গল্প
দুশ্চিন্তার গোরে সুখ মুল পুঁতে ঘরে ফিরছিলাম
আর ভাবছিলাম-
দীর্ঘদিন সুগন্ধি ফুলের ঘ্রাণ নেইনা,
দেখিনা আসমানি আকাশ।
আকুল আবেদনে ন্যুব্জ কন্ঠে শুনিনা
সে ডাক “মেহু”
স্মরণে দেখতে পেলাম-
বর্ষার এক সন্ধ্যায়,
দুনিয়ার সমস্ত বকুলের সুগন্ধী এসে,
পায়ে ভিড়লো আমার।
ছিলো নিরব মানবের অগোছালো ছন্দে নিবেদিত-
পরানের সবটুকু আবেগ!
সেদিন তাঁকে এক অঙ্কে শতবার প্রত্যাখ্যান করেছিলাম আমি।
হৃদয়ের সবটুকু উৎসর্গ করেও এই অন্তরে এক বিন্দু জায়গা হলোনা তার।
তারপর দুই দশক পেরিয়ে-
আজ আবার মনে হলো,
বহুদিন বকুল বেলি আর গোলাপ কুড়িতে মোড়ানো আদর দেখিনা,
আহ্লাদে গলে গিয়ে কিংবা ক্লান্তিতে,
শরীরের সমস্ত ভার ছেড়ে আমার নুয়ে পড়া মাথা আর নাজুক কান্ড আর শক্তি খোঁজে না।
বারবার মনে হয় চঞ্চল নারী মনে ক্ষণিকের মেঘে ভাঙা আষাঢ়ে বুকই যেন অভিশাপ ছিলো আমার।
এতগুলো বছরে, সুরুজের কারু খচিত সোনালী বর্ন,
নরম কোমল ত্বকে শয়ে শয়ে পড়া খাঁজ
যখন দেখতে শুরু করলাম,
তখন খেয়াল হলো –
চতুর্দিকে এখন ভীষণ ব্যস্ততা,
যৌথ পরিবার আর সমাজ সংসারে নলীকে রেখে,
রাতে নিরব নিভৃতে,
আমি তাঁকে খুঁজি এখন বিশাল বাড়ির কাঁচা উঠানে, জ্যোৎস্নার মাদুর বিছিয়ে, কখনো কামিনী গন্ধরাজকে সাথে নিয়ে, কোনদিন অমাবস্যার কোলে মাথা রেখে শোকালাপে, তাঁকে এখনো স্মরণ করি।
~গল্প
বিকাল ৫.২০
