ইসলামের দৃষ্টিতে এআই কার্টুন
আদিয়াত উল্লাহ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ পাঠ: ২২ বার
ইসলামের দৃষ্টিতে এআই কার্টুন
আদিয়াত উল্লাহ
মানবজাতির সকল সমস্যার কার্যকর ও সঠিক সমাধান এবং সকল বিষয়ে যথাযথ বিধান আল কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। সকল অপরাধ ও ফিতনার বিষয়ে যথাযথ গুরুত্বারোপ করে এতে একেকটি অপরাধের জন্য পৃথক পৃথক বিধান, পরিণাম ও শাস্তি বর্ণিত হয়েছে। ইসলামে মানবদেহের যেকোনো অংশের আকৃতির বিকৃতি সাধনকে শয়তানের কাজের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং একে নিকৃষ্ট কাজ বলা হয়েছে। মানবদেহের যেকোনো অঙ্গের আকৃতি বিকৃতির নানান রকমফের রয়েছে। মানবদেহের যেকোনো অঙ্গের আকৃতি বিকৃতির বিরুদ্ধেই এ বিধান সমানভাবে প্রযোজ্য।
আজকের লেখায় ‘এআই দিয়ে ঘিবলি স্টাইল কার্টুন তৈরি’ নামে এমনই এক ধরনের বিকৃতি করার বিষয়ে আলোচনা করব এবং এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি, বিধান, পরিণাম ও শাস্তি সম্পর্কে আল কুরআন ও হাদীসের আলোকে আলোকপাত করার চেষ্টা করব ইন শা আল্লাহ।
মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সর্বোত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তাকে দিয়েছেন ভালো-খারাপ পার্থক্য করার বুদ্ধি – বিবেচনাবোধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি মানুষকে সর্বোত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি।” (সুরা তীন: ৪) এতদসত্ত্বেও আল্লাহর অবাধ্যতা, নাফরমানি ও আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক কাজের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হয়। মানবদেহের আকৃতির বিকৃতি সাধনও এর অন্তর্ভুক্ত।
মানবেতিহাসের প্রত্যেক যুগেই নানারকম পদ্ধতিতে নানা সুরতে মানবদেহের আকৃতি বিকৃত করার প্রথা প্রচলিত ছিল। প্রত্যেক নবীই এ জঘন্য বিকৃতি ও আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন ও কর্মধারা অব্যাহত রেখেছেন। ‘এআই দিয়ে ঘিবলি স্টাইল কার্টুন তৈরি’ মানবদেহের আকৃতির বিকৃতি সাধনের একটি অন্যতম প্রকারভেদ। এআই দিয়ে সহজেই এটি তৈরি করা যায় বলে সাম্প্রতিককালে এটি তরুণদের মাঝে মানবদেহের আকৃতি বিকৃত করে কার্টুন তৈরির ক্ষেত্রে দারুণ সাড়া ফেলেছে এবং অনেক মুসলিম তরুণ – তরুণী শখের বশে এটি ব্যবহার করে নিজের অজান্তেই আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন। শয়তানের সূক্ষ্ম ফাঁদে পা দিয়ে আল্লাহর ক্রোধের উদ্রেক ঘটাচ্ছেন। অথচ এর বিরুদ্ধে কুরআন ও হাদীসে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে এবং এতে জড়িত সকলের প্রতি অভিসম্পাত করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “আল্লাহ তাকে (শয়তান) অভিসম্পাত করেছেন, আর সে (শয়তান) বলেছে, “আমি অবশ্যই আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশকে (নিজের দলে) গ্ৰহণ করবই। আর আমি অবশ্যই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব এবং তাদের অন্তরে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করবই। আর আমি নিশ্চয়ই তাদেরকে নির্দেশ দেব, ফলে তারা পশুর কান ছিদ্র করবেই। আর আমি নিশ্চয়ই তাদেরকে নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবেই।” আর যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্ৰহণ করবে, সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে (শয়তান) তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে, আর শয়তান তাদেরকে ধোঁকা ছাড়া কোন প্রতিশ্রুতিই দেয় না। এরাই সেসব লোক, যাদের অবস্থান জাহান্নাম। আর তারা সেখান থেকে নিষ্কৃতি পাবে না।” (সুরা নিসা: ১১৮-১২১)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন ঐসব নারীর প্রতি, যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকন করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকন করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু – চুল উপড়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে।” (বুখারি:৪৮৮৬)
আব্দুল্লাহ (রা:) থেকে অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নারী উল্কি আঁকে, দাঁতে ফাঁক সৃষ্টি করে, এবং যে মুখের চুল (ভ্রু) তুলে ফেলে, আর এভাবে আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে, তাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।” (নাসায়ি:৫২৫৩) অধিকাংশ ফিকহবিদ ও আলেমদের মতে, আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি ঘটানো হারাম।
এআই দিয়ে ঘিবলি স্টাইল কার্টুন তৈরিও মানুষের দৈহিক অবয়বের একধরনের বিকৃতি। আর এধরনের বিকৃতি মূলত শয়তানপূজারীদের কাজ। এর ফলে প্রধানত কয়েকটি বড় ক্ষতি সাধিত হয়: ১. আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও অভিসম্পাত লাভ, ২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসন্তুষ্টি ও অভিসম্পাত লাভ, ৩. শয়তানের দলভুক্ত হওয়া, ৪. আখিরাতে জাহান্নামে বাসস্থান হওয়া, ৫. ভিন্ন জাতির বদ আকিদার অনুসরণ, ৬. ঈমান হারানো।
এআই দিয়ে ঘিবলি স্টাইল তৈরি আধুনিক যুগের নব্য ও ঈমান বিধ্বংসী এক ভয়ংকর ও সর্বগ্রাসী ফিতনা, যা থেকে সর্বস্তরের মুমিন মুসলিম ভাই বোনদের বেঁচে থাকা একান্ত কর্তব্য।
লেখক: আদিয়াত উল্লাহ,
শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কার্যনির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
লেখক: সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।