বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ইসলাম / নিবন্ধ

মহিমান্বিত চাঁদরাত

Author

উম্মে জোবায়দা , ইডেন মহিলা কলেজ

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৪৩ বার

মহিমান্বিত চাঁদরাত

সিয়াম সাধনার মাস পার করেই আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে ইদ এক বিশেষ উপহার ও আনন্দের দিন হিসেবে আসে। ইদ মানেই খুশি, ইদ মানেই প্রশান্তি। কিন্তু আমরা অনেকেই ঈদের আনন্দে এতোই মগ্ন হয়ে যাই যে, ইদের রাতের গুরুত্বপূর্ণ আমল করতে বেমালুম ভুলে যাই। এতে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হয় তা হলো – বরকতময় সময় নষ্ট এবং গুনাহ মাফের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় । অথচ এই রাতের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত। ইদের রাতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো– এ রাতে দোয়া কবুল করা হয়। কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। বরং আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে তা সরাসরি কবুল হয়।

শাওয়াল মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় এই মহামহিমা রাত। এটি শুধুই উৎসবের প্রস্তুতির জন্য নয়, বরং আল্লাহর অসীম দয়ার স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে তাঁর নৈকট্য লাভের এক মোক্ষম সুযোগ। এ রাতে আসমানের সকল দরজা খুলে দেওয়া হয়, রহমতের নূর বর্ষিত হয়, আর বান্দার প্রত্যেকটি প্রার্থনা সরাসরি আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয়। যারা হৃদয়ের গভীর থেকে এই রাতে হাত তোলে, তারা শূন্য হাতে ফিরে যায় না। তাই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বিভোর হওয়ার পাশাপাশি, ভুলে যাওয়া উচিত নয় এই রাতের মাহাত্ম্য। কেননা, ইদের রাত শুধু উৎসবের নয়—এ রাত হলো করুণা ও ক্ষমার, আত্মশুদ্ধি ও আত্মার প্রশান্তির। আল্লাহর নৈকট্য লাভের এমন সুযোগ আর ক’টিই বা আসে!

ইদের রাতের ফজিলত ও মর্যাদা

ইদের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতমণ্ডিত রাত, যা “ইয়ালাতুল জায়জা” বা “পুরস্কারের রাত” নামে পরিচিত। কারণ রমজানের পুরো মাস রোজা রেখে, নামাজ পড়ে, কোরআন তিলাওয়াত করে, দান-সদকা করে আমরা যে আমলগুলো করেছি, এই রাতটি মূলত তার প্রতিদান লাভের সুযোগ তৈরি করে দেয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“যখন ঈদের দিন আসে, ফেরেশতারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন: ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর দরবারে যাও, তোমাদের পুরস্কার গ্রহণ করো।’”
—(তাবারানি)

ইদের রাতে নফল ইবাদত করার মাধ্যেমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মহাসুযোগ তৈরি হয়।
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী কারিম (সা.) বলেছেন–
যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ইদুল ফিতর ও ইদুল আজহার রাতে ইবাদতের মাধ্যমে কাটাবে, কিয়ামতের কঠিন দিনেও তার অন্তর মরবে না, যেদিন ভয়ংকর ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কারণে মানুষের অন্তর মারা যাবে।
–(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৮২)

ইদের রাত এমন একটি রাত, যখন আল্লাহ বান্দাদের বিশেষভাবে দোয়া কবুল করেন। যারা আল্লাহর কাছে মন থেকে প্রার্থনা করে, তাদের দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“পাঁচটি রাত রয়েছে, যেখানে দোয়া কবুল হয়: রজব মাসের প্রথম রাত, শাবানের ১৫তম রাত, জুমার রাত, ইদুল ফিতরের রাত এবং ইদুল আজহার রাত।”
—(মুসনাদ আহমাদ)

অর্থাৎ, এই রাতকে অবহেলা করা মানে, একটি মহামূল্যবান সুযোগ হাতছাড়া করা।

ইদের রাতে করণীয় আমল

১. চাঁদ দেখে দোয়া পড়া
মহিমাময় পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ তথা নতুন চাঁদ দেখে দোয়া পড়া সুন্নত। তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) নতুন চাঁদ দেখলে এই দোয়াটি পাঠ করতেন— আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আ’লাইনা বিল য়ুমনি ওয়াল ইমান, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম; রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫২৬)

২. নফল নামাজ আদায় করা
ইদের রাতে দুই বা চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও রাতে ইবাদতে ব্যস্ত থাকতেন। ঈদের রাতে নফল নামাজ আদায় করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মহাসুযোগ তৈরি হয়।

৩. কুরআন তিলাওয়াত করা
এই রাতে কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সুরা মুলক, সুরা আর-রহমান, সুরা ইয়াসিন ইত্যাদি তিলাওয়াত করা যেতে পারে।

৪. দোয়া ও ইস্তেগফার করা
এই রাতে বান্দার দোয়া কবুল হয়, তাই নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, মুসলিম উম্মাহর জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।

৫. তাকবির পড়া

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
(আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ)
ইদের রাতে বেশি বেশি তাকবির বলা সুন্নাহ। এটি ইদের রাতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি যেন আমরা এই রাতের ফজিলত থেকে বঞ্চিত না হই। ঈদের রাতকে শুধু বিনোদনে কাটিয়ে দেওয়া মানে একটি অমূল্য সুযোগ হাতছাড়া করা। অন্তত কিছু সময় ইবাদতে কাটিয়ে, কুরআন তিলাওয়াত ও তাকবির পড়ে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি যেন আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই সুন্দর হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই বরকতময় রাতের পূর্ণ ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন।

উম্মে জোবায়দা
শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ
বিভাগ:- সমাজবিজ্ঞান

লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, ইডেন মহিলা কলেজ।
এই লেখাটি ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!