সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

কোকাকোলার ব্যানারে বিবেকের বলি

Author

বিনতে আব্দুস সালাম , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাঠ: ৪০৭ বার

কোকাকোলার ব্যানারে বিবেকের বলি

 

দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলি বর্বরতার সাক্ষী হয়েছে পুরো বিশ্ব।বর্বর গণহত্যার প্রতি নিন্দা আর ফিলিলিস্তিনের স্বাধীনতার সাথে সংহতি জানিয়ে প্রতিবাদী আওয়াজ উঠেছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও।

আর আজ সেই নিকৃষ্ট ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কোকোকোলার স্পনসরশিপ আমাদের ক্যাম্পাসে! যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আজও সেই চলমান সহিংসতা দেখা যায়, শিশুদের কান্না যখন আজও আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে, সেখানে ক্যাম্পাসে আজ বিতর্কিত কর্পোরেট ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ডিং ও প্রমোশন দেখা যাচ্ছে। তাহলে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক অবস্থান টাকার কাছে চাপা পড়ে যাচ্ছে?

আর ফিলিস্তিন ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের বিবেক যেখানে এক দিকে দাঁড়িয়েছে, সেখানে কোকাকোলার মতো ব্র্যান্ডের উপস্থিতি সেই বৈপরীত্য আরও স্পষ্ট করে। প্রশ্ন শুধু কোকাকোলা নিয়ে নয়; প্রশ্ন আসলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ নিয়ে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিই মুক্ত-চিন্তা আর মানবিকতা শেখায়, তাহলে সেই শিক্ষার প্রতিফলন ক্যাম্পাসের ব্যানারেও থাকা উচিত। বাংলাদেশে কোকাকোলাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে জনপরিসরে যে নৈতিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে কোনো সংগঠন সেই ব্র্যান্ডকে অনুষ্ঠানের প্রধান দৃশ্যমান অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করলে তার অর্থ এটাই দাঁড়ায় যে, ঢাবিও আদতে এর পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটি, গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা এই ইস্যু কেন্দ্র করে প্রতিবাদ জানালেও এখনও দখলদারিত্বের পৃষ্ঠপোষক ঐ কোম্পানির ব্যানার সরানো হয় নি। ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন এই ব্র্যান্ডিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালো, তখন তাদের বক্তব্য শোনা বা ব্যবস্থা নেবার দায়িত্ব কার? অবশ্যই প্রশাসনের। কিন্তু এক্ষেত্রে বরং অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদস্বরূপ শিক্ষার্থীরা যেই লেখা ও ছবি সংযুক্ত করেছিলো, তা–ই সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কোথাও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আর এই ঘটনাটি যখন ঘটেছে, তখন আমার মনে হয়েছে এই বিষয়টি শুধু একটি ব্যানারের নয়; এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অতীতেও ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলো আর এখনো তাদের অবস্থান সুদৃঢ়। কিন্তু আজ স্পনসরশিপের আড়ালে শিক্ষার্থীদের মতামতের সাথে বৈপরীত্য দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্লাব কি বোঝাতে চায়?

অবশ্যই একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অর্থ বা স্পনসর পাওয়া সুবিধাজনক। কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয়-নিবন্ধিত সংগঠনের দায় কি কেবল অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজন করা, নাকি কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেদের নাম ও পরিচয় যুক্ত করছে—সেটিও বিবেচনা করা? শিক্ষার্থীদের আপত্তি যখন প্রকাশ্য, তখন প্রশাসন নীরব কেন? এখানে স্পনসরশিপ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কী কোনো নৈতিক নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে কি কোনো তদন্ত বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে? না! তাহলে প্রশ্ন ওঠে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের বিবেকের পাশে দাঁড়াবে, নাকি কর্পোরেট স্পনসরশিপের ব্যানারের নিচে সেই বিবেককেই বিসর্জন দেবে?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ক্লাব— সকলের উদ্দেশ্য, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ সাধন করা। সেখানে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের সাথে একাত্মতা পোষণ বা জবাবদিহিতার জায়গায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করে তাদের এই নীরব অবস্থান বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

 

 

লেখক: সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।