বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

ঈদে শৈশবের বন্ধুত্বের পুনর্মিলন—নরোত্তমপুর থেকে গজারী বন পর্যন্ত এক আনন্দঘন ভ্রমণ

Author

তৌফিক সুলতান , ঢাকা মেডিকেল ইনস্টিটিউট

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৭০ বার

ঈদ—শুধু আনন্দের উৎসব নয়, বরং এটি আমাদের হারানো সম্পর্ক, পুরনো স্মৃতি ও বন্ধুত্বের পুনর্মিলনের এক অনন্য মাধ্যম। ব্যস্ত জীবনের ব্যবধান ভুলিয়ে দিয়ে ঈদ এমন এক সময় আনে, যখন বহুদিন দেখা না হওয়া বন্ধুদের আবার একসাথে দেখা হয়। এবারের ঈদে সেই অনুভূতি আরও বিশেষ হয়ে উঠল, যখন আমরা শৈশবের প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হলাম আমাদের প্রাণের বিদ্যাপীঠ চরদুর্লভ খান আবদুল হাই সরকার উচ্চ বিদ্যালয় (বর্তমানে চরদুর্লভ খা আঃ হাই সরকার স্কুল এন্ড কলেজ)-এর চিরচেনা মাঠ প্রাঙ্গনে।

নরোত্তমপুরের ঈদগাহ থেকে নামাজ শেষ করার পর স্থানীয় বন্ধু ও ছোট ভাই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করি। ঈদের আনুষঙ্গিক আনন্দগুলো শেষ করে শৈশবের বন্ধু সৌরভকে কল দিই, দেখা করার জন্য। এরপর একে একে সবার সঙ্গে দেখা করি—মিলনের আনন্দ, হাসি, স্মৃতিচারণা এবং পুরনো দিনের গল্পগুলো যেন মুহূর্তেই আমাদের ফিরে নিয়ে যায় সেই সোনালি দিনগুলোতে, যখন প্রতিদিনই দেখা হতো।

নামাজ শেষে আমাদের মিলনমেলা শুরু হয়। দীর্ঘদিন পর সাক্ষাৎ হলেও হৃদয়ের টান একটুও কমেনি। আড্ডা, গল্প, হাসি আর শৈশবের স্মৃতিচারণায় পুরো সময়টা ভরে ওঠে। তারপর আমরা সবাই মিলে এক ছোট্ট ভ্রমণে বের হই—বারিষাব, বেলতলী বাজার পেরিয়ে গিয়াসপুর, নরোত্তমপুর, গাওরা ও মেওরা অতিক্রম করে পৌঁছে যাই সবুজে ঘেরা গহীন গজারী বনে। এই বন ছিল প্রকৃতির এক অমিত বিস্তৃত আয়তন, যেখানে নিরবতা, সবুজের অভাবনীয় বিস্তার এবং বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাস একত্রে মিলে এক অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি, যেন প্রকৃতিই আমাদের আনন্দকে দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছে।

পুনর্মিলনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। কামরুল হাসান সৌরভ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-এর অনকোলজি বিভাগে কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মহিদুল হাসান খান অন্তু ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (IUBAT) থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে ব্রেন স্টেশন-এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। রাজিব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আমি, তৌফিক সুলতান—ঢাকা মেডিকেল ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর বর্তমানে বি. জে. এস. এম মডেল কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত মতামত, কলাম, ফিচার ও চিঠি লিখি। সম্প্রতি আমার লেখা “World Of Knowledge – জ্ঞানের জগৎ” প্রকাশিত হয়েছে, যার লক্ষ্য নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চা, চিন্তাশক্তি, দক্ষতা বিকাশ এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করা।

আমাদের অন্যান্য বন্ধুদের মধ্যে রোমেল মাহমুদ রোমান তিতুমীর কলেজ থেকে গণিতে অনার্স শেষ করে বর্তমানে কাপাসিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জহিরুল ইসলাম সুমন তিতুমীর কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে বিসিএস প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিদারুল ইসলাম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, আর মোফাজ্জল গাজীপুর ন্যাশনাল কলেজ থেকে প্রাণীবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে বুরো বাংলাদেশে কর্মরত।

পরে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হন আরও বন্ধু—সোহাগ, জাহিদুলসহ অনেকেই। সবার উপস্থিতিতে মিলনমেলা পূর্ণতা পায়, প্রতিটি গল্প, হাসি, এবং স্মৃতিচারণা আমাদের বন্ধুত্বের গভীরতা আরও দৃঢ় করে। একসাথে কাটানো মুহূর্তগুলো শুধুই আনন্দের নয়, বরং আমাদের শৈশবের বন্ধনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার এক সুযোগ।

যখন সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়, তখন উপলব্ধি হয়—সময় বদলালেও সত্যিকারের বন্ধুত্ব কখনো বদলায় না। ঈদের এই পুনর্মিলন আমাদের জীবনে বারবার ফিরে আসুক, আর এই বন্ধন অটুট থাকুক চিরকাল। বন্ধুত্ব, স্মৃতি, এবং শৈশবের আনন্দ—সব মিলিয়ে এই ভ্রমণ যেন জীবনের এক অমূল্য অধ্যায় হয়ে থাকে।

লেখক: শিক্ষক & প্রতিষ্ঠাকালীন দপ্তর সম্পাদক, সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!