শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

৯০ দশকে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, নাকি কেবলই ট্রেন্ড?

Author

স্নেহা ফেরদৌস মীম , গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাঠ: ২ বার

৯০ দশকে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, নাকি কেবলই ট্রেন্ড?

 

বর্তমান সময়টা যেন ট্রেন্ডের সময়। কোনো কিছু ট্রেন্ডিং হলেই তার সঙ্গে গা ভাসাতে পারাটাই যেন এক ধরনের সাফল্য। নিজের পছন্দ, বিশ্বাস কিংবা জীবনযাপনের সঙ্গে সেটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ–সে প্রশ্নটা যেন ক্রমেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তেমনই একটি ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে–‘৯০s AI Look’।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চারপাশে তাকালেই দেখা যাচ্ছে, সবাই যেন হঠাৎ ৯০-এর দশকে ফিরে যেতে চাইছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো–সত্যিই কি তারা ৯০-এর দশকে ফিরে যেতে চায়, নাকি কেবল একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করছে?

 

যদি সত্যিই ৯০-এর দশকে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এত প্রবল হয়, তবে সেই আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ফেসবুকেই বা কেন? যে সময়ে স্মার্টফোন ছিল না, ইন্টারনেট ছিল না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তো দূরের কথা–তখন মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল কেবল টেলিফোন আর চিঠি। তাহলে ৯০-এর দশকে ফিরে যাওয়ার ছবি বানিয়ে সেটি ফেসবুকে প্রকাশ করার এই প্রবল আগ্রহ কি কিছুটা স্ববিরোধী নয়?

 

আবার সামান্য সময়ের জন্য বিদ্যুৎ চলে গেলেই আমরা অস্থির হয়ে উঠি। ইন্টারনেটের গতি কমে গেলে বিরক্ত হই, নেটওয়ার্ক না থাকলে মনে হয় যেন পৃথিবী থমকে গেছে। অথচ যে দশকে ফিরে যাওয়ার জন্য আমরা এতটা নস্টালজিক, সেই সময়ে আজকের মতো প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের সুযোগই তো ছিল না।

 

৯০-এর দশক মানে কেবল AI দিয়ে বানানো রংচটা, পুরোনো ক্যামেরার আদলে তৈরি কিছু ছবি নয়।

 

৯০-এর দশক ছিল এমন এক সময়, যখন জীবন আজকের মতো প্রযুক্তির উচ্ছৃঙ্খলতা আর নীলাভ আলোর অবিরাম গ্রাসে আবদ্ধ হয়ে পড়েনি। বর্তমানের ধ্বংসপ্রায় বিশের দশকের প্রজন্মের মতো সারাক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বন্দি জীবনও তখন ছিল না। সেই সময়ের জীবনে ছিল এক ধরনের ধীরতা, স্বাভাবিকতা, স্নিগ্ধতা এবং সবচেয়ে বড় কথা শালীনতা।

 

আমাদের বাবা-মায়ের পুরোনো অ্যালবামের পাতাগুলোতে আজও সেই সময়ের কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। ছবিগুলো হয়তো নিখুঁত ছিল না, রঙও হয়তো আজকের মতো উজ্জ্বল ছিল না; কিন্তু সেই ছবির মানুষগুলোর জীবন ছিল বাস্তব। সেখানে পোজের চেয়ে মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, ক্যামেরার চেয়ে স্মৃতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

 

অথচ আমরা এমন এক প্রজন্ম, যারা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে বিরক্ত হয়ে উঠি, কিছুক্ষণ ইন্টারনেট না পেলে অস্থির হয়ে যাই। স্মার্টফোন হাতছাড়া হলে অনেকের মনে হয় যেন জীবনেরই একটি অংশ হারিয়ে গেছে। প্রযুক্তির প্রতি এই নির্ভরতা ধীরে ধীরে আমাদের অভ্যাসকে পেরিয়ে এক ধরনের আসক্তিতে পরিণত হয়েছে।

 

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়–এই প্রজন্মই কি সত্যিই ৯০-এর দশকের স্পিরিট ধারণ করতে পারে?

 

৯০-এর দশকে ফিরে যেতে কোনো ট্রেন্ডের প্রয়োজন নেই। কোনো AI ফিল্টারেরও প্রয়োজন নেই। বরং আজও এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা আধুনিকতার ভিড়েও সেই সময়ের শালীনতা, সরলতা ও স্নিগ্ধতাকে নিজেদের জীবনযাপনে ধরে রেখেছেন।

 

তারাই হয়তো প্রকৃত অর্থে ‘৯০s Spirit’ বহন করছেন।

 

কারণ সত্যিকারের ৯০s কিডকে ৯০-এর দশক দেখাতে AI-এর সাহায্যে ছবি বানাতে হয় না। তাকে আলাদা করে কোনো ট্রেন্ড অনুসরণ করতে হয় না। তার জীবনযাপনেই সেই সময়ের কিছুটা ছাপ থেকে যায় তার সরলতায়, তার শালীনতায়, তার সম্পর্কের উষ্ণতায়, প্রযুক্তির প্রতি তার নিয়ন্ত্রিত নির্ভরতায়।

 

৯০-এর দশককে ধারণ করা মানে পুরোনো দেখানোর চেষ্টা করা নয়; বরং পুরোনো সময়ের ভালো দিকগুলোকে নিজের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখা।

 

তাই ৯০-এর দশকে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা যদি সত্যিই থাকে, তবে শুধু AI-এর বানানো রংচটা ছবিতে নয় –একটু ফিরে তাকানো যাক সেই সময়ের জীবনবোধের দিকে।ফিরে আসুক একটু ধীরতা, একটু সরলতা, একটু শালীনতা, আর প্রযুক্তির ভিড়েও নিজের জন্য একটু বাস্তব জীবন।

 

নইলে এই ‘৯০s AI Look’ হয়তো ৯০-এর দশকে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়–এটা কেবলই আরেকটি ট্রেন্ড।

লেখক: সম্পাদকীয় পর্ষদ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।