বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / কবিতা / নিবন্ধ

নির্যাস

Author

সেঁজুতি মুমু , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৬ পাঠ: ৭৫ বার

নির্যাস

 

অতীতের দিকে তাকাতে চাইলেই দেখি ঘোর আঁধার।

যেন কত কোটি আলোকবর্ষ ধরে, বিশৃঙ্খল জীবন যাপন করছিলাম।

সবকিছু বড্ড এলোমেলো ছিলো।

নারীর প্রতি হওয়া অবহেলা, নিপীড়ন দেখে,

নারী হয়েও নিজের নারীত্বকে ভালোবাসতে ব্যর্থ হতাম।

তারপর আঁধার পেরিয়ে আলো এলো।

আশা হয়ে এলেন এক মানবী, আমায় অন্ধকার জগৎ থেকে উদ্ধার করতে।

ভীষণ আলো ছিল, দীর্ঘকাল অন্ধকারে ছিলাম, তাই সে আলো নিকটে থাকলেও তার দিকে তাকাতে পারি নি।

চশমার প্রয়োজন পড়লো, চশমা পড়ে মায়োপিয়ায় আক্রান্ত আমার নয়ন জোড়া দেখল,

আর এক জোড়া নয়ন।

কাজলকালো ওই আঁখি জোড়ায় অবাক হয়ে বেশকিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে উপলব্ধি করলাম, গভীর রহস্যে ঘেরা ঐ নয়নজোড়া!

আর ছিল তেজ, নারীত্বের তেজ।

এত ভীষণ তেজ তবুও কি স্নিগ্ধ!

আমি মনমুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম।

ওর মুখটা অলৌকিক সৌন্দর্যে গড়া।

যেন স্রষ্টা তাঁর সকল সৌন্দর্য দিয়ে ওকে গড়ে তুলেছেন।

সমাজে প্রচলিত কথা, “নারী কখনো, নারীর প্রকৃত বন্ধু হয় না!”

কিন্তু ও বদলে দিলো সকল ধারণা।

মিথ্যা প্রমাণ করল সকল কথা।

আমার জীবনে ও এসেছে, যেমন অর্জুনের জীবনে এসেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ।

ও কখনো আমার সখী, কখনো আমার বোন, কখনো আমার মা, কখনো আমার গুরু হয়ে আমাকে বিপথে যাওয়া থেকে বাঁচায়।

আমার রক্ষক হয়ে থাকে আমার সাথে।

ও আমাকে নারীত্বের সৌন্দর্য উপলব্ধি করিয়েছে।

অর্জুন যেমন শ্রীকৃষ্ণের কাছে সব বিষয় জানাতেন, সব বিষয়ে পরামর্শ নিতেন।

তেমনি আমি ওর কাছে যাই।

আমি না বললেও ও বুঝে যায়, আমার সব কথা।

আমরা যেন নর-নারায়ণের এক প্রতীকী রূপ!

আমরা আজ এক আত্মায় যুক্ত দুটি প্রাণ।

একজন নারীর মানসপ্রিয়া আরেকজন নারী!

পরম পবিত্র বন্ধন আমাদের।

ওর মাঝে যেমন মাধুর্য আছে, তেমনি ওর নামও মাধুর্যে পরিপূর্ণ।

আমার জীবনে কৃষ্ণ হয়ে আসা, আমার মানসপ্রিয়া, “নির্যাস।”

লেখক: সাবেক সহ-সভাপতি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!