বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

শিক্ষক সফলতার এক অনন্য কারিগর

Author

উম্মে সালমা , চট্টগ্রাম কলেজ

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫ পাঠ: ১৪৩ বার

শিক্ষক হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি অন্ধকারে আলোর দিশা দেখান। ছোট্ট শিশুকে স্কুলে প্রথম পাঠ শেখানো থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি আমাদের পাশে থেকে শিক্ষা দিয়ে যান। তিনি জ্ঞান বিতরণ করেন, নতুন দিগন্তের সন্ধান দেন এবং নৈতিক মূল্যবোধের বীজ বপন করেন। প্রকৃতপক্ষে, শিক্ষকের ভূমিকা আমাদের চারপাশের সমাজের প্রতিটি স্তরেই বিরাট প্রভাব ফেলে। একজন শিক্ষক সমাজের মানুষদের কেবল শিক্ষিত করেন না, বরং তাদের মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করেন।

শিক্ষক মা-বাবার সমতুল্য। আর সেই শিক্ষক যদি হয় বন্ধুত্বপূর্ণ তবে সম্পর্কটা আমরা সত্যিই মা-বাবার সমতুল্য বলতে পারি। কারণ প্রত্যেক মা-বাবা সন্তানের বন্ধুর মতো। তেমনি শিক্ষক আমাদের মাঝে সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জড়িয়ে রেখেছেন। বলছি দেশের স্বনামধন্যচট্টগ্রাম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক প্রভাষক শ্রদ্ধেয় ইফতেখারুল ইসলাম স্যারের কথা। স্যার যতটা মিশুক, ততটাই বন্ধুত্বপূর্ণ একজন মানুষ। স্যারের সাথে কথা বললে মনে হয় কখন সময়টা পার হয়ে গেছে আমরা নিজেরাও টের পায়না। স্যার এমনভাবে আমাদের মাঝে নিজেকে উপস্থাপন করেন, আমরা কখনো বুঝতেই পারিনা ভয় কি জিনিস তা, মনোমুগ্ধকর ভাবে স্যারের প্রতিটি কথা শুনি। স্যারের কাছে ক্লাসে পড়ার সময়ও বুঝতে পারতাম, স্যার আমাদের বেস্ট টিচার। স্যারের প্রতিটি কথা, প্রতিটি পড়া বুঝানোর ধরন প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পড়া বুঝতে আরো সহজ করে তোলে।

স্যার আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে নিজের সফলতা নিজেকেই অর্জন করতে হয়। কিভাবে একটা কঠিন বিষয়কে সহজ করে বুঝে নিতে হয়। কিভাবে বই পড়া আমাদের জন্য ভীতি না হয় মজার হয়। কিভাবে কোন বিষয়টি পড়লে তা আরো সহজভাবে বুঝে নিতে সাহায্য করে। স্যারের প্রতিটি কথা সহজ করে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা ছিল প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে। স্যার প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে এমনভাবে সফলতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও নিজেদের স্বপ্ন পূরণে পিছপা হওয়ার কথা ভাবেন না। অনেক শিক্ষার্থী অকালে হাল ছেড়ে দেয় নিজেদের, পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে। কিন্তু স্যারের প্রতিটি মোটিভেশনাল কথায় সেই ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরাও আনন্দে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং সফল হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের মাঝে অনন্য এক আদর্শ শিক্ষক ইফতেখার স্যার।

জীবনের একটা অধ্যায়ে এসে আমরা এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ি, স্কুল-কলেজ থেকে চলে গেলে তাদের ভুলে যায়। সেই মুহূর্তগুলো হারিয়ে ফেলি ব্যস্ততার ভিড়ে। কিন্তু যখন সেই মুহূর্তটা আবার ফিরে পাওয়া হয় প্রিয় স্যারের সাথে তবে মনে হয় জীবনের অজস্র না পাওয়া, হারিয়ে ফেলা দিনগুলো ফিরে পেয়েছি। লেখক সম্মেলনের দাওয়াত দিতেই স্যারের সাথে দেখা। স্যারের সাথে বরাবরই যখনই কথা হয় মন খুলে কথা বলেন। এমন একটা দিন স্যারের সাথে আড্ডা জমিয়ে বুঝতে পারলাম স্যার নিজেও আনন্দিত এমন মন খোলা আড্ডায়। হাসি-খুশিতে ভরে যাওয়া অনন্য এক মুহূর্ত। অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার আপনার ব্যস্ততার ভিড়ে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। সবাইকে নিয়ে একসাথে খাওয়ার জন্য। আবারও সেই পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।

আমাদের প্রত্যেকের উচিত, ব্যস্ততার মাঝেও নিজেদের সময় দেওয়া। ফিরে যাওয়া সেই সোনালি দিনগুলোতে, নিজেদের প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটাতে। তা হোক পরিবারের সাথে, হোক বন্ধুত্বের কিংবা প্রিয় শিক্ষকের সাথে। মা-বাবা আমাদের প্রথম শিক্ষক কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকরা হলেন আমাদের সফলতার অনন্য কারিগর।

লেখক: সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!