কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ মহাসড়ক এর সংস্কার চাই

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য একমাত্র নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা হচ্ছে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক। এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় – যা প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাতায়াতের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়া শহর ২৪ কিলোমিটার দূরে, আর ঝিনাইদহ শহর ২২ কিলোমিটার। ফলে এই দুই শহরের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অনিবার্য দৈনন্দিন বাস্তবতা। কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বর্তমান চিত্র যেন কোনো বিচ্ছিন্ন দূর্ঘটনার পরিণতি নয় বরং বছরের পর বছর ব্যবস্থাপনার অবহেলার ফল। জানা যায়, প্রতিটি মিনিটে প্রায় ৪০টি ভারী যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সড়কের ওপর চাপ অনেক বেশি। অথচ সেই চাপ বিবেচনায় নিয়ে সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের চেষ্টা চোখে পড়ে না। ফলে মহাসড়কের পুরো অংশজুড়ে খানাখন্দের ছড়াছড়ি। একাধিক স্থানে বিটুমিনের আস্তর উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খাদ, যা অতি সহজেই দুর্ঘটনার ফাঁদ তৈরি করে। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর থেকে মধুপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাটি এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে অপরদিকে ঝিনাইদহ সড়কেরও বেহাল দশা। প্রতিটি গাড়ি ধীরে ধীরে এগোতে বাধ্য । আর যাত্রীদের সহ্য করতে হয় অসহনীয় ঝাঁকুনি। এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি শুধু সময় নষ্টই করছে না বরং বাড়িয়ে দিচ্ছে জীবনঝুঁকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোগীসহ সাধারণ যাত্রীরা প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে এই পথে চলাচল করেন। গত কয়েক মাসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় দুঃখজনকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন যা সমগ্র ক্যাম্পাসে তৈরি করেছে শোক ও ক্ষোভের মিশ্র অনুভূতি। সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ছাত্র সংগঠনগুলো বারবার আলোচনা ও আবেদন জানালেও দেখা যায় না কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন। তাই শুধু আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি না দিয়ে মহাসড়ক সংস্কারের টেকসই পদক্ষেপ এবং সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি। এটি দেশের বহু দূরপাল্লার যাত্রীর নিরাপত্তার বিষয়। তাই কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার এখন শুধু প্রয়োজন নয় এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং সময়ের কঠোর দাবি।

