ধর্ষণ রোধ করতে হবে

বর্তমানে দেশে নারী, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের সংখ্যা ভয়াবহ হারে বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি নোয়াখালীর সবর্ণচরে চার সন্তানকে বেঁধে রেখে গৃহবধুকে কতিপয় নরপশুর গণধর্ষণের পর অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যার ঘটনাটি দেশের সবাইকে হতবাক করেছে। রাজধানীর বনানীতে হোটেলে গণধর্ষণ, বগুড়ার তুফান-কান্ড, সিলেটের বদরুল-কান্ড, সোহাগী জাহান তনু, ময়মনসিংহের রূপা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাকান্ডসহ জানা অজানা অসংখ্য নারকীয় ঘটনার আজও বিচারের আলো দেখতে পাইনি। এসব জঘন্য ঘটনা ঘটার পরে মিডিয়ার ফলাও প্রচার আর সাংবাদিকদের তীব্র লেখালেখিতে হয়ত আসামী গ্রেফতার হয়, কিন্তু কিছুদিন পরেই আসামী জামিনে মুক্ত হয়। তারপর বিচার থমকে যায় বিভিন্ন হুমকি-ধামকিতে। আবার কাউকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বিদেশে রাজকীয় জীবনযাপন করতে দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণে সেঞ্চুরি করা ছাত্র মানিকের কথা উল্লেখ করা যায়। সামাজিক সম্মান ও নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই ধর্ষণের কথা স্বীকার করতে চায়না। ফলে দেশের অনেক ধর্ষণের কথা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পায় না। দেশে ধর্ষণ বাড়ছে, বাড়তে হত্যা। একই সাথে বেড়েছে নিষ্ঠুরতা কিন্তু এই নিকৃষ্ট অপরাধের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছেনা বললেই চলে; যার অন্যতম কারণ ক্ষমতার আশীর্বাদ। ক্ষমতাসীনেরা ভাবে দলের কর্মীর সাজা হলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। ফলে আদালতের কার্যক্রমও আলোর মুখ দেখেনা। কোনো নারীই যেন আজকাল নিরাপদ নন। রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, বাস-ট্রেন, কর্মস্থল, সহপাঠী, শিক্ষক- কোথায় কার কাছে নারী নিরাপদ?


