বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ফিচার / নিবন্ধ

হাত-পা অতিরিক্ত ঘেমে যায়

Author

তৌফিক সুলতান , ঢাকা মেডিকেল ইনস্টিটিউট

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ পাঠ: ৭৯ বার

মানুষের শরীরের ঘাম একদিকে যেমন স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, অন্যদিকে অতিরিক্ত ঘাম এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এই সমস্যাকে পামার ও প্লান্টার হাইপারহাইড্রোসিস বলে। এটি এমন এক অবস্থা, যেখানে শরীরের সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হয়ে হাত-পায়ের ঘর্মগ্রন্থিকে অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন করতে উদ্দীপিত করে। ফলে অপ্রয়োজনীয় সময়েও হাত-পা থেকে ঘাম ঝরতে থাকে। কারণ সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমের অতিসক্রিয়তা , বংশগত, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভয়, হরমোনজনিত পরিবর্তন, থাইরয়েড ও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

চিকিৎসা ও প্রতিকার

অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড থেরাপি : সবচেয়ে প্রচলিত ও প্রাথমিক চিকিৎসা। অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড হেক্সাহাইড্রেট ১৫ থেকে ২০ দ্রবণ রাতে ঘুমানোর আগে হাত ও পায়ের তালুতে লাগাতে হয়। আয়োনটোফোরেসিস : বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে হাত বা পা পানিতে ডুবিয়ে হালকা বৈদ্যুতিক প্রবাহ দেওয়া হয়। ঘর্মগ্রন্থির কার্যকারিতা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

দেশে চিকিৎসা

মুখে খাওয়ার ওষুধ : চিকিৎসকের পরামর্শে Antihistamine ওষুধ ব্যবহার করা যায়।

বোটক্স ইনজেকশন : ত্বকের নিচে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইনজেকশন দেওয়া হয়। এটি ঘর্মগ্রন্থির স্নায়ু সংযোগ বন্ধ করে দেয়।

সার্জারি : সার্জারিতে সিমপ্যাথেটিক নার্ভের নির্দিষ্ট অংশ কেটে বা ক্লিপ দিয়ে দেওয়া হয়। হাত-পা ঘাম বন্ধ হয়।

বিকল্প প্রতিকার

হাত-পা শুকনো রাখুন। ঠা-া পানি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে দিনে হাত-পা ধুয়ে নেওয়া। ট্যালকম পাউডার বা কর্নস্টার্চ ব্যবহার করা। বায়ু চলাচল হয় এমন জুতা ও মোজা পরা। সিন্থেটিক নয়, বরং সুতির মোজা ব্যবহার করা। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা। কফি, চা, ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার ও গরম পানীয় কম খাওয়া। ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা।

লেখক: শিক্ষক & প্রতিষ্ঠাকালীন দপ্তর সম্পাদক, সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!