যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়তে বলেছেন নবীজি
যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়তে বলেছেন নবীজি
আদিয়াত উল্লাহ
প্রত্যেক মানুষের জীবনে তার সঙ্গী ও বন্ধু এক গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। বন্ধুর সংস্পর্শে মানুষের চারিত্রিক গুণাবলির ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। এজন্য মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রায়ই বিচার করা হয় তার বন্ধুদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির ওপর ভিত্তি করে। ভালো মানুষের সঙ্গ একজন মানুষের চারিত্রিক গুণাবলিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে খারাপ মানুষের সঙ্গ একজন ভালো মানুষকেও খারাপ মানুষে পরিণত করে। এজন্য একজন মুসলিমের বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু বিষয়কে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে এবং তা মেনে একজন মুসলিমকে বন্ধু নির্বাচনের নির্দেশ প্রদান করেছে। আজকের আলোচনায় সেসব দিকই তুলে ধরার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
বন্ধু ও সঙ্গী নির্বাচনে ইসলামের নির্দেশনাবলি: একজন মুসলিমের জীবনে বন্ধু বা সঙ্গীর অবদান অনস্বীকার্য। খারাপ বন্ধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ। এমতাবস্থায় বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলাম এমন কিছু নির্দেশনাবলি দিয়েছে, যা একজন মুসলিমের মেনে চলা অবশ্য কর্তব্য। কুরআন ও হাদীসের আলোকে নিম্নে সেসব মানদণ্ডের বর্ণনা উল্লেখ করা হলো:
মুসলিমের সাথে মুসলিমের বন্ধুত্ব করা: একজন মুসলিমের জন্য একজন মুসলিম বন্ধুই প্রয়োজনীয়। কেননা সে তাকে সালাতের সময় সালাতের দিকে ডাকবে, দৈনিক ইবাদতের বিষয়ে খোঁজখবর নিবে, সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে, তার অবস্থার খোঁজখবর রাখবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তার কল্যাণ কামনা করবে এবং তার সংস্পর্শে সে সহজে তার দ্বীন ও ঈমান রক্ষা করতে পারবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্ৰহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে। নিশ্চয় আল্লাহ জালিমদের সৎপথ প্রদর্শন করেন না।” (সুরা মায়িদা: ৫১)
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, “ঈমানদারগণ যেন ঈমানদার ব্যতীত কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। আর যে ব্যক্তি তা করবে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।” (সুরা আলে ইমরান: ২৮)
মুমিনদের একমাত্র বন্ধু হবেন আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও ঈমানদারগণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমাদের (হে ঈমানদারগণ) একমাত্র বন্ধু হলেন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) এবং ঈমানদারগণ, যারা সালাত কায়েম করে, জাকাত আদায় করে ও তারা রূকু করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে বন্ধুরূপে গ্ৰহণ করবে, (সে অবশ্যই দেখতে পাবে যে) আল্লাহর দলই বিজয়ী।”(সুরা মায়িদা: ৫৫ – ৫৬)
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, “ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের বন্ধু। তারা সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে এবং সালাত কায়েম করবে ও জাকাত আদায় করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) এর আনুগত্য করবে। এরাই সেসব মানুষ, যাদের উপর আল্লাহ শীঘ্রই দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ও কুশলী।” (সুরা তাওবা: ৭১)
সত্যবাদীদের বন্ধুরূপে গ্ৰহণ করা: মুসলিমদের উচিত সত্যবাদীদের বন্ধু হওয়া ও তাদের সাহচর্য লাভের চেষ্টা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও সত্যবাদীদের সাথে থাক।” (সুরা তাওবা: ১১৯)
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই উদ্দেশ্য: বন্ধুত্বের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। কেননা সত্যবাদিতা ঈমানদারদের চরিত্রের ভূষণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসে ও আল্লাহর জন্য কাউকে ঘৃণা করে এবং আল্লাহর জন্য কাউকে দান করে ও আল্লাহর জন্য কাউকে দান করা থেকে বিরত থাকে, সে সে পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী।” (আবু দাউদ: ৩৯১০)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেতে পছন্দ করে, সে ব্যক্তি কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যেই অপরকে ভালোবাসুক।” (আহমাদ, বাযযার, সহিহুল জামে: ৫৯৫৮)
বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন: মুসলিমদের উচিত বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করা। কেননা বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক না হলে তা দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মানুষ তার বন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের বিবেচনা করা উচিত যে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।” (তিরমিজি: ২৩৭৮)
হাশরের ময়দানে এ বন্ধুত্বই স্থায়ী হবে, যখন অন্য সবধরনের বন্ধুত্ব বিনষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “সেদিন পরহেজগার ব্যতীত সকল বন্ধুই পরস্পরের শত্রু হয়ে পড়বে।” (সুরা যুখরুফ: ৬৭)
লেখক: আদিয়াত উল্লাহ,
শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কার্যনির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
ই-মেইল: saadhafeezdhaka@gmail.com.
মোবাইল নাম্বার: 01926869482.
