বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / অণুগল্প / নিবন্ধ

আলোকিত জাতি গড়ার এক নীরব বিপ্লব – তৌফিক সুলতান

Author

তৌফিক সুলতান , ঢাকা মেডিকেল ইনস্টিটিউট

প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পাঠ: ৬৪ বার

নীরবতায় ঢেকে থাকা গ্রামীণ জনপদে হঠাৎ করেই যেন আলোর ঝলকানি চোখে পড়ে। সেই আলোটি আসছে বসুন্ধরা শুভসংঘের পাঠাগার থেকে। একদিন গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের চরখিরাটি দিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলাম। চোখে পড়ে যায় ছোট্ট একটি সাইনবোর্ড ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগার’।অনেকটুকু সামনে এগিয়ে গিয়েও কৌতূহল আমাকে স্থির থাকতে দেয়নি, ফিরে এলাম পাঠাগারের সামনে। সত্যি বলতে, এই ফিরে আসাটাই আমার চিন্তার জগতে এক নতুন দুয়ার খুলে দিল। পাঠাগারের দায়িত্বে থাকা কিছু মানুষের আন্তরিকতা ছুঁয়ে গেল হৃদয়। এমনভাবে গুছিয়ে সৌম্য ভাষায় পাঠাগার ও বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলছিলেন তাঁরা, মনে হয় এই পথের পাশে জ্ঞান আর মানবিকতার দীপ্ত আলো লুকিয়ে ছিল, যা আজ আবিষ্কার করলাম।এমন একটি পাঠাগার সাহিত্যানুরাগী ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা মানুষের জন্য শুধু আশীর্বাদই নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক আলোকস্তম্ভ। বই পড়া মানেই জ্ঞান আহরণ, আত্মানুসন্ধান ও উন্নত মানসিকতার চর্চা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই পাঠাগার শুধু বই পড়ার একটি স্থান নয়, বরং একটি আলোকিত সমাজ গড়ার প্রতিজ্ঞা, আলোকিত জাতি গড়ার এক নীরব বিপ্লব। তাই আমি দেরি না করে পাঠাগারের সদস্য ফরম পূরণ করলাম।এই মহান উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ তাঁরা শুধু একটি পাঠাগার তৈরি করেননি, গড়ে তুলছেন আলোকিত ভবিষ্যৎ। পাঠাগারে প্রবেশের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা আমার মনোজগতে এমনভাবে প্রোথিত হলো, যেন বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া কোনো আত্মিক ঠিকানার খোঁজ পেলাম। মনে হচ্ছিল এ শুধু পাঠাগার নয়, একটি আন্দোলনের সূচনা, যেখানে লুকায়িত আছে জ্ঞান, মানবিকতা ও নেতৃত্ব গঠনের গভীর আকাঙ্ক্ষা। এমন শান্ত, প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা পাঠাগার হয়তো বাহ্যিকভাবে খুব ছোট, কিন্তু এর অভ্যন্তরীণ শক্তি একেবারে মৌলিক ও সময়ান্তরকারী।প্রতিটি বই যেন উচ্চারণ করে একেকটি বার্তা ‘পড়ো, জানো, বদলে যাও, বদলে দাও’। এই পাঠাগার শুধু সাহিত্য বা শিক্ষার চর্চা নয়, বরং এখানে তৈরি হচ্ছেন মননশীল পাঠক, যাঁরা ভবিষ্যৎ সমাজের জন্য হয়ে উঠবেন আলোকিত নেতা, চিন্তক এবং মানবিক মানুষ, যাঁরা পাঠাগারকে দেখেন নতুন সমাজ বিনির্মাণের উপকরণ হিসেবে। এই পাঠাগারের মাধ্যমে আমরা যদি গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করিয়ে দিতে পারি, তাহলে একদিন তারা কেবল চাকরির পেছনে দৌড়াবে না, বরং নেতৃত্ব দেবে, সমাজ বদলাবে, জাতি গড়বে। একজন শিক্ষক হিসেবে দেখেছি, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে হারিয়ে যায়। এই পাঠাগার সেই দিকনির্দেশনার স্থান হতে পারে, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই নিজেকে খুঁজে পাবে বইয়ের পাতায়।
বই হবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। পাঠাগার হবে একটি জাতির চেতনার সূতিকাগার। বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগার আমাদের প্রত্যেককে আহ্বান জানায়, আসুন আমরা সবাই মিলিত হই আলোকিত জাতি গড়ার পথে।

লেখক: শিক্ষক & প্রতিষ্ঠাকালীন দপ্তর সম্পাদক, সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!