বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান, গাজীপুর

Author

তৌফিক সুলতান , ঢাকা মেডিকেল ইনস্টিটিউট

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৮২ বার

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী শালবন, যা ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮২ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই উদ্যানের মোট আয়তন প্রায় ৫,০২২ হেক্টর (১২,৪০৯ একর), যা রাজধানী থেকে খুব কাছে হওয়ায় প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য সহজলভ্য এক নিসর্গভ্রমণের গন্তব্য। মূলত ক্রান্তীয় আর্দ্র পর্ণমোচী এই বনভূমির প্রধান উদ্ভিদ হলো শালবৃক্ষ (Shorea robusta), পাশাপাশি এখানে কাঁঠাল, বহেরা, আমলকি, জিগা, কুম্ভী ও গান্ধী গজারিসহ প্রায় ২২১ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে, যদিও কৃত্রিমভাবে ইউক্যালিপটাস ও রাবার গাছের বনায়নও করা হয়েছে। জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে উদ্যানটি সমৃদ্ধ হলেও কালের বিবর্তনে একসময়ের বাঘ, চিতাবাঘ ও হাতি এখন আর এখানে দেখা যায় না; বর্তমানে খেঁকশিয়াল, গন্ধগোকুল, বেজি, কাঠবিড়ালী, বানর, মুখপোড়া হনুমান, সজারু ও মেছোবাঘসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। পাখির মধ্যে দোয়েল, মাছরাঙা, বুলবুল, কাঠঠোকরা, বনমোরগ, টিয়াসহ প্রায় ৩৯ থেকে ৮৪ প্রজাতির পাখি এখানে দেখা যায়, আর সরীসৃপের মধ্যে অজগর, গুইসাপ ও তক্ষক উল্লেখযোগ্য। দর্শনার্থীদের জন্য উদ্যানটিতে আনন্দ, কাঞ্চন, সোনালু, অবকাশ, অবসর, বিনোদন নামে প্রায় ৩১টি পিকনিক স্পট এবং বকুল, মালঞ্চ, মাধবী, চামেলী, বেলী, জুঁই, শাপলা, জেসমিন নামে ১৩টির বেশি কটেজ ও বিশ্রামাগার রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করতে বন বিভাগের মহাখালী কার্যালয় বা রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ অফিস থেকে আগাম বুকিং করতে হয়। এছাড়া উদ্যানের অভ্যন্তরে একটি ওয়াচ টাওয়ার ও পদ্মপুকুর নামক কৃত্রিম লেকে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে, আর আশেপাশে সারাহ, সোহাগ পল্লী, স্প্রিং ভ্যালী, ছুটি রিসোর্টসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি আবাসন কেন্দ্র রয়েছে। ভ্রমণের সময় পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ, পশু-পাখি বিরক্ত করা বা উচ্চ শব্দ করা সম্পূর্ণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভির আওতার বাইরে একাকী ঘোরাঘুরি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস অর্থাৎ শীতকালকে এই উদ্যান ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

লেখক: শিক্ষক & প্রতিষ্ঠাকালীন দপ্তর সম্পাদক, সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!