মানসিক স্বাস্থ্য সংকট: আমাদের কাঠামোগত নিষ্ঠুরতার দায়
মানসিক স্বাস্থ্য সংকট: আমাদের কাঠামোগত নিষ্ঠুরতার দায়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, সুস্বাস্থ্য মানে কেবল রোগমুক্ত শরীর নয়, বরং শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা। অথচ আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের কাঠামোতে এই সংজ্ঞার দ্বিতীয় অংশটি মানসিক সুস্থতা এখনো প্রায় অনুপস্থিত। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১৬.৮ শতাংশ এবং শিশুদের মধ্যে ১৩.৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এই হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।” আরও উদ্বেগজনক, আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ৯২.৩ শতাংশ এবং শিশুদের ৯৪.৫ শতাংশ কোনো চিকিৎসাই নেন না। এই বিশাল “ট্রিটমেন্ট গ্যাপ” কোনো দুর্ঘটনা নয় এটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতার ফল।
এই সংকট ক্যাম্পাসের করিডোর থেকে মফস্বলের অলিগলি, গ্রামের উঠান পর্যন্ত সমানভাবে বিস্তৃত। অথচ এ নিয়ে কথা বলা এখনো সমাজে এক ধরনের নিষিদ্ধ অঞ্চল।
শিক্ষার্থীদের উপর চাপ ও কাউন্সেলিং শূন্যতা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আজ পরিণত হয়েছে কেবল ফলাফলের কারখানায়। বৃত্তির চাপ, পারিবারিক প্রত্যাশা, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এই সব মিলিয়ে লাখো শিক্ষার্থী প্রতিদিন এক নীরব যুদ্ধ লড়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮.৭ শতাংশ বিষণ্নতার লক্ষণ বহন করছেন। অথচ দেশের অসংখ্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো কার্যকর কাউন্সেলিং সেল নেই, থাকলেও তা প্রায় নিষ্ক্রিয়। বন্ধুদের কাছে মন খুলতেও ভয় “মানসিক রোগী” তকমার আতঙ্ক সবসময় তাড়া করে।
ধরা যাক দেশের কোনো একটি সনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের একটি কক্ষে, রাত তখন প্রায় দুটো। অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের সামনে টেবিলে খোলা পড়ে আছে ম্যাক্রোইকোনমিক্সের নোট। কয়েক দিন পরই ফাইনাল পরীক্ষা, কিন্তু তিন ঘণ্টা ধরে একটা লাইনও এগোয়নি। মাস ছয়েক আগেও সে ছিল ক্লাসের সবচেয়ে সরব ছেলেদের একজন বিতর্কে অংশ নিত, সংগঠনের কাজে এগিয়ে থাকত। কিন্তু আজকাল ওর মধ্যে একটা অদ্ভুত, ভারী নীরবতা জমেছে। ক্যাম্পাসে কোনো কাউন্সেলিং ব্যবস্থা নেই, কার কাছে যাবে সে জানে না। তাই সে প্রতি রাতে একাই লড়ে যায়, কাউকে কিছু না বলে।
এই ছেলেটি একা নয়। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালে সারাদেশে ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন—যা ২০২৪ সালের ৩১০ জনের তুলনায় এক আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি। এর পেছনে সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হতাশা ও অভিমান; যার সাথে যুক্ত পারিবারিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা। এই সংখ্যাগুলো কোনো বিমূর্ত পরিসংখ্যান নয় এটি একটি সম্ভাব্য পরিণতির পূর্বাভাস।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচিত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত একজন প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর নিয়োগ আবশ্যিক করা এবং বার্ষিক অডিটের মাধ্যমে তা যাচাই করা। একই সাথে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকেও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি, যাতে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নিজের আবেগীয় পরিবর্তনগুলোকে চিনতে শেখে।
কলঙ্কের দেয়াল: যে নীরবতা মেরে ফেলে
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে ঘিরে সমাজের যে লজ্জা ও কলঙ্কবোধ (stigma) তৈরি হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বড় শত্রু। ২০২৫ সালে BMC Psychiatry-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে মানুষ চিকিৎসা না নেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ সামাজিক কলঙ্কের ভয় “পাগল” বা “মানসিক রোগী” তকমা পাওয়ার ভয়ে মানুষ নীরবে কষ্ট বহন করতে বেছে নেন। এই stigma শুধু শহরে নয়, গ্রামে আরও তীব্র। সেখানে মানসিক সমস্যাকে এখনো অনেক জায়গায় “জিনে ধরা” বা “আল্লাহর গজব” বলে ব্যাখ্যা করা হয়, এবং চিকিৎসার বদলে ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। গবেষণা বলছে, চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ প্রথমে একজন ঐতিহ্যগত চিকিৎসকের কাছে যান, এরপর কোনো সাধারণ চিকিৎসকের কাছে যান ৩১ শতাংশ, আর মাত্র ২১ শতাংশ সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে পৌঁছান।
