জ্বালানি তেলের সংকট রোধে কঠোর ব্যবস্থা চাই
জ্বালানি তেলের সংকট রোধে কঠোর ব্যবস্থা চাই
সোমনা আক্তার
বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ১৫–১৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার একটি বড়ো অংশই আমদানিনির্ভর। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা, ডলার সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। (BPC) এর তথ্যমতে, চাহিদার তুলনায় আমদানির গতি কমে যাওয়ায় জ্বালানি মজুত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে ডিজেলের সংকট কৃষকদের জন্য বড়ো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এই সংকট কেবল বৈশ্বিক নয়, বরং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কালোবাজারিও এর জন্য অনেকটা দায়ী। অনেক জায়গায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে। প্রশাসন কিছু অভিযান চালালেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
এমতাবস্থায় আমাদের জোরালো দাবি :
১. তদারকি জোরদার : তেলের পাম্প ও ডিলার পর্যায়ে নিয়মিত ‘মোবাইল কোর্ট’ পরিচালনা করে অবৈধ মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. বিকল্প উৎসে বিনিয়োগ : আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করতে হবে।
৩. বিলাসবহুল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ : সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ে জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর নীতিমালা জারি এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার সীমিত করে গণপরিবহণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।
৪. নবায়নযোগ্য জ্বালানি : সৌর ও বায়ু শক্তির মতো বিকল্প উৎসগুলোকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।
অতএব, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন রক্ষায় অবিলম্বে একটি শক্তিশালী জ্বালানি টাস্কফোর্স গঠন করে অবৈধ মজুতদারি বন্ধ, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোরালো ও দৃঢ় দাবি জানাচ্ছি— এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক, নাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।
লেখক : –
সোমনা আক্তার
শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ
ই-মেইল : sumonaakter472192@gmail.com

