শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

বিহারি: দেশভাগের সীমানা পেরিয়ে যে মানুষেরা থেমে গেলেন বাংলাদেশে

Author

মাসফিকুল হাসান , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পাঠ: ২৮ বার

 

 

একটি ঘর। ছোট্ট একটি ঘরের ভেতর কয়েক প্রজন্মের সংসার। রান্না, ঘুম, পড়াশোনা—সবকিছুর জায়গা সেই একই ঘর। বাইরে সরু গলি। গলির মুখে ছোট দোকান। কোথাও কাপড়ের কাজ, কোথাও সেলাই, কোথাও চায়ের দোকান। কথাবার্তায় বাংলা ও উর্দুর মিশ্রণ। ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের মতো এমন অনেক বসতি বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে আছে। সেখানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি শব্দ—‘বিহারি’।

 

এই পরিচয়ের পেছনে শুধু একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস নেই। আছে ভারতবর্ষের দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, দেশান্তর, পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পর নাগরিকত্বের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার ইতিহাস। আজকের বাংলাদেশের যে মানুষদের আমরা ‘বিহারি’ নামে চিনি, তাঁদের গল্প আসলে তিন দেশের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে—ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।

 

‘বিহারি’ শব্দটি শুনলে ভারতের বিহার রাজ্যের কথা মনে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে প্রচলিত অর্থে বিহারি বলতে মূলত ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় এবং পরবর্তী সময়ে ভারত থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসা উর্দুভাষী মুসলমানদের বোঝানো হয়। তাঁদের বড় একটি অংশ এসেছিলেন বিহার থেকে। তবে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশসহ উত্তর ভারতের অন্য অঞ্চল থেকেও অনেকে এসেছিলেন। ফলে ‘বিহারি’ পরিচয়টি ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর উর্দুভাষী অভিবাসী পরিচয়ে পরিণত হয়।

 

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তখন উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও মানুষের স্থানান্তর শুরু হয়। বিহারও সেই সহিংসতার বাইরে ছিল না। নিরাপত্তাহীনতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানকে নিজেদের নিরাপদ আবাস হিসেবে দেখার মানসিকতা—এসব কারণে বিপুলসংখ্যক মুসলমান বিহারসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাকিস্তানের দুই অংশের দিকে চলে যেতে থাকেন।

 

তবে তাঁদের বড় অংশ পশ্চিম পাকিস্তানের বদলে চলে আসেন পূর্ব পাকিস্তানে। গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৪৭-৪৮ সালে আসাম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে যাওয়া মুসলিম অভিবাসীদের প্রায় ৯৬ শতাংশই পূর্ব বাংলায় এসেছিলেন; খুব অল্প অংশ গিয়েছিলেন করাচিতে। অর্থাৎ, আজকের বাংলাদেশের ‘বিহারি’ জনগোষ্ঠীর ইতিহাসের বড় অংশ শুরু হয়েছিল দেশভাগের পরপরই।

 

কারও কাছে এটি ছিল নিরাপত্তার প্রশ্ন, কারও কাছে নতুন রাষ্ট্রের স্বপ্ন, আবার কারও কাছে ছিল জীবিকা ও ভবিষ্যতের সন্ধান। পূর্ব পাকিস্তানে তখন নতুন প্রশাসন ও শিল্পব্যবস্থা গড়ে উঠছিল। দেশভাগের পর বহু হিন্দু পরিবার পূর্ব বাংলা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ায় প্রশাসন, রেলওয়ে, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা উর্দুভাষী মুসলমানদের একটি অংশ সেই শূন্যস্থান পূরণে যুক্ত হন। তাঁদের অনেকে রেলওয়ে, কলকারখানা, সরকারি-বেসরকারি চাকরি, ব্যবসা ও কারিগরি পেশায় কাজ শুরু করেন।

 

ফলে তাঁদের জীবন শুধু শরণার্থী শিবিরের জীবন ছিল না। দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতি ও নগরজীবনে তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন।

কিন্তু ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করে। একদিকে বাঙালির ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকারের আন্দোলন, অন্যদিকে উর্দুভাষী অভিবাসীদের একটি অংশের পাকিস্তানি রাষ্ট্রকেন্দ্রিক পরিচয়—দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে।

 

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাংলাদেশে ‘বিহারি’ নামে পরিচিত সবাই বিহার থেকে আসেননি। দেশভাগের পর ভারত থেকে পূর্ব পাকিস্তানে আসা উর্দুভাষী মানুষের বড় অংশ বিহার থেকে এলেও পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও মানুষ এসেছিলেন। স্থানীয় বাঙালিদের কাছে তাঁদের অনেকেই সামগ্রিকভাবে ‘বিহারি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাঁদের ভাষা ছিল প্রধানত উর্দু। পোশাক, খাবার, সামাজিক রীতিনীতি ও সংস্কৃতিতেও ছিল ভিন্নতা। কিন্তু কয়েক দশকের বসবাসে এই জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের জন্ম ও বেড়ে ওঠা হয়েছে এই ভূখণ্ডেই। তাই তাঁদের পরিচয়ের প্রশ্নটি শুধু ‘কোথা থেকে এসেছিলেন’—এতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশ্নটি দাঁড়িয়েছে—‘কোথায় তাঁদের বাড়ি?’