এই কলঙ্কবোধ ভাঙতে না পারলে কোনো কাঠামোগত সংস্কারই কাজে আসবে না। মানুষকে আগে বোঝাতে হবে যে মানসিক অসুস্থতা শরীরের যেকোনো রোগের মতোই একটি স্বাস্থ্য সমস্যা এতে লজ্জার কিছু নেই, দুর্বলতার চিহ্ন নেই।
বেকারত্ব, সামাজিক গ্লানি ও অচেনা বিষণ্নতা
কর্মসংস্থান সংকট শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি একটি গভীর মানসিক সংকটও। বারবার ব্যর্থতার পর পরিবার ও সমাজের চোখে “অকর্মণ্য” হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা একজন তরুণকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা এই যন্ত্রণাকে সে নিজেই চেনে না। কারণ তার চারপাশে কেউ কখনো “বিষণ্নতা” শব্দটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়নি।
রংপুরের এক মফস্বল শহরে বসে আছে আটাশ বছর বয়সী এক যুবক। অনার্স শেষ করেছে তিন বছর আগে, তারপর থেকে শুধু চাকরির পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে বিসিএস, ব্যাংক, এনজিও। প্রতিটা ব্যর্থতার পর বাবার মুখের দিকে তাকাতে পারে না। প্রতিবেশীরা দেখা হলেই জিজ্ঞেস করে, “এখনো চাকরি হলো না?” প্রশ্নটা যেন প্রতিদিন একটু একটু করে তাকে ফাঁপা করে দিচ্ছে। সে এখন আর বন্ধুদের আড্ডায় যায় না, ফেসবুকে কারো চাকরির পোস্ট দেখলে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এটাকে সে “অলসতা” বা “ব্যর্থতা” বলেই ভাবে কখনো ভাবে না এটা হতে পারে বিষণ্নতার লক্ষণ।
এখানে সমাধান শুরু হতে হবে কমিউনিটি পর্যায় থেকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ চিকিৎসকদের প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্য শনাক্তকরণ প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে কুসংস্কার দূর করতে হবে।
নারীর মানসিক কষ্ট: যে যন্ত্রণার নাম নেই
সমাজে নারীর মানসিক কষ্টের কোনো স্বীকৃতি নেই। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে বিষণ্নতার হার পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে বেশি পুরুষের ৩.৬ শতাংশের বিপরীতে নারীর মধ্যে ৫.১ শতাংশ। প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় ভোগেন ২২ শতাংশ নতুন মা। তবু সংসার, সন্তান, কর্মক্ষেত্র সব একসাথে সামলানো নারীর ক্লান্তি বা বিষণ্নতাকে গণ্য করা হয় “অকৃতজ্ঞতা” হিসেবে। “তোমার তো সবই আছে, আর কী চাই” এই একটি বাক্যে হাজারো নারীর কষ্ট চাপা পড়ে যায়।
সিরাজগঞ্জের একটা মাঝারি আয়ের সংসারে চল্লিশ ছুঁইছুঁই এক স্কুলশিক্ষিকা, যিনি দুই সন্তানের মা। সকালে ওঠেন সবার আগে, রাতে ঘুমান সবার পরে। কয়েক মাস ধরে তার মধ্যে এক অদ্ভুত ক্লান্তি জমেছে, কোনোকিছুতেই আর আগের মতো আগ্রহ পান না, মাঝেমধ্যে কারণ ছাড়াই কান্না পায়। কিন্তু এটা নিয়ে কারো সাথে কথা বলার উপায় নেই। স্বামীকে বললে শুনতে হয়, “তোমার তো সবই আছে, আর কী চাই!” সমাজে “মায়েদের মন খারাপ” বলে কিছু হয় না।
এর সমাধান নীতির চেয়েও বেশি সাংস্কৃতিক। গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রচারণায় নারীর মানসিক স্বাস্থ্যকেও স্বাভাবিক আলোচনার অংশ করে তুলতে হবে। জাতীয় হটলাইন ও টেলিমেডিসিন সেবাকে এমনভাবে প্রচার করতে হবে যেন যেকোনো মানুষ গোপনীয়তা বজায় রেখে ঘরে বসেই প্রাথমিক পরামর্শ নিতে পারেন।
কাঠামোগত ব্যর্থতা ও রাষ্ট্রের দায়
এই তিনটি সংকটের মূলে রয়েছে একটিই কারণ মানসিক স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রের চরম উদাসীনতা। Cambridge Core-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা জানাচ্ছে, বাংলাদেশের মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ০.৪৪ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যে বরাদ্দ হয়। এই বরাদ্দের আবার ৬৭ শতাংশই চলে যায় শুধু মানসিক হাসপাতাল পরিচালনায়, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবায় খরচ হয় সামান্যই। তুলনায় WHO-র ২০২৪ সালের তথ্য বলছে, বৈশ্বিক গড় বরাদ্দও মাত্র ২ শতাংশ অর্থাৎ আমরা সেই দুর্বল বৈশ্বিক গড়েরও অনেক নিচে আছি।
জনবলের ঘাটতি আরও ভয়াবহ। বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা মাত্র ০.১৬ থেকে ০.২১ জন—এবং এই সীমিত বিশেষজ্ঞদের ৬৫ শতাংশই কাজ করেন শুধু ঢাকায়। অর্থাৎ গ্রামীণ ও মফস্বল জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়া কার্যত অসম্ভব।
উন্নত বিশ্ব কী করছে, আমরা কী শিখতে পারি?
