বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

নতুন বছরে বদলানোর দায়িত্ব আমাদেরই

Author

মোঃ রবিউস সানি জোহা , Islamic University

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৭৮ বার

বছর পেরিয়ে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি নতুন এক সময়ের দোরগোড়ায়। নতুন বছরের আগমন মানেই শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যাওয়া নয়; এটি আমাদের সামনে এনে দেয় নতুন করে ভাবনার সুযোগ, নিজেদের ঠিক – ভুল যাচাই করার মুহূর্ত এবং আগামী দিনের পথ নতুন করে নির্ধারণ করার এক ঐতিহাসিক সময়। ২০২৬ সেই অর্থেই কেবল একটি সাল নয়; এটি একটি সম্ভাবনার নাম।
বর্ষবরণের এই মুহূর্তে আমরা যখন একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাই তখন শান্তি, সাফল্য ও সমৃদ্ধির কথা বলি। কিন্তু এই শব্দগুলো যেন কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছায় সীমাবদ্ধ না থাকে। এগুলো হোক আমাদের চিন্তা, নীতি ও কর্মের বাস্তব ভিত্তি। কারণ একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি পরিমাপ হয় শুধু অর্থনৈতিক সূচকে নয় বরং মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও সামাজিক সহনশীলতার মানদণ্ডে।
২০২৬ আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব প্রশ্ন নিয়ে- আমরা কি কেবল সময়ের সাথে বদলাবো নাকি সময়কে বদলানোর দায়িত্ব নেবো? এই প্রশ্নের উত্তর কোনো একক গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের হাতে নেই। এর উত্তর নিহিত আছে প্রতিটি নাগরিকের মনোভাব, সিদ্ধান্ত ও অংশগ্রহণের ভেতর।
নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা হওয়া উচিত এমন একটি সমাজ, যেখানে মানুষ নিরাপদ বোধ করবে-মত প্রকাশে, চিন্তায় ও বিশ্বাসে। ভিন্নমত থাকবে কিন্তু বিদ্বেষ থাকবে না। মতের পার্থক্য বিভাজনের দেয়াল তৈরি করবে না বরং সংলাপ ও বোঝাপড়ার পথ খুলে দেবে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মতবিরোধ অস্বাভাবিক নয়; বরং তা প্রয়োজনীয়। তবে সেই মতবিরোধ যদি ঘৃণার ভাষায় রূপ নেয়, তবে তা সমাজকে এগিয়ে নেয় না বরং ভিতর থেকে ক্ষয় করে।
বর্ষবরণের এই সময়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিও আমাদের প্রত্যাশা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। ন্যায়বিচার যেন কেবল আইন বা ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; তা প্রতিফলিত হোক নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে। মানবিকতা ও সহনশীলতা হোক রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি। ক্ষমতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়; ভয় বা দমনের হাতিয়ার হিসেবে নয়।
নতুন বছর আমাদের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও তোলে- আমাদের লক্ষ্য কি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য? ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও স্বাচ্ছন্দ্য অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু এর পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সত্যের পক্ষে কথা বলা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা কি আমাদের অগ্রাধিকার নয়? একজন নাগরিকের দায়িত্ব কেবল নিজের ভবিষ্যৎ গড়ায় সীমাবদ্ধ থাকলে সমাজ কখনো টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না।
ইতিহাস আমাদের শেখায়- মানুষ বদলালে সমাজ বদলায়। পরিবর্তন কখনো হঠাৎ আসে না। তা আসে সচেতন চিন্তা, দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে। হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তা কোনো নতুন বছরের প্রতিশ্রুতি হতে পারে না বরং নতুন বছর মানেই নতুন আশা, নতুন সাহস এবং নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার।

তাই ২০২৬ হোক এমন এক বছর, যেখানে বিভাজনের বদলে ঐক্য পথ দেখাবে, অন্ধ অনুকরণের বদলে চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে। সামাজিক উত্তেজনার বদলে যুক্তি, বিদ্বেষের বদলে সহনশীলতা এবং নীরবতার বদলে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ-এই হোক নতুন বছরের অঙ্গীকার। পরিবর্তনের দায় অন্য কারও নয়, এই দায় আমাদেরই। কারণ রাষ্ট্র বদলায় ব্যক্তি দিয়ে, আর ব্যক্তি বদলায় নিজের ভেতরকার উপলব্ধি দিয়ে। বর্ষবরণের এই মুহূর্তে সেটিই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
নতুন বছর ২০২৬ আমাদের সামনে খুলে দিক একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও আশাবাদী ভবিষ্যতের পথ-এই কামনাই হোক বছরের প্রথম প্রতিশ্রুতি।

লেখক – মোঃ রবিউস সানি জোহা
শিক্ষার্থী, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড জিওগ্রাফী বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!