বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / খোলা চিঠি / নিবন্ধ

বন্ধু থেকে পথপ্রদর্শক

Author

মোছা সোমনা আক্তার , মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পাঠ: ১১৭ বার

বন্ধু থেকে পথপ্রদর্শক

সোমনা আক্তার

বন্ধুত্ব অনেক সময় শুধু সহচর্যের গল্প নয়, কখনো কখনো তা হয়ে ওঠে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এক নীরব বিপ্লব। আমার জীবনে এমনই একজন বন্ধু আছে, যে বন্ধুত্বের সীমানা পেরিয়ে হয়ে উঠেছে আমার জ্ঞানের পথপ্রদর্শক, আমার গবেষণার স্বপ্নের প্রথম প্রদীপ। একসময় আমার পৃথিবী ছিল পরীক্ষার নম্বর আর পাঠ্যবইয়ের পাতায় বন্দি। পড়াশোনা মানে ছিল পাশ করা, আর বই মানে ছিল বাধ্যতামূলক বোঝা। কিন্তু সেই বন্ধু আমাকে শিখিয়েছে শিক্ষা শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, শিক্ষা হলো জানার ক্ষুধা, প্রশ্ন করার সাহস এবং সত্যের অনুসন্ধান। সে আমাকে প্রায় সময় বলত “কৌতূহল মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, যত জানবা তত বুঝবা কিছুই জান না”। তখন থেকে আমি বইয়ের পাতায় নতুন পৃথিবী খুঁজে পেয়েছি। একদিন সে আমাকে সংবাদপত্রের চিঠি কিভাবে লিখতে হয় সেটা দেখালো এবং বলল “তুমি লিখা শুরু করো , তোমার লেখাও একদিন পত্রিকায় যাবে।” সেই কথা আমাকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে সেদিন থেকেই আমি নিয়মিত বই পড়া শুরু করি, আর নিজের ভাবনা লিখতে চেষ্টা করি। তার অনুপ্রেরণামূলক কথায় আজ আমি সংবাদপত্রে লিখতে সাহস পাই। আমি তখন ইংরেজি পড়তে ভয় পেতাম। গবেষণা শব্দটাও আমার কাছে দূরের কোনো স্বপ্নের মতো ছিল। কিন্তু সেই বন্ধু ধীরে ধীরে আমার ভয় ভাঙিয়ে দিল। সে আমাকে রিসার্চ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করেছে, বুঝিয়েছে কীভাবে বিজ্ঞানীরা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করেন, কীভাবে প্রশ্ন করতে হয়, কীভাবে তথ্য খুঁজতে হয়। তাঁর কথায় প্রথমবার আমি বুঝেছিলাম একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও গবেষক হতে পারে, চিন্তাশীল লেখক হতে পারে। আজকাল এমন বন্ধুত্ব পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। তাঁর সাথে আলোচনায় আমার চিন্তার জগৎ বিস্তৃত হয়েছে, আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন জন্ম নিয়েছে—গবেষক হওয়ার, জ্ঞানচর্চার পথে জীবন উৎসর্গ করার, সমাজের জন্য কিছু করার। আজ আমি যখন গবেষণার কথা ভাবি, তখন মনে হয় একজন মানুষের জীবনে একজন সঠিক বন্ধু কতটা আলো জ্বালাতে পারে।

সোমনা আক্তার
শিক্ষার্থী, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ
ইমেইল : sumonaakter472192@gmail.com

লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!