 

বিহারি জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে ১৯৭১ সাল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় উর্দুভাষী বিহারি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কিছু বিহারির সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে। একই সঙ্গে এটিও সত্য যে পুরো বিহারি জনগোষ্ঠীকে একই রাজনৈতিক অবস্থানের মানুষ হিসেবে দেখা ইতিহাসকে অতিরিক্ত সরল করে ফেলে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং যুদ্ধের পর বিহারি জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ সহিংসতার শিকার হন। তাঁদের ঘরবাড়ি ও সম্পদের ওপর হামলা হয়, অনেকে বাস্তুচ্যুত হন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের প্রশ্নটি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

 

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এর পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু মানুষ বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেলেও উর্দুভাষী বিহারিদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশেই থেকে যায়। তখন তাঁদের অনেকেই নিজেদের পাকিস্তানি হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং পাকিস্তানে চলে যেতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশেও তাঁদের রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়ে গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে জন্ম নেয় একটি নতুন পরিচয়—‘স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানিজ’ বা আটকে পড়া পাকিস্তানি।

 

স্বাধীনতার পরপরই অনেক বিহারি পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন। ১৯৭৩ সালের পরবর্তী সময় এবং ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার প্রেক্ষাপটে একটি অংশকে পাকিস্তানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে চলে যান। কিন্তু সবাই যেতে পারেননি। কেউ অর্থনৈতিক কারণে, কেউ সুযোগের অভাবে, আবার কেউ পারিবারিক ও বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশেই থেকে যান। যাঁরা থেকে গেলেন, তাঁদের বড় একটি অংশ বসবাস শুরু করেন বিভিন্ন ক্যাম্পে। শুরুতে এসব বসতি ছিল অস্থায়ী বলে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু অস্থায়ী ঠিকানাই বহু পরিবারের স্থায়ী জীবনের ঠিকানা হয়ে গেল।

 

ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প বাংলাদেশের বিহারি জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে পরিচিত বসতিগুলোর একটি। ১৯৭১ সালের পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি বা আইসিআরসির সহায়তায় বিভিন্ন শহরে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর জন্য ক্যাম্প গড়ে ওঠে। জেনেভা ক্যাম্পও সেই ইতিহাসের অংশ। কিন্তু বিহারিদের জীবন শুধু জেনেভা ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণা ও বিভিন্ন জরিপে ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, রাজবাড়ী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের বসতির কথা পাওয়া যায়। একটি গবেষণায় ১৩টি জেলার ৭০টি ক্যাম্পে উর্দুভাষী বিহারি জনগোষ্ঠীর বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকায় জেনেভা ক্যাম্প ছাড়াও মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের বসতি রয়েছে। চট্টগ্রামের হালিশহর, খুলনা, যশোর, রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনাতেও তাঁদের বিভিন্ন বসতি ও কলোনির উল্লেখ পাওয়া যায়।

 

ক্যাম্পের ভেতরে জীবন অনেক সময় জায়গার সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প। একটি ছোট ঘরে বাবা-মা, সন্তান, কখনো নাতি-নাতনিসহ কয়েক প্রজন্মের বসবাস। একই জায়গায় রান্না, ঘুম ও সংসারের অন্যান্য কাজ। জায়গার সংকটের কারণে ঘর অনেক ক্ষেত্রে ওপরের দিকে বাড়ানো হয়েছে। তবে এই জনগোষ্ঠীর জীবনকে শুধু দারিদ্র্য বা ক্যাম্পের গল্প দিয়ে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাংলা ভাষায় কথা বলেন, বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের কাছে পাকিস্তান অনেক সময় পারিবারিক ইতিহাসের অংশ; বাস্তব জীবনের দেশ বাংলাদেশ। এখানেই প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয়ের পরিবর্তন ঘটেছে।

যে মানুষ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁর নাতি হয়তো আজ নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবেই ভাবেন।

 

দীর্ঘ সময় ধরে বিহারি জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক ছিল। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের হাইকোর্ট উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নাগরিকত্বের অধিকার স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পথও উন্মুক্ত হয়।

এই রায়ের ফলে ‘তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক কি না’—এই দীর্ঘ বিতর্কের একটি বড় আইনি সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু নাগরিকত্বের স্বীকৃতি আর বাস্তব জীবনের সমতা—দুটি এক বিষয় নয়। অনেক ক্যাম্পে এখনো আবাসন, পানি, পয়োনিষ্কাশন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকটের কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

 

বিহার আজ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। সেখানে বিহারি মুসলমানরা নিজেদের স্থানীয় সমাজেরই অংশ। দেশভাগের সময় যে মানুষদের একটি অংশ পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষদের অনেকের শিকড় সেই বিহারেই। অন্যদিকে পাকিস্তানের করাচিতেও রয়েছে বড় উর্দুভাষী বিহারি জনগোষ্ঠী। দেশভাগের পর এবং ১৯৭১ সালের পর বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বিহারিদের একটি অংশ করাচির বিভিন্ন এলাকায় বসতি গড়ে। ওরাঙ্গি টাউন, কোরাঙ্গি, মুসা কলোনি ও বিহার কলোনির মতো এলাকায় তাঁদের উপস্থিতির ইতিহাস রয়েছে।

অর্থাৎ একই পরিবারের ইতিহাস কখনো ভারত থেকে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান—আবার কারও ক্ষেত্রে বাংলাদেশেই থেমে গেছে। একটি সীমান্ত তাঁদের জীবনের ঠিকানা বদলে দিয়েছে। আবার আরেকটি যুদ্ধ সেই ঠিকানাকেও অনিশ্চিত করেছে। তাহলে তাঁরা কার? এই প্রশ্নটির সহজ উত্তর নেই। যাঁর জন্ম বিহারে, তাঁর কাছে বিহার হয়তো পূর্বপুরুষের স্মৃতি। যাঁর জন্ম পাকিস্তানে, তাঁর কাছে পাকিস্তান হতে পারে শৈশবের দেশ। আর যাঁর জন্ম ঢাকার জেনেভা ক্যাম্পে, তাঁর কাছে বাংলাদেশই জন্মভূমি।

 

পরিচয় কখনো শুধু ভাষা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। নাগরিকত্ব শুধু কাগজের বিষয় নয়। মানুষের জীবনে জন্মস্থান, বেড়ে ওঠা, স্মৃতি, পরিবার ও ভবিষ্যৎ—সব মিলেই তৈরি হয় পরিচয়।বাংলাদেশের বিহারি জনগোষ্ঠীর গল্প তাই শুধু ‘দেশভাগে আসা মানুষের গল্প’ নয়। এটি একটি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ অভিযোজনের গল্প।

 

১৯৪৭ সালের দেশভাগ তাঁদের পূর্বপুরুষদের ভিটা বদলে দিয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তাঁদের অনেককে আবার নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করায়। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক তাঁরা নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছেন। ২০০৮ সালে আইনি স্বীকৃতি এসেছে। এখন তাঁদের নতুন প্রজন্মের সামনে প্রশ্নটি অন্য রকম। তারা আর কোথায় যাবে—এই প্রশ্ন নয়। বরং তারা যে দেশে জন্মেছে, সেই দেশে কতটা সমান সুযোগ নিয়ে বাঁচতে পারবে—সেটিই বড় প্রশ্ন। ইতিহাসের বিচার ইতিহাসবিদেরা করবেন। ১৯৪৭ বা ১৯৭১-এর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলবে। কিন্তু কোনো জনগোষ্ঠীর বর্তমান প্রজন্মকে কেবল তাদের পূর্বপুরুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়ে বিচার করা কতটা ন্যায়সংগত—সেই প্রশ্নও আমাদের ভাবতে হবে। কারণ একটি শিশুর জন্মের আগে তার পরিবার কোন দেশের পক্ষে ছিল, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার ছিল না।

 

আজ বাংলাদেশের শহরগুলোর কোনো একটি সরু গলিতে উর্দুতে কথা বলা শিশুটি হয়তো জানেই না, তার দাদা কোথা থেকে এসেছিলেন। তার কাছে স্কুল, বন্ধু, খেলার মাঠ, ঈদের আনন্দ, পরীক্ষার ফল—এসবই বাস্তব। তার জন্মের সঙ্গে দেশভাগের কোনো সম্পর্ক নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও সে ছিল না।

তার কাছে বাংলাদেশই তার পৃথিবী। তাই বিহার থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ যাত্রার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়তো ‘তাঁরা কোথা থেকে এসেছিলেন’ নয়। প্রশ্নটা হলো—এত বছর পর তাঁরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন, আর আমরা তাঁদের কোথায় দাঁড় করিয়ে রেখেছি?

 

 

মাসফিকুল হাসান

লেখক ও শিক্ষার্থী

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

লেখক: সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।