বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ফিচার / নিবন্ধ

প্রকৃতির পাঠশালায় শিক্ষার্থীরা

Author

মোঃ রবিউস সানি জোহা , Islamic University

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৬০ বার

শ্রেণিকক্ষের চার দেয়াল ছেড়ে প্রকৃতির বিস্তীর্ণ ক্যানভাসে জ্ঞান অন্বেষণের এক অনন্য অভিযাত্রায় অংশ নেয় এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফী  বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচ (দিগদর্শী – ০৬) এর শিক্ষার্থীরা। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, রাতারগুল জলাবন, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, জাফলং, সাদা পাথর ও ভোলাগঞ্জ—এই বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে পরিচালিত ফিল্ড ওয়ার্ক ছিল একদিকে যেমন শিক্ষামূলক, তেমনি পরিবেশ সচেতনতা তৈরির এক বাস্তব অনুশীলন।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ট্রপিক্যাল চিরসবুজ বনভূমির জীববৈচিত্র্য, বনভূমির স্তরবিন্যাস, মাটির গুণাগুণ ও মানব-পরিবেশ আন্তঃসম্পর্ক সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়াও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে প্রায় ৫ কি.মি পর্যন্ত রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক ও নন বায়োডিগ্রেডেবল দ্রব্য কুড়িয়ে সেগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে (ডাস্টবিনে) ফেলে দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন – এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফী বিভাগের চেয়ারম্যান আনিসুল কবির এবং একই বিভাগের সহকারি  অধ্যাপক বিপুল রায়। তাদের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পরিবেশের সচেতনতা বৃদ্ধিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সম্পন্ন করেন।

উল্লেখ্য যে, ৪ দিনের ফিল্ড ওয়ার্ক এর জন্য ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সিলেটের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় এবং সেখানে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দর্শন শেষে শিক্ষার্থীরা মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান। সেখানে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, জলপ্রবাহের গতিবিদ্যা, ক্ষয় ও অবক্ষেপণ প্রক্রিয়া নিয়ে হাতে-কলমে বিশ্লেষণ করা হয়। সেইসাথে ৩য় দিনে জাফলং ও সাদা পাথর অঞ্চলে শিক্ষার্থীরা শিলার প্রকৃতি, নদীর বহমানতা, বালু-পাথর আহরণজনিত পরিবেশগত প্রভাব এবং সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান। বিশেষ করে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরের বিস্তৃত প্রান্তর শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরে প্লাবনভূমি, নদী-নির্ভর ভূদৃশ্য ও ভূতাত্ত্বিক গঠনের বাস্তব রূপ।
এই ফিল্ড ওয়ার্কে শিক্ষকরা তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব উদাহরণের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেন, যা শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীরাও তথ্য সংগ্রহ, নোট গ্রহণ, পরিবেশ বিশ্লেষণ ও দলগত কাজের মাধ্যমে একাডেমিক দক্ষতার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এছাড়াও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান এবং চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন শিক্ষার্থীরা। লালা খাল ছিল এই ভ্রমণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। লালা খাল যেন পাহাড়ের বুক ছুঁয়ে নেমে আসা এক নীল কবিতা।স্বচ্ছ জলের তলায় পাথরের হাসি,দু’পাশে সবুজের নীরব প্রহর
যেখানে স্রোত কথা বলে ধীরে, আর প্রকৃতি লিখে যায় নিজের গল্প – জলের রেখায়, আলোর ভাষায়।
নদীর প্রবাহরীতি, পানি ও মৃত্তিকার গুণগত মান, পার্শ্ববর্তী ভূমি ব্যবহার – সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা পরিবেশগত বিশ্লেষণের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

প্রকৃতির বুকেই যে প্রকৃত শিক্ষা—এই উপলব্ধি আরও দৃঢ় হয় এই ফিল্ড ওয়ার্কের মাধ্যমে। জিওগ্রাফি ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের এই উদ্যোগ শুধু পাঠ্যক্রমের অংশই নয় বরং ভবিষ্যৎ পরিবেশবিদ ও ভূগোলবিদ তৈরির পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

লেখক – মোঃ রবিউস সানি জোহা
শিক্ষার্থী, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড জিওগ্রাফী বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!