প্রলাপ
জানো বকুল,
আমার খুব ইচ্ছে ছিলো
জীবনভর রাখালি থাকার।
দিগন্ত জোড়া মাঠে ঘুরতাম,
আমার ধূসর আঁচলে ঢাকা পড়তো সবুজ ঘাস।
চলনবিলের বক, ফিঙে, পানকৌড়ি,
মেটো শামুক আর কেঁচো নিয়ে দরবার বসাতাম।
আজকে এগুলো সবই অতীত।
জানো, আমি আকাশ দেখতো দেখতে
পাগাড়ির মাঠে হারিয়ে গিয়েছিলাম,
যখন দেখতাম বর্ষায় বেতনা নদী আর বড় পুকুর মিলে সাগর হয়েছে।
তখন পরীক্ষা ঠেকাতে আমি চাইতাম বন্যা হোক।
কিন্তু এমন কখনো হয়নি
কারন, হেমন্তের মেঘে এত জোর ছিলো না কোনদিন।
আর আজ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেঝলাম –
কালো বকরির পেটে দুইটা খাসি হয়েছে দেখে দাদি আমার বিশাল খুশি।।
খবর দিতে- বাবাকে ডাকতে, আমি গেলাম নদীর পাড়ে
পঁচা পাটের আশ ছাড়াতে ব্যস্ত ছিলো বাপ আমার৷
ফেরার পথে বেতনার সাঁকো ভেঙে যখন ডুবো পানিতে পড়লাম, তখন ঘুম ভেঙে দেখি-
চোখ মুখ ডুবে বিছানায় সাঁতরাই আমি৷
আজও যদি ঘুমিয়ে মরা রুহ আমার, নদী মাঠ আর বিল ঘুরতে পাগল হয়, মৃত আমি দুনিয়ায় ফিরতে চাইবো না তার কি আশা।।
তাহলে কি আমি দুনিয়াকে বেশি ভালোবাসি? এ তো সৃষ্টিকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে স্রষ্টাকে ভালোবাসা। তাইনা?
অবশ্য এটা মালিকই ভালো বুঝবেন।
~ প্রলাপ
