শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ক্যাম্পাস / নিবন্ধ

থার্টিন ব্যাচ, সংগ্রাম থেকে সাফল্যে।

Author

সেঁজুতি মুমু , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬ পাঠ: ৭৪ বার

থার্টিন ব্যাচ, সংগ্রাম থেকে সাফল্যে।

 

২রা মার্চ ২০২২ দিনটি ছিল নতুনত্বের দিন। আমরা ২০২০-২১ সেশনের ব্যাচ প্রথম সেদিন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী হিসেবে গিয়েছিলাম। ওইদিন ছিল আমাদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান। শিক্ষকরা, সিনিয়র ভাই আপুরা অনেক সুন্দর আয়োজন করে আমাদের বরণ করেছিলেন। সেদিন ভিসি স্যার, ডিন স্যার সবাই অনেক মুল্যবান বক্তব্য রেখেছিলেন। সেই ছিল আমাদের শুরু। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে সেদিন আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। চারটি বছর চোখের পলকেই যেন কেটে গেলো। ৩১শে মার্চ ২০২৬ এ মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে আমাদের স্নাতক যাত্রা সম্পূর্ণ হলো। এই চারটি বছর কত স্মৃতি, কত প্রাপ্তি সব আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল থাকবে। আজও মনে হয় এই সেদিন তো এসেছিলাম! এর মধ্যেই কি করে যেন সময় চলে গেলো! আসলে সময় বহমান, সময় নিজ গতিতেই চলছে। কিন্তু আমরা এই সময়ে এতটা মুগ্ধ হয়ে ছিলাম, যে এই সময়টা আমাদের কাছে অনেক কম মনে হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপের পর, প্রথম অনেক গুলো বিশ্ববিদ্যালয় মিলে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হয়েছিল। সেই সূত্রে আমরা এসেছি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমাদের ৭৫ একরের ক্যাম্পাস। চারটি বছর রোজ ক্লাস করা নিয়ে সি আর দের সাথে কত ঝামেলা করেছি, ক্লাসে অযথা কথা বলার জন্য শিক্ষকদের বকুনি শুনেছি, সারাদিন বন্ধু বান্ধবীদের সাথে কতই না খুনশুটি করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কুলের মতো ইউনিফর্ম পড়তে হয় না। প্রতিদিন সবাই বিভিন্ন ধরনের জামা কাপড় পড়ে আসি৷ এই বিষয়টা কি যে ভালো লাগে। এই পচাত্তর একরে চার বছরে অনেক অনেক স্মৃতি। সে গল্প শুরু করলে, এত তাড়াতাড়ি বলা শেষ হবে না। সবচেয়ে মজা হতো গ্রুপ প্রেজেন্টেশনে। শিক্ষকরা আমাদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে দিতেন। তারপর একদিন প্রেজেন্টেশন নিতেন। কম্পিটিশন দারুণ জমতো। এই প্রেজেন্টেশন এর প্রিপারেশন এর সময়, সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি একসাথে কাজ করতে কত যে ভালো লাগত! এসব আজ স্মৃতির ডায়েরিতে লেখা আছে, হৃদয়ের এলবামে সব ছবি রয়ে গেছে। আমাদের একটা যাত্রা শেষ হলো। তবে এখানেই সমাপ্তি নয়। সামনে জীবন যাত্রা পুরোটা রয়েছে। অনেক দূর যেতে হবে আমাদের। অনেকের চোখে অনেক স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পুরোন করতে আমাদের সবাইকে নিজেদের পথে ছুটতে হবে। এখন যেমন রোজ দেখা হয়, গল্প হয় তা আর হবে না৷ সবাই নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে। হয়ত বছরেও কথা হবে না কারো সাথে। কিন্তু এই স্মৃতিগুলো চিরকাল রয়ে যাবে আমাদের হৃদয়ে। চার বছরের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। বাংলা ভাষা যে এত মধুর, বাংলা সাহিত্যে যে এত গভীরতা আছে তা এই বিভাগে অধ্যয়ন না করলে বুঝতেই পারতাম না। অনেক কিছু শিখেছি আমরা। সামনে আরও অনেক কিছু শেখা বাকি। এই পথ এভাবে চলবে। সবাই যেন তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে সেই প্রার্থনাই করি। সেই ২রা মার্চ ২০২২ সালে যে যাত্রা আমরা শুরু করেছিলাম, ৩১ মার্চ ২০২৬ সালে সেই যাত্রার সমাপ্তি ঘটলো। দীর্ঘ পথ! এই পথের সকল সঙ্গীদের চিরকাল মনে থাকবে। আজকের এই শিক্ষার্থীরাই একদিন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্যতার সাক্ষর রাখবে। বলা হয় আনলাকি থার্টিন। আমাদের এই বাংলা ব্যাচটাও থার্টিন ব্যাচ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ তম ব্যাচ। করোনাভাইরাসের প্রকোপের পর আমাদের উত্থান। দীর্ঘ সময় আমাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে কেটেছে। তাই অনেকে আমাদের ব্যাচকে আনলাকি থার্টিন বলে ডাকে। কিন্তু আসলে আনলাকি নয়, অন্যতম হার্ডওয়ার্কিং ব্যাচ এই থার্টিন ব্যাচ। তাই যদিও আনলাকি হয়ে থাকি, তবুও আমরা আমাদের কর্মের গুণে সুদিন নিয়ে এসেছি। এখানেই আমাদের অর্জন।

 

 

লেখক: সাবেক সহ-সভাপতি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দৈনিক যুগান্তর। পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!