মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশের কৃষি হুমকির মুখে

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশের কৃষি হুমকির মুখে
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যে ভয়াবহ সংঘাত শুরু হয়েছে, তা কেবল ঐ অঞ্চলের মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন নয় ,এর আঁচ এসে পড়েছে বাংলাদেশের কৃষিজীবী মানুষের জীবনেও।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্য আজ এক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। কিন্তু এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক আঘাত সুদূর বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে তীব্রভাবে।
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। শুষ্ক মৌসুমে নদীর অববাহিকায় জেগে ওঠা চরগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য ও মসলাজাতীয় ফসল উৎপাদন হয়। যা দেশের খাদ্য চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে। কিন্তু এসব চর এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় কৃষকরা ডিজেল ও পেট্রোল চালিত সেচযন্ত্রের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেওয়ায় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে পড়ায় দেশে ডিজেল ও পেট্রোলের মূল্য এবং সরবরাহ উভয়ই সংকটের মুখে পড়েছে। ফলে চরাঞ্চলের কৃষকরা পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছেন না সেচ ব্যাহত হচ্ছে, মাঠের ফসল হুমকিতে পড়ছে।
সংকট কেবল সেচেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের ইউরিয়া সার কারখানাগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ইতিমধ্যে দেশের পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বোরো মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এই সার সংকট কৃষকের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের উচিত বিকল্প জ্বালানি ও সার সংগ্রহের পরিকল্পনা এখনই গ্রহণ করুন। চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য জ্বালানি ভর্তুকি নিশ্চিত করুন। বন্ধ সার কারখানাগুলো দ্রুত চালু করার কার্যকর উদ্যোগ নিন। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় আর দেরি নয়।
যুদ্ধের আগুন জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্যে কিন্তু পুড়ছে বাংলাদেশের কৃষকের স্বপ্ন। এই বাস্তবতাকে আর উপেক্ষার সুযোগ নেই।
নাম: মোঃ মাজহারুল ইসলাম
শিক্ষার্থী: আরবি বিভাগ
প্রতিষ্ঠান: সরকারি আজিজুল হক কলেজ বগুড়া
মোবাইল:01787937572
ইমেইল majharulisla
m1842003@gmail.com

