বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

খাদ্যে ভেজাল ও ভোক্তা অধিকার সচেতনে সিওয়াইবি

Author

আখতার হোসেন আজাদ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯ পাঠ: ৪৩ বার

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য প্রয়োজনীয় হলেও এই খাদ্যই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে যদি না সেই খাদ্য নির্ভেজাল হয়। পুষ্টিমান সম্মত খাদ্য দেহের ক্ষুধানিবারণ, ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধনের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় উপাদান। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। ভেজাল খাদ্য দেশে মহামারীতে রূপ নিয়েছে। তার চেয়ে আরও দুঃখজনক ব্যাপার যে, অশিক্ষিত মানুষ তো বটেই শিক্ষিত সমাজের বড় একটি অংশ খাদ্যে ভেজাল সম্পর্কে অতটা সচেতন নয়। আমাদের দেশে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য প্রায় সকল খাবারই ক্রয়সাধ্যের মধ্যেই পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রকারের কাবাব থেকে শুরু করে চাইনিজ ফুড, থাই ফুড সব কিছুই হাতের নাগালে, চাইলেই বাজার থেকে কিনতে পাওয়া যায়। আবার বিভিন্ন রকমের ফলেও আমাদের দেশের বাজার সমৃদ্ধ। কিন্তু সমস্যা একটিই। নিরাপদ খাদ্যের অভাব। সরকার খাদ্যে ভেজাল রোধ করার জন্য নানা সময়েই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার ২০০৯ সালে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’, ২০১৩ সালে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ প্রনয়ণ করে। আইনগুলোতে বিভিন্ন অপরাধের ধরণ অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ আইন অনুযায়ী কোনো ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত হলে যদি তিনি অভিযোগ করেন এবং তা প্রমাণ হলে অভিযোগকারী মোট অর্থদন্ডের ২৫ শতাংশ নিজে পাবেন। কিন্তু একটি অবাককর বিষয় এই যে, শিক্ষিত সমাজেরও সিংহভাগ মানুষ জানে না এইসব আইনের বিস্তারিত। ফলে খাদ্যে ভেজাল বা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘিত হলে প্রতিকার পান না। কনসার্স কনজুমার সোসাইটির (সিসিএস) যুব সংগঠন কনজুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি) এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার আইন ও নিরাপদ খাদ্য আইনের ভিত্তিতে সভা, সেমিনার, কর্মশালা, র‌্যালি ও হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সচেতন করে চলেছে সংগঠনটি। এছাড়াও ক্যাম্পাসের হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান ও দাম এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করতে কনজুমার ইয়ুথের সদস্যবৃন্দ। মাত্র কিছুদিন আগে এই সংগঠনের সভাপতি পলাশ মাহমুদ বিএসটিআইয়ের পণ্যের মান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পণ্যসমূহ কেন বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হবে না শীর্ষক একটি রিট করেন হাইকোর্টে। তারই ফলশ্রুতিতে সরকার বাজার থেকে সেই ৫২ টি পণ্য প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নিয়েছে। সম্প্রতি পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি বেকারির পাউরুটি কিনে তাতে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও খুচরা মূল্য উল্লেখ না থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী কনজুমার ইয়ুথের সহায়তায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরাবর অভিযোগ করে। পরে শুনানিতে বেকারির মালিক অভিযোগ স্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে এমনটি না হবার প্রতিশ্রুতি দিলে নামমাত্র ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ মোতাবেক জরিমানার ২৫ শতাংশ ১ হাজার টাকা সেই শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হয়। তারপর থেকে শুধু সেই কোম্পানি নয়, পাবনার অন্যান্য বেকারিগুলোও পাউরুটির প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও খুচরা মূল্য উল্লেখ শুরু করে। এই সংগঠনের সদস্যরা কেবল নিজেরাই এই বিষয়ে ধারণা নিয়ে ক্ষান্ত থাকেনা; বরং ক্যাম্পাস ছুটি হলে গ্রামের বাড়িতে যেয়ে পরিবারের সদস্যদের, এলাকার বন্ধুদের, স্থানীয় দোকানিদের সচেতন করে থাকে। ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘিত হলে, যেমন কোনো পন্যের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও খুচরা মূল্য উল্লেখ না থাকা; পণ্যের মোড়কে উল্লেখিত মূল্যের বেশি অর্থ দাবী করা; মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় করাসহ কোনো কিছুতে অসঙ্গতি লক্ষ্য করলে সেই দোকান থেকে পণ্য ক্রয়ের রশিদ সংগ্রহ করে nccc@dncrp.gov.bd ঠিকানায় অভিযোগকারীর নাম, ঠিকানা, অভিযোগের বিবরণ, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও পণ্য ক্রয়ের রশিদ সংযুক্ত করে ইমেইলের মাধ্যমে যেকোনো বয়সের ভোক্তা অভিযোগ করতে পারেন। এছাড়াও নিকটস্থ জাতীয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে যেয়েও অভিযোগ দায়ের করা যাবে। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। আমাদের সকলের সচেতনতায় পারে নিরাপদ খাদ্যের দেশ গড়তে।

লেখক: প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১২ জুন ২০১৯ তারিখে দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত।
প্রকাশিত: দৈনিক বাংলাদেশের খবর
Paper Cutting
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।