রাজনীতি হোক জনকল্যাণমূলক

তারেক আল মুনতাছির ▷
সত্যিকারের নতুন দিন আনতে হলে নিজেকেও বদলাতে হয়, সংগ্রাম করতে হয়। সততা, শ্রম ও আন্তরিকতা এই তিনটি গুণ ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে কার্যকর হলে বদলে যেতে পারে সমাজের চিত্র। ২০২৬কে আমরা দেখতে চাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বছর হিসেবে; যেখানে বিভাজনের রাজনীতি নয়, মানবিকতা ও ন্যায়ের রাজনীতি প্রাধান্য পাবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে সামনে এনে দেয়। অনেকেই এটিকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন সম্ভবনার প্রতীক গিসেবে। সাধারণ মানুষ আশা করেছিল এবার স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং নৈতিক নেতৃত্ব রাজনীতিতে জায়গা করে নেবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পুরানো কাঠামো ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতা এখনো রাজনীতির ভেতরে দৃঢ়ভাবে বিদ্যমান। পরিবর্তনের পথ তাই সহজ হয়নি। রাজনীতির সমালোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য উপাদান। সমালোচনার মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীর সিদ্ধান্ত, নীতি ও কার্যক্রম জনসমক্ষে প্রশ্নের মুখে পড়ে। এতে ক্ষমতার অপব্যবহার কমে এবং জনগণের অধিকার রক্ষার পথ সুগম হয়। সমালোচনা দমন করা হলে রাজনীতি একমুখী ও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠে, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দল ছাড়া সুস্থ রাজনীতি কল্পনা করা যায় না। বিরোধী দল সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে, বিকল্প নীতি প্রস্তাব করে এবং সংসদ ও রাজপথে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা রাখে। শক্তিশালী বিরোধী উপস্থিত থাকলে সরকার আরও দায়িত্বশীল হয় এবং গণতন্ত্র টিকে থাকে শক্ত ভিত্তির ওপর। রাজনীতির বাইরে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত বিষয় হলো মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনের ভারসাম্য। অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও সামাজিক চাপ মানুষকে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে। এই ক্লান্তি অনেক সময় হতাশা, ক্ষোভ ও নীরব ভাঙনের জন্ম দেয়, যা পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মানসিক স্বাস্থ্যকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে সচেতনতার অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে কাউন্সেলিং ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। ২০২৬ সালে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্ব, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের কল্যাণ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হবে। নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে নিরাপদ। আইনের শাসন হবে বাস্তব ও কার্যকর। ২০২৪ সালের জুলাই আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্থায়ী পরিবর্তন কখনো ওপর থেকে চাপিয়ে আসে না। তা আসে জনগণের সচেতনতা, চাপ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে। যদি রাজনীতি সত্যিই জনকল্যাণের পথে ফিরে আসে, তবে ২০২৬ সাল সমাজগঠনের সূচনা হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে

