সার্কের ভবিষ্যৎ কী?
সার্কের ভবিষ্যৎ কী?
দক্ষিণ এশিয়া পৃথিবীর অন্যতম বৈচিত্র্যময় একটি অঞ্চল। ভাষাগত, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও এ অঞ্চলের দেশগুলোর মানুষের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। সার্ক (SAARC) বা ‘দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা’ মূলত বাংলাদেশেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। এই সংস্থার স্বপ্নদ্রষ্টা বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি এমন একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করাই ছিল সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য।
তবে প্রতিষ্ঠার চার দশক পেরিয়ে গেলেও বর্তমানে সার্কের তেমন কোনো কার্যকর অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। মূলত সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণেই সার্ক তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। অথচ আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্বালানি বিনিময় এবং শিক্ষা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করা গেলে বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এমতাবস্থায় সার্ককে কার্যকর করতে হলে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সার্ককে নতুন উদ্যোগে সক্রিয় করার কোনো বিকল্প নেই।
আল ইমরান
শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ
alemran5180@gmail.com
