একটি অভিজ্ঞতা ও আমার আহ্বান
সড়ক পথের তুলনায় যাত্রা বেশি স্বস্তিদায়ক বলে আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার সময় অধিকাংশ সময়ই আমি রেলপথ ব্যবহার করি। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলস্টেশনে যাবার পথে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে রেলের ইঞ্জিন পরিবর্তন করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের এই যাত্রা বিরতির সময় যাত্রীরা হালকা নাস্তা সেরে নেন। এখানে হরেক রকমের খাদ্য, ফলমূল ও হরেক রকমের পণ্য বিক্রয় করা হয়। একদিন যাত্রাপথে আমি কোহিনূর বেকারির দুই প্যাকেট পাউরুটি কিনি। সেটা খাবার পরে হঠাৎ পেটে ব্যাথা অনুভব করি। এরপর হঠাৎ সেই পাউরুটির প্যাকেটে আমার চোখ পড়ে। তাতে দেখি কেবলমাত্র পাউরুটি তৈরির প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা দেওয়া আছে। আমি তাতে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ খুঁজেও পাইনি। এর কিছুদিন আগে ভোক্তা অধিকার ও খাদ্যে ভেজাল নিয়ে কাজ করে ‘কনজুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং শিখেছিলাম কোনো পণ্যের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ কিংবা খুচরা মূল্য উল্লেখ না থাকলে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ অনুসারে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এর সাজা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা ১ বছরের কারাদন্ড অথবা উভয়দন্ড হতে পারে। এরপর আমি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ইমেইল nccc@dncrp.gov.bd ঠিকানায় আমার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, অভিযোগের বিবরণ, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা এবং পাউরুটির মোড়কের একটি ছবি সংযুক্ত করে পাঠায়। অভিযোগ দায়ের করার পরে শুনানির জন্য আমাকে ও সেই অভিযুক্ত বেকারির মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে উপস্থিত হতে বলা হয়। শুনানি চলাকালে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক তার অপরাধ স্বীকার করে নেন এবং পরবর্তীতে এইরকম না হবার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন। পাবনা জেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তাকে সতর্ক করে নাম মাত্র ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ মোতাবেক আমাকে সেই অর্থদন্ডের ২৫ শতাংশ ১ হাজার টাকা প্রদান করেন। এরপর থেকে শুধু সেই বেকারি নয়; বরং পাবনা জেলার সকল বেকারি কোম্পানি পাউরুটি কিংবা কেকের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, খুচরা মূল্য উল্লেখ করে। আমার একটি অভিযোগের ফলে যদি পুরো পাবনা জেলার চিত্র পরিবর্তন হতে পারে, আমাদের শিক্ষিত সমাজের একটু সচেতনতা পুরো দেশের চিত্র বদলে দিতে পারে। আসুন আমরা নিজেদের জায়গা থেকে সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি এবং স্লোগন তুলি “নিরাপদ খাদ্যের দেশ, হবেই মোদের বাংলাদেশ”।
