গ্রন্থাগার বাড়াতে হবে

মানুষের মননের বিকাশে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই পড়ার মাধ্যমে আমাদের চিন্তাচেতনার পরিধি বিস্তৃত হয়, নতুন নতুন জিনিসের সাথে আমরা পরিচিত হই।
কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই বই পড়ায় তেমন আগ্রহী নন। আমরা বই পড়া বলতে বুঝি শুধু একাডেমিক পড়াশোনা। এর বাইরে অন্য কোনো বই পড়াকে আমাদের সমাজে সময়ের অপচয় হিসেবে ধরা হয়। এর ফলে আমরা দিনদিন মানসিক বিকাশের দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি।
২০২৪ সালে CEO World নামে একটি আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, বই পড়ার দিক দিয়ে বিশ্বের ১০২ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭ তম। গড়ে একজন বাংলাদেশী বছরে প্রায় ২.৭৫ টি বই পড়েন এবং মাত্র ৬২ ঘণ্টা সময় বই পড়ে কাটান। বইয়ের সাথে আমাদের এই বিচ্ছিন্নতা খুবই আশঙ্কাজনক একটি ব্যাপার।
এই সমস্যা দূরীকরণের অন্যতম একটি উপায় হতে পারে লাইব্রেরি। দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলায় সরকারি গণগ্রন্থাগার রয়েছে। কিন্তু তা সমগ্র জাতির মননের বিকাশে যথেষ্ট নয়। এখন প্রয়োজন প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি সরকারি গণগ্রন্থাগার স্থাপন। এতে একদিকে যেমন মানুষের বই পড়ার আগ্রহ ও সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, তেমনি লাইব্রেরির দেখভালের জন্য লোকবল প্রয়োজন হওয়ায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।
নিজ উপজেলায় একটি সুন্দর পাবলিক লাইব্রেরি থাকলে কৌতূহলবশত হয়েও অনেক মানুষ, বিশেষত কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা, সেখানে যাবেন। এতে রাতারাতি পাঠক তৈরি না হলেও বইয়ের সাথে মানুষের সংস্পর্শ বৃদ্ধি পাবে, যা আস্তে আস্তে তাদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তুলবে।
এছাড়া, এলাকায় একটি পাবলিক লাইব্রেরি থাকলে মানুষের জন্য তা একটি রুচিশীল চিত্তবিনোদনের জায়গাও হবে। বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটানোর জন্য লাইব্রেরি হতে পারে একটি সুন্দর জায়গা। ঘরে বসে সময় না কাটলে মানুষ চলে যেতে পারে লাইব্রেরিতে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য একটি নিরিবিলি জায়গা হতে পারে লাইব্রেরি। এছাড়া যারা টাকার অভাবে বা পরিবারের অসম্মতির কারণে তাদের পছন্দের বইগুলো কিনতে পারেন না, তারা লাইব্রেরি থেকে সেই বইগুলো বিনামূল্যে পড়ে ফেলতে পারবেন।
সর্বোপরি, প্রতিটি উপজেলায় একটি সুন্দর গণগ্রন্থাগার স্থাপন সবদিক দিয়েই হবে উপকারী। জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলতে লাইব্রেরির বিকল্প নেই। তাই এই কাজে সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
