শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সূতিকাগার 

Author

মুহাম্মাদ যায়েদ আব্দুল্লাহ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাঠ: ২৯ বার

শিক্ষাজীবনে বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য এক পরম আশ্রয়স্থল। নিজ বাড়ির ঘোর মায়া কাটিয়ে উচ্চ শিক্ষার সময়টুকু হলকেই আপন বাড়ির স্থলাভিষিক্ত করেন শিক্ষার্থীরা। হাসি-কান্না, দুঃখ-বেদনা ও উন্নতি-অগ্রগতির দুষ্টু মিষ্টি গল্পগুলোর সাক্ষী হয় হলের রঙহীন দেয়াল ও জানালার ভাঙা কাচগুলো। অগণিত নির্ঘুম রাত ও বন্ধু-আড্ডায় কাটানো বিকেলগুলো স্মৃতির পাতায় লেপ্টে থাকে আজীবন। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল তেমনই একটি নাম। এক শতকেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এ হলটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল; ঐশ্বর্য ও প্রকৃতির সুবাশিত মিলনের এক অপরূপ কেন্দ্রস্থল। বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, ভৌগলিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী এ হল। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল তার শিক্ষার্থীদের অনুভব করায় প্রকৃত বাংলাদেশের ইতিহাস। এ হলের প্রাচীনত্ব মনে করিয়ে দেয় আদী বাংলার ঐতিহাসিক তাৎপর্য। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকে পাঠ করতঃ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ঝলক দেখে নেওয়া যায়। এসএম হল নিজেই যেন স্বতন্ত্র এক বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন তিনটি হলের অন্যতম সলিমুল্লাহ মুসলিম হল। পূর্ব বাংলায় শিক্ষা বিস্তার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বঙ্গভঙ্গ রদের পর তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান। তাঁর এই অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে এবং স্মরণীয় করে রাখতে হলের নামকরণ করা হয় তাঁর নামে।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময় কিছুদিনের জন্য শুধুমাত্র ‘সলিমুল্লাহ হল’ নাম ধারণ করলেও ঐতিহ্যবাহী ‘সলিমুল্লাহ মুসলিম হল’ নামটিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। সংক্ষেপে “এসএম হল”। তবে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর জনশ্রুতি হলো এর অপর নাম ‘জামাই হল’! মেধাবী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এই হলটিতে পুরান ঢাকার ধনী পরিবারগুলো আসতো শিক্ষিত পাত্রের খোঁজে, আর তা থেকেই এই অদ্ভুত ও মিষ্টি নামের উৎপত্তি।

 

প্রাথমিক অবস্থায় এটি বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভবনের দোতলার একটি নির্দিষ্ট অংশে ছিলো। নাম ছিলো ‘সেক্রেটারিয়েট মুসলিম হল’। অধ্যাপক আহমেদ ফজলুর রহমান ছিলেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রথম প্রভোস্ট। দুজন গৃহশিক্ষকের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ এবং ধর্মীয় নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

 

পরবর্তীতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯২৫ সালে হলটি ‘রমনা হাউজে’ সরিয়ে নেওয়া হয়। ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুব্যবস্থা করতে ১৯২৫-২৬ মেয়াদে গঠিত হয় ‘মুসলিম হল বিল্ডিং কমিটি’। ১৯২৭ সালে বেঙ্গল সরকার হল ভবনের জন্য ২ লাখ টাকা তহবিল প্রদান করলে স্থপতি গওয়াইথর (Gwyther)-এর নকশায় ভবন স্থাপনার কার্যক্রম শুরু হয়। তৎকালীন সাড়ে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে অনন্য এ স্থাপনাটি নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানি’।

 

এরপর ১৯২৯ সালের ২২ আগস্ট তৎকালীন ছোট লাট গভর্নর স্যার স্ট্যানলি জ্যাকসন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ঠিকাদার মেসার্স মার্টিন অ্যান্ড কো.-এর তত্ত্বাবধানে ভবনটির কার্যক্রম শেষ ১৯৩১-৩২ শিক্ষাবর্ষে। ১৯৩১ সালের ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর স্যার স্ট্যানলি জ্যাকসন বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে সলিমুল্লাহ হলের বর্তমান নিজস্ব ভবনটির শুভ উদ্বোধন করেন।

