থাকলেও প্রাণীকোষে প্লাস্টিড থাকে না। আবার প্রাণীকোষের কোষ গহ্বর উদ্ভিদকোষের তুলনায় ছোট। তাই বলা যায়, গাছের পাতার কোষ ও হাতের চামড়ার কোষ এক নয়।

