উপস্থিতির নম্বর : যোগ্যতার কতটা ন্যায্য মানদণ্ড
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নাকি তরুণদের আত্মউন্নয়নের শ্রেষ্ঠ ও স্বর্ণসময়; অথচ সেই স্বর্ণসময়কেই আজ বেঁধে রাখা হচ্ছে উপস্থিতির খাতায়। নিজেকে গড়ে তোলা, বাইরের জ্ঞান অর্জন, বই পড়া কিংবা নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশের এই সময়টুকু যদি সারাদিন শ্রেণিকক্ষের গণ্ডিতে কাটাতে হয়, তবে স্কুলজীবন ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্বাতন্ত্র্যই বা কোথায়?
উপস্থিতির গুরুত্ব থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য আলাদা নম্বর দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক ফলাফলকে প্রভাবিত করা কতটা যৌক্তিক? তাই এই ব্যবস্থাটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। একজন শিক্ষার্থীও একজন মানুষ; জীবনের যেকোনো সময়ে অসুস্থতা, পারিবারিক সংকট, স্বজনের মৃত্যু কিংবা বড় অস্ত্রোপচারের মতো অনিবার্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন। এসব কারণে অনুপস্থিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো মানবিক বিবেচনা ছাড়াই নম্বর কেটে নেওয়া হয়। লিখিত আবেদন করেও কোনো নম্বর পাওয়া যায় না। অথচ অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা শিক্ষার্থীও শুধু এই নম্বরের কারণে পিছিয়ে পড়েন। এতে কি তার প্রকৃত যোগ্যতার ন্যায্য মূল্যায়ন হচ্ছে?
বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার্থীও থাকেন, যাদের কেউ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, কেউ নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই বহন করেন; আবার কেউ নানা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলে পড়াশোনা চালিয়ে যান। সবার বাস্তবতা ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও একই উপস্থিতির মানদণ্ডে সবাইকে বিচার করা কতটা ন্যায্য?
শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত রাখা নয়; বরং শিক্ষার্থীকে জ্ঞানী, দক্ষ ও আত্মনির্ভর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধিকার নেই একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে উপস্থিতির খাতায় বন্দি করে রাখার। তাই শিক্ষার্থীর মেধা ও অর্জনকে প্রাধান্য দিয়ে উপস্থিতির নম্বরের এই ব্যবস্থা বাতিল করে প্রকৃত জ্ঞান ও যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। কারণ উপস্থিতির নম্বর কখনো একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতার ন্যায্য মাপকাঠি হতে পারে না।