দ্বিতলবিশিষ্ট হলটি মুঘল ও ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর এক সুসমন্বিত রূপ হলেও বৃটিশ কারুকার্য প্রাধান্য পেয়েছে এর নকশায়। প্রাসাদসম এ ভবনের চারিদিক সবুজ প্রকৃতিতে ঘেরা। বিশাল প্রধান ফটক পেরিয়ে খানিক হাটার দুরত্বে সুবিশাল দৃষ্টিনন্দন হলুদ গম্বুজ সম্বলিত প্রবেশদ্বার। পথচারীদের দৃষ্টি এড়ায় না ভবনটির নান্দনিকতা, নির্মাণ রীতি ও অলংকারশৈলী।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সলিমুল্লাহ মুসলিম হলটি ১২.৯১ একর ভূমির ওপর গড়ে উঠেছে। পূর্ত বিভাগের স্থপতি গেইথারের মূল নকশায় ভবনটির নির্মাণকাজ পরিচালিত হয়, যা সরাসরি তদারকি করেন ডি. জে. ব্লুমফিল্ড এবং এ. এফ. এল. এইচ. হ্যারিসন।

 

দেড় লাখ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই দোতলা ভবনটি মোট চারটি শাখায় বিভক্ত। হলের ১৮০টি কক্ষের মধ্যে ১৫২টি কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে শিক্ষার্থীদের আবাসন হিসেবে। পুরো ভবনের মাঝখানে অবস্থান করছে একটি আয়তাকার উঠোন, যা উত্তর-দক্ষিণমুখী হাঁটার রাস্তা দিয়ে বিভক্ত। ভবনের সম্মুখভাগের বারান্দাগুলো এই বাগানের দিকে মুখ করে নির্মিত।

 

দক্ষিণ শাখার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বারে রয়েছে তিনটি পয়েন্টযুক্ত খিলান। তোরণটির দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি বর্গাকার টাওয়ারের শীর্ষে শোভা পাচ্ছে হলুদ টাইলসে মোড়ানো কন্দাকার গম্বুজ।

ভবনটির কক্ষ নম্বর বণ্টনে দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী বিন্যাস। পাশাপাশি ক্রমিক নম্বর ব্যবহারের সাধারণ নিয়মের বদলে এখানে নিচতলায় বিজোড় এবং তার ঠিক ওপরের তলায় জোড় নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, নিচতলার ১১ নম্বর ঘরের ঠিক ওপরের কক্ষটি হলো ১২ নম্বর।

 

সম্পূর্ণ হল চত্বরের চারপাশের বেষ্টনী জুড়ে রয়েছে ৭৫ হাজার বর্গফুটের একটি সুদৃশ্য ফুলের বাগান। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় ডান দিকে (দক্ষিণ পাশে) চোখে পড়ে ১৫ ফুট উঁচু হলুদ রঙের একটি মিনার। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী হলের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৩ সালে এটি নির্মাণ করা হয়।

 

বুদ্ধিবৃত্তিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তিই ছিল পূর্ব বাংলার জ্ঞান ও চিন্তাচর্চার বিকাশ ঘটানো, যার কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ হলে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার স্ফুরণ ঘটেছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা, নাটক, সংগীত, ক্রীড়া এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছিল এসএম হল। সে সময়ে বাঙালি মুসলমান সমাজের শিল্প ও সাহিত্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে এই হলটি গন্য হতো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সুভাষচন্দ্র বসু এবং লর্ড লিটনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের পদচারণায় ধন্য হয়েছে এসএম হলের ঐতিহাসিক ডাইনিং টেবিল। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি কায়কোবাদ, প্রফুল্লচন্দ্র রায় এবং ফিলিপ জোসেফ হার্টগের মতো পথপ্রদর্শকদের এই হল ইউনিয়নের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়েছিল।

 

