বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ইসলাম / নিবন্ধ

লাইলাতুল কদর খোঁজার উপায়

Author

আদিয়াত উল্লাহ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৪৮ বার

লাইলাতুল কদর খোঁজার উপায় এবং করণীয় – বর্জনীয়

আদিয়াত উল্লাহ

বছর ঘুরে মুমিনের দরজায় পুনর্বার কড়া নাড়ছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত্রি ‘লাইলাতুল কদর’। এ রাত্রি তালাশের পদ্ধতি, কখন তালাশ করতে হবে এবং কীভাবে এ রাতকে চেনা যাবে, এ বিষয়ে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে। তবে হাদিসের সকল বর্ণনা মিলিয়ে দেখা যায় যে, এটি রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতসমূহের মধ্যকার কোনো একটি রাত। আর রমজান মাসের শেষ দশকে ই’তিকাফে বসার মাধ্যমে মুমিনগণ লাইলাতুল কদরকে বিজোড় রাতসমূহের মধ্যে তালাশ করে থাকেন। আজকের কলামে আলোচনা করব কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল কদর কোন রাত, কীভাবে তা পাওয়া যাবে, তা চেনার আলামত কী এবং এ রাতের করণীয় ও বর্জনীয় আমল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব ইন শা আল্লাহ।

‘লাইলাতুল কদর’ এর ফজিলত: লাইলাতুল কদর বছরের শ্রেষ্ঠতম, ফজিলত, শান্তি, রহমত ও বরকতে পরিপূর্ণ একটি রাত। এ রাতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, একমাত্র এ রাতের নামে একটি সুরা অবতীর্ণ হয়েছে এবং এ রাতের কথাই সর্বাধিকবার উল্লিখিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “নিশ্চয় আমরা (আমি) তা (কুরআনকে) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর (হে নবী) আপনি কি জানেন যে, কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরাঈল আ.) তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তসহ অবতীর্ণ হয়। এ রাতে শান্তি বিরাজ করে ফজরের উদয় পর্যন্ত।” (আল কদর: ০১ – ০৫)

আবু হুরাইরা (রা.)থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী(সগীরা) গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।” (বুখারি, আধুনিক প্রকাশনী: ১৮৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ: ১৮৮৪, তাওহীদ পাবলিকেশন: ২০১৪)

লাইলাতুল কদর কত তারিখের রাত: লাইলাতুল কদর রমজান মাসের কত তারিখের রাত, সে বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট কোনো বর্ণনা নেই। তবে একদল আলেম ও ইসলামী গবেষকের মতে, এ রাত রমজান মাসের ২৭ তারিখের রাত হতে পারে। তাঁদের দলিল হলো, ‘লাইলাতুল কদর’ শব্দদ্বয় লিখতে মোট নয়টি হরফ লাগে, অন্যদিকে কুর‌আনে এ শব্দদ্বয় মোট তিনবার এসেছে। সে হিসেবে ৯*৩=২৭ হয়। তবে এ মত শুদ্ধ নয়। কারণ কুরআন ও হাদিসে এ রাতের জন্য নির্দিষ্ট করে কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, বরং এ রাতকে রমজান মাসের শেষদিকে তালাশ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

কখন ও কীভাবে লাইলাতুল কদর তালাশ করতে হবে: বুখারি, মুসলিম, তিরমিজিসহ অন্যান্য হাদিসের কিতাবগুলোতে এ বিষয়ে বহুবিধ বর্ণনা পরিলক্ষিত হয়। তবে অধিকাংশ হাদিসেই রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতসমূহের মাঝে লাইলাতুল কদর তালাশের নির্দেশনা বর্ণিত হয়েছে। কিছু হাদিসে একে রমজান মাসের শেষ সাত রাতের মধ্যে তালাশ করতে বলা হয়েছে। আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান কর।” (২০১৯,২০২০, মুসলিম: ১৩ / ৪০),(বুখারি, আধুনিক প্রকাশনী: ১৮৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ: ১৮৮৭, তাওহীদ পাবলিকেশন: ২০১৭) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, কয়েকজন সাহাবী স্বপ্নের মাধ্যমে কদর রাত রমজানের শেষ সাত রাতে দেখেছেন। নবীজী (সা.) বলেন, “আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো শেষ সাত রাতের সাথে মিলে যাচ্ছে। তাই যে ব্যক্তি তা তালাশ করতে চায়, সে যেন শেষ সাত রাতে তা তালাশ করে।” ( বুখারি: ২০১৫) অন্যান্য কিতাবের হাদিসসমূহে এ সময়গুলোতে রাত জেগে ইবাদত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

লাইলাতুল কদরের আলামত: হাদিসের আলোকে রাতটি খুব বেশি ঠান্ডা বা গরম হবে না,পরিবেশ হবে শান্ত ও মনোরম এবং পরেরদিন সকালে সূর্য সম্পূর্ণ গোল হলেও তার তেজ কম থাকে।

লাইলাতুল কদরে করণীয় – বর্জনীয়: এ রাতের করণীয় কার্যক্রম হচ্ছে সূর্যাস্তের পর থেকে ইবাদতের প্রস্তুতি নেয়া, রাত জেগে ইবাদত, সালাত আদায়, দোয়া ও মুনাজাত, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির ও পরোপকার করা। এ রাতে অধিক বিশ্রাম, অধিক ভোজন, বিদ‌আতি কর্মকাণ্ড ও গুনাহের কাজ বর্জনীয়।

লাইলাতুল কদরের বিশেষ দুআ : “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফ‌ওয়া ফা’ফু আন্নী।” (তিরমিজি: ৩৫১৩, ইবনে মাজাহ: ৩৮৫০, আহমাদ: ২৫৩৮৪)

লেখক: আদিয়াত উল্লাহ,

শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সদস্য,বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

ই-মেইল: saadhafeezdhaka@gmail.com.

মোবাইল নাম্বার: 01926869482.

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

লেখক: সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!