বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / চিঠিপত্র / নিবন্ধ

বালু উত্তোলন

Author

মোঃ শরীফুল ইসলাম , ঢাকা কলেজ, ঢাকা

প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬ পাঠ: ৩০ বার

অসংখ্য নদ-নদী থাকায় বাংলাদেশ কে একটি নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। কবির ভাষায়, ধানের দেশ, গানের দেশ, তেরো শত নদীর দেশ। আমাদের এই বাংলাদেশ। আমাদের দেশের মাটি খুবই উর্বর। বর্ষাকালে উজানে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ার কারণে নদ-নদীগুলো পানিতে কানায়-কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। নদ-নদীগুলো প্রতিবছর বৃষ্টির পানির সাথে পলি মাটি নিয়ে আসে এবং নদীর তলদেশে জমা হয়। পলি মাটিতে সহজে ফসল জন্মে এবং প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করা যায়। নদ-নদী কে ঘিরে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের অগণিত মানুষ বসতি স্থাপন, জীবিকা নির্বাহ ও চাষাবাদ করে থাকে । কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই নদ-নদীগুলো প্রতিনিয়ত লাখ-লাখ মানুষ কে করছে গৃহহীন। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে প্রতিবছর প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। সাধারণত অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন এসব প্রাকৃতিক কারণে নদীভাঙন দেখা দিলেও বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী ইত্যাদি উপজেলার হাওড় অঞ্চলে অতিরিক্ত অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন আশঙ্কাজনক ভাবে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা কে গেটওয়ে বলা হয় এবং দেশের সবচেয়ে নিচু জেলা হিসেবেও পরিচিত। অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ অনেক গভীর হয়ে যায় এবং সেই সাথে কিছুটা পানির প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়। ফলাফল স্বরূপ নদীর তীর ভেঙ্গে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সাধারণ মানুষ শুধু গৃহহীন নয় বরং তাদের জীবন- জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অতিরিক্ত বালু উত্তোলন জীব বৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এছাড়াও সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আমাদের দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কে কঠোরভাবে বালু উত্তোলনের আইন কানুন প্রয়োগ করতে হবে। বিপুল পরিমাণে বৃক্ষরোপণও করতে হবে। নদীর পাড় রক্ষা করতে হলে এখনই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে । বৃক্ষরোপণের জন্য জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে এবং জন সচেতনতা মূলক প্রচারণা চালাতে হবে। নদ-নদী আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, নদী থেকে মাছ আহরণ করে এ দেশের অসংখ্য জেলেরা প্রতিনিয়ত জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।নদ-নদীর পানি উত্তোলন করে অসংখ্য ফসলের জমি চাষাবাদ করা হয়। নদীকে ঘিরে আমাদের বৃহৎ অর্থনীতি গড়ে উঠে। নদী বাঁচলে, বাঁচবে দেশ তাই নদীকে রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এখন সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মোঃ শরীফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

লেখক: সদস্য, ঢাকা কলেজ।
এই লেখাটি ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!