বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মনোভাব বাড়াতে ‘Breathe with us stress management workshop’

Author

উম্মে সালমা , চট্টগ্রাম কলেজ

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৫ পাঠ: ১৫৩ বার

শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মনোভাব বাড়াতে সম্প্রতি চট্টগ্রাম কলেজে অনুষ্ঠিত হয় ‘Breathe with us stress management workshop’ শীর্ষক একটি কর্মশালা। মনোকর্ণ ও অঙকুরণ কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রফেসর শুভ্রতা বিকাশ বড়ুয়াসহ সাইকোলজিস্ট তোফা হাকিম ও পঞ্চনন আচার্য।

কর্মশালায় অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্ট্রেস কমাতে বা নিয়ন্ত্রণ রাখতে আমাদের সব সময় হাসি-খুশি থাকতে হবে। সব সময় মনকে সতেজ শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। তাহলেই আমাদের স্ট্রেস কমানো সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে এই কর্মশালাটি খুবই উপকারী হবে বলে আমি মনে করি।

সাইকোলজিস্ট তোফা হাকিম বলেন, স্ট্রেস আপেক্ষিক একটি বিষয়। স্ট্রেস ভালো না আবার খারাপও না, বলা যায় স্বাভাবিক। তবে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ রাখতে এর নানা কলাকৌশল আমাদের রপ্ত করতে হবে। যাতে আমাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে পারি। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ রাখার ক্ষেত্রে শরীর চর্চার কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে, মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিসে যে কোনো সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পাশাপাশি এর নিয়মিত চর্চায় মস্তিষ্কের কাঠামোয় পরিবর্তন ঘটে। ওয়ার্কিং মেমরি, যার সাহায্যে আমরা তথ্য মনে রাখি ও বিশ্লেষণ করি, তার উন্নতি ঘটে। এমনকি এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের পড়ার চাপ, পরীক্ষার চাপ, খরচের চাপ এসব দূর করতে অবশ্যই স্ট্রেসকে নিয়ন্ত্রণ রাখা খুবই জরুরি।

তিনি আরো বলেন, স্ট্রেসকে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসতে হবে। যখন আমরা শরীর চর্চা করি তখন আমাদের মনোযোগ বারবার ছুটে যায়। ফলে সেই মনোযোগ আবার নিজের আয়ত্তে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হয়। যেন আমরা স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আগে স্ট্রেস সম্পর্কে ভালোভাবে জানা জরুরি। যেমন- স্ট্রেস কি বা তার ধাপগুলো কি কি।

সাইকোলজিস্ট পঞ্চনন আচার্য্য বলেন, আজকের ব্যস্ত জীবনে সকাল থেকে রাত অবধি স্ট্রেস বয়ে বেড়াতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্ট্রেস লেভেলও অনেক বেড়ে যায়। কখনো কাজের চাপে, কখনো চাকরির সমস্যা, কখনো সাংসারিক জীবনে অশান্তি, কখনো পড়াশুনা রেজাল্ট ভালো না হওয়া, কখনো অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়ার ভয়, এই সমস্ত কারণগুলো থেকে। কোনো কোনো সময় এই চাপ নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে এটি স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই মুহূর্তে ফিরে আসা, নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগ ফিরিয়ে আনা, সচেতনভাবে নিঃশ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া জরুরি।

সাইকোলজিস্ট দ্বয় বলেন, আমাদের স্ট্রেস সৃষ্টিকারী উপাদানগুলো শনাক্ত করতে হবে। যেমন- কাজের ক্ষেত্রে স্ট্রেস সৃষ্টিকারী উপাদান হলো অনির্দিষ্ট চাহিদা, কম পাওয়া ইত্যাদি। স্ট্রেসের সময় দেহ যেন খুব দ্রুত সামলে নিতে ক্রিয়াশীল হয় তার চর্চা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থিত হতে বড় করে শ্বাস নেওয়ার যে পদ্ধতি বহুল প্রচলিত তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। সঠিক সময়ে খাওয়া, ব্যায়াম করা এবং ঘুম দারুণ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। দেহ-মন সুস্থ থাকলে সহজেই স্ট্রেসের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। গোটা বিষয়টি ইতিবাচক আচরণের মধ্য দিয়ে আয়ত্ত করা যায়।

ইতিবাচক মানসিকতাকে কাজে পরিণত করার অভ্যাস স্ট্রেস দূর করবে। কোন কাজগুলো জীবনের বিশেষ অংশের উন্নতিসাধন করে এবং যথেষ্ট ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে তা শনাক্ত করুন। এগুলোর চর্চা অব্যাহত রাখুন।

সাইক্লোজিস্ট দ্বয়ের মতামত থেকে আমরা এ কথা বুঝতে পারলাম, প্রাণোচ্ছল থাকতে পারে এমন দীর্ঘমেয়াদি কাজ হাতে নেওয়া দরকার। মেডিটেশন, লেখালেখি, ব্যায়াম ইত্যাদি এসব কাজ তালিকায় আসতে পারে। এর মাধ্যমে স্ট্রেস থেকে মুক্ত থাকা যায়। শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মনোভাব বাড়াতে এই ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্কশপ খুবই ভালো একটি উদ্যোগ।

লেখক: সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৮ মে ২০২৫ তারিখে প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!