বৈশাখের স্মৃতিময় একদিন

জীবনে কিছু স্মৃতিময় মূহুর্ত থাকে, যেগুলো সময়ের অ্যালবামে সোনালি পাতায় বাঁধিয়ে রাখার মতো। হৃদয়ের কোন অজানা কর্নারে জমে থাকা আবেগের মতো সে দিনটাও থেকে যায়।
দিনটি ছিল ২০ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি.। সেদিন সূর্য উঠেছিল এক ধরনের উষ্ণ আলো নিয়ে, বাতাসে ছিল এক চঞ্চল গন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে ‘বৈশাখীয়ানা-১৪৩২’উৎসবের আমেজ। উৎসবকে কেন্দ্র করে ইবির বটতলায় সেদিন মেলা বসেছিল। বাঙালির গ্রামীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল।
ঘড়ির কাটায় বিকেল ৪ টা বাজে। চেয়ারে বসে বিতার্কিকদের বিতর্ক শুনছিলাম। এমন সময় বন্ধু রাকিবের কল, ‘তুমি কোথায়?’ আমি বললাম,’ক্যাম্পাসে। মেলায় বসে আছি। ‘এরপর সে বলল, আমি আসতেছি। পরক্ষণে তুরাস,নিহা,রাকিব,বাঁধন এর সাথে দেখা হলো মেলায়। মেলাতে বিভিন্ন ধরনের স্টল ছিল যেখানে নানা ধরনের গ্রামীন মৃৎশিল্পের কারুকার্য করা পণ্য, হস্তশিল্পের বিভিন্ন নিদর্শন, খাবার, মিষ্টান্নসহ হরেক রকমের খেলনা। আমরা একসাথে স্টল পরিদর্শন করছিলাম। রাকিব একটা স্টল থেকে কিছু কারুকার্য করা গহনা কিনলো তার বোনকে দেওয়ার জন্য। এরপর আমরা হাঁটতে হাঁটতে গেলাম নাগরদোলার কাছে। নাগরদোলায় উঠার জন্য মানুষের উপচে পড়া ভীড় ছিল। বাঁধন বলে উঠলো, “আমি নাগরদোলায় উঠবো না।” তাই ভীড় এর জন্য আর ওঠা হলো না। পরে আমরা গেলাম মুড়িমাখা আর চটপটি খাইতে। এতক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। মশার কামড়ে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠতেছিল। আমি মশা তাড়ানোর জন্য কয়েল আনলাম। এরপর আমাদের চটপটির বাটি চলে আসলো। খাইতে খাইতে আমরা আমাদের জীবন ঘনিষ্ঠ কিছু বাস্তবতা একে অপরের সাথে শেয়ার করছিলাম। জীবনের ‘হ্যাপি মোমেন্ট’ ও ‘স্যাড মোমেন্ট’ শেয়ার করছিলাম। এভাবেই আমাদের গল্পের আড্ডা জমে উঠলো।
সন্ধ্যা-রাতে আমরা ডায়না চত্বর হতে একসাথে হাঁটতে শুরু করলাম। আম বাগানে বাঁধন হঠাৎ সাপের কথা মনে করলো! নিহা একটু ভয়ে ভয়ে আম বাগান পাড় হচ্ছিল! আমি,রাকিব,তুরাস গল্পের তালে হাঁটতেছিলাম । পরবর্তীতে কলা ভবনের সামনে আমরা সেলফি উঠালাম একসাথে। এরপর আবার হাঁটতে শুরু করলাম। হাঁটতে হাঁটতে পশ্চিমপাড়ার রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোর কাছে আসতেই তুরাস বললো, “চলো! আমরা ছায়ার সাথে ছবি তুলি! ”
আমরা এক অনন্য ভঙ্গিমায় নিজ ছায়ার ছবি উঠালাম। ফ্রেমবন্দী ছবিটি আমরা দেখছিলাম আর হাসতেছিলাম। তখন আমার অবচেন মন বলে উঠলো –
স্মৃতি বড় কৌশলী জাদুকর—
আমরা যা ভুলে যেতে চাই,
তা সে ফ্রেমে বাঁধিয়ে দেয়;
আর যা মনে রাখতে চাই,
তা উধাও করে দেয় কুয়াশার মধ্যে।
তবু, এই সব জাদু, ধোঁয়া, আর কুয়াশার ভেতরেই তো
আমরা গড়ে তুলি নিজেদের।
কারণ মানুষ কেবল ভবিষ্যতের দিকে হাঁটে না,
সে স্মৃতির ছায়ায় দাঁড়িয়ে পথ খোঁজে,
নিজেকে চিনে নেয় একেকটা স্মৃতির মুখ দেখে।
এভাবেই একটি স্মৃতিময় দিনের ইতি ঘটে।