এই সংকট মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। তবে সেই মডেলগুলো হুবহু অনুকরণ নয়, বরং আমাদের বাস্তবতায় অভিযোজন করে প্রয়োগ করার সুযোগ আছে।
যুক্তরাজ্যের NHS ২০০৮ সালে চালু করে “Improving Access to Psychological Therapies” বা IAPT কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে ১০ হাজারের বেশি থেরাপিস্ট প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামানো হয়, এবং সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে ঘরের কাছেই কাউন্সেলিং পান। ফলাফল চমকপ্রদ চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ৫০ শতাংশের বেশি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন এবং ৭ জনের মধ্যে প্রায় ৫ জনের উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। নরওয়ে একটু ভিন্নপথে হেঁটেছে সেখানে “Prompt Mental Health Care” নামের কর্মসূচিতে যেকেউ নিজে নিজেই সেবার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাড়া দেওয়া বাধ্যতামূলক। জার্মানিতে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্র, আর ইতালিতে ২০২৩-২৪ সাল থেকে স্কুল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি মনোবিদের সেবা চালু হয়েছে।
এসব মডেল থেকে বাংলাদেশের জন্য যে শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো বিশেষজ্ঞের অভাব থাকলেও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ দিয়ে সেবার নাগাল বাড়ানো সম্ভব। আমাদের দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে একই কাজ করা যায়। মোবাইল ফোনের ব্যাপক প্রসারকে কাজে লাগিয়ে টেলি-কাউন্সেলিং সেবা চালু করাও এখন বাস্তবসম্মত অনেক দেশে এটি সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
তবে এটাও স্বীকার করতে হবে, উন্নত দেশের মডেল সরাসরি রপ্তান্তি করা সম্ভব নয়। আমাদের সাংস্কৃতিক বাস্তবতা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং পারিবারিক কাঠামো ভিন্ন। তাই সমাধান হতে হবে স্থানীয়ভাবে তৈরি, গবেষণাসমর্থিত এবং সমাজের মূল্যবোধের সাথে সংগতিপূর্ণ।
জাতীয় বাজেটে মানসিক স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ অবিলম্বে বাড়াতে হবে। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে অন্তত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৮ সালের মানসিক স্বাস্থ্য আইনের প্রকৃত বাস্তবায়ন করতে হবে। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থেরাপি ও ওষুধের মূল্য নিশ্চিতে রাষ্ট্রকে ভর্তুকি দিতে হবে। শ্রম আইনে “মেন্টাল হেলথ লিভ” এর আইনি স্বীকৃতিও এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল হতে হবে মানসিক অবক্ষয়কে রোমান্টিকীকরণ বা কৌতুকের পাত্র না বানিয়ে সচেতনতার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে হবে।
আমাদের নিজেদের দায়
পরিবর্তনটা শুরু হতে হবে আমাদের নিজেদের চেনা চত্বর থেকেও। আপনার পাশের সহপাঠী, বন্ধু বা সহকর্মীর আচরণে যদি হঠাৎ পরিবর্তন দেখেন হঠাৎ নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, খিটখিটে মেজাজ বা স্বাভাবিক কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা তবে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। বিচারকের আসনে না বসে সহমর্মী শ্রোতা হোন। আপনার একটি আন্তরিক প্রশ্ন “আমি কি তোমাকে কোনো সাহায্য করতে পারি?” হয়তো একটি জীবনকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার। লাখো মানুষ যখন নীরবে এই যুদ্ধ লড়ে যাচ্ছেন, তখন রাষ্ট্র ও সমাজের নীরবতা আর চলতে পারে না। আমরা যদি একটি মানসিকভাবে পঙ্গু ও হতাশাগ্রস্ত প্রজন্ম তৈরি হতে দিতে না চাই, তবে এখনই এই নীরব সংকট নিয়ে জোরালো প্রাতিষ্ঠানিক আওয়াজ তুলতে হবে। আসুন, আজই কথা বলি কারণ আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি সুস্থ, সংবেদনশীল ও সহমর্মী জাতি গড়ে তুলতে।