রাজনৈতিক চেতনা ও ইতিহাস সৃষ্টিকারী আন্দোলন

স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের চেতনা তৈরিতে এই হলের অবদান অত্যন্ত গভীর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ফজলুল হক হলের পাশাপাশি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকে কেন্দ্র করেই পূর্ব বাংলায় ছাত্ররাজনীতির নবযাত্রার সূচনা হয়। রাজনীতিবিদদের বড় বড় জমায়েত ও গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে এ হলের প্রাঙ্গণ। দেশভাগের পর মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো প্রবীণ নেতারা হলে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে সভা-সমাবেশে মিলিত হতেন।  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদা এ হলের অনাবাসিক ছাত্র ছিলেন। তাছাড়া, ১৯৪৮ সালে হলের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

 

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান

 ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে এই হলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল সক্রিয় ও চোখে পড়ার মতো। পরবর্তীতে ষাটের দশকের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ হল অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করে। স্বাধীনতা অর্জনের চরম লড়াইয়ে হলের মোট ১৮ জন ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী শহীদ হন। প্রথম অর্ধশতক ধরে এসএম হল এভাবেই এই অঞ্চলের সমাজ পরিবর্তন এবং সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে এক গৌরবোজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে টিকে রয়েছে।

 

শিক্ষার্থী রাজনীতি ও প্রকাশনার সূচনা

১৯২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকে ঘিরে গঠিত হয় ‘মুসলিম হল ইউনিয়ন কমিটি’। এই ছাত্র ইউনিয়নের কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ছিল সাহিত্য শাখাটি। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয় হলের প্রথম হস্তলিখিত পত্রিকা ‘পতাকা’, যেখানে সৃজনশীল লেখার পাশাপাশি হলের নানা সমস্যার চিত্র তুলে ধরা হতো। পরবর্তীতে হল থেকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার সুসমন্বয়ে দ্বিভাষিক ‘মুসলিম হল ম্যাগাজিন’ প্রকাশিত হতে থাকে। এমনকি হলের সাহিত্য সম্পাদকের বিশেষ অনুরোধে ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে প্রকাশিত ম্যাগাজিনে রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ‘আহ্বান’ কবিতাটি মুদ্রিত হয়েছিল।

 

বিতর্কচর্চা ও প্রগতিশীল চিন্তাধারা

এসএম হলে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম বিতর্ক সংগঠন ‘আল মামুন ক্লাব’। যার নামকরণ করা হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসে ৭ম আব্বাসীয় খলিফা আল মামুনের নামে। শুধু তাই নয়, তৎকালীন বাঙালি মুসলিম সমাজকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের সূচনাও হয়েছিল এখান থেকেই। এই আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি হলের ডাইনিং রুমে প্রতিষ্ঠিত হয় বিখ্যাত ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। এই সংগঠনের যাবতীয় মূল কার্যক্রম এবং তাদের বার্ষিক মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকার দাপ্তরিক ঠিকানা উভয়ই ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হল।

 

এছাড়া, ২৪-এর জুলাই আন্দোলনেও এ হলের শিক্ষার্থীরা অসামান্য অবদান ও ত্যাগ স্বীকার করেছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রতিটি গৌরবময় ইতিহাসের দন্ডায়মান সাক্ষী এসএম হল। এর প্রতিটি ইট-পাথরে ইতিহাসের ধ্বনি গুঞ্জনরত। দেশের তরে নিজকে বিলিয়ে দিতে, দেশের ঐতিহ্যের পুর্ণার্থ অনুধাবন করাতে এসএম হল তার শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করে। সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিঘেরা প্রাসাদসম হলটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিরব সাক্ষী হিসেবে আজও দাড়িয়ে আছে। দেশবরেণ্য ছাত্রদের এ আবাসস্থল স্থায়ী থাকুক আরো সহস্রকাল। বাংলাদেশ নামক ঐতিহ্যপূর্ণ সবুজ ভুমির ইতিহাস পাঠের দেয়ালগুলো সাক্ষী হোক অগণিত নতুন সূর্যোদয়ের।

 

লেখক: সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।