ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাগামহীন বাণিজ্য বন্ধ হোক

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে রোগ নির্ণয় বা ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো এখন সেবার চেয়ে আভিজাত্যের প্রতিযোগিতায় বেশি মত্ত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ আর দামী আসবাবপত্রের খরচ উসুল করা হচ্ছে রোগীর পকেট থেকে। সরকারিভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারের নির্ধারিত মূল্য তালিকার তোয়াক্কা না করে রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে চিকিৎসার পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও যথাযথ তদারকির অভাবে একশ্রেণির অসাধু চিকিৎসক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে গোপন ‘কমিশন সিন্ডিকেট’ স্বাস্থ্যসেবাকে মুনাফা লোটার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে। রোগীর অসুস্থতাকে পুঁজি করে বাড়তি অর্থ আদায় করা কেবল অনৈতিক নয়, এটি চরম অমানবিকতা এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন। চিকিৎসা খাতের এই নৈরাজ্য বন্ধ করতে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ঝটিকা অভিযানের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার মাধ্যমে এই অনিয়ম ও সিন্ডিকেট কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
লেখক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে আজকালের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত।

