বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

হৃদয়েশ- আমার অনিশ্চিত সর্বনাম।

Author

Tahmida Khanom , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ পাঠ: ১৯ বার

হে হৃদয়েশ,

 

ইতি-আরম্ভের প্রচলিত শিষ্টাচার, পত্ররচনার বিধিবদ্ধ অনুশাসন কিংবা বাক্যবিন্যাসের সুশৃঙ্খল পরিসীমার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করেই আজ লিখতে বসেছি কিছু অবিন্যস্ত কথামালা—হৃদয়ের অতল প্রদেশে দীর্ঘকাল ধরে সঞ্চিত এমন কিছু অনুভূতি, যাদের যথার্থ অভিব্যক্তি খুঁজতে গিয়ে বারবার ভাষার কাছে পরাজিত হয়েছি। জানি না, এই লেখাকে আদৌ পত্র আখ্যা দেওয়া সমীচীন হবে কি না; কেননা, হৃদয়ের অন্তঃপুরে যে আবেগগুলো নীরবে বেড়ে উঠেছে, যে আকাঙ্ক্ষাগুলো অনুচ্চারিত থেকেও প্রতিনিয়ত অস্তিত্বের জানান দিয়েছে, যে অনুভূতিগুলো ভালোবাসার অনির্বচনীয় আবেশে নিজস্ব এক জগৎ নির্মাণ করেছে—তাদের সম্পূর্ণ অবয়ব এই সামান্য অক্ষরমালায় প্রতিস্থাপন করার সাধ্য না আমার আছে, না এই পত্রের।

লেখার ভাষা একসময় নিঃশেষিত হবে, বাক্যের পর বাক্য সাজিয়েও হয়তো কোনো এক অনুচ্চারিত অনুভূতির সামনে এসে থমকে দাঁড়াতে হবে; কিন্তু অনুভূতির কি কোনো চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি আছে? নাকি হৃদয়ের গভীরে যত বেশি প্রবেশ করা যায়, ততই উন্মোচিত হতে থাকে অজস্র অজানা প্রকোষ্ঠ, যেখানে প্রতিটি উত্তর নতুন কোনো প্রশ্নের জন্ম দেয়, প্রতিটি উপলব্ধি আরেকটি অনুধাবনের পথ প্রশস্ত করে?

হয়তো আমার প্রতিটি বাক্যই অনুভূতির তুলনায় অপর্যাপ্ত থেকে যাবে; হয়তো শব্দেরা হৃদয়ের ভার বহন করতে গিয়ে বারবার নতজানু হবে। তবুও লিখছি। কেননা, কিছু অনুভূতি এমনই—তাদের প্রকাশ করার অক্ষমতা যেমন হৃদয়কে ব্যথিত করে, তেমনি তাদের একান্ত নিজের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখাও ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। হৃদয়ের কোনো নিভৃত প্রকোষ্ঠে যখন অনুভূতিরা দীর্ঘকাল ধরে জমা হতে থাকে, তখন একসময় তারা প্রকাশের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সেই ব্যাকুলতা ভাষার ব্যাকরণ মানে না, বাক্যের শৃঙ্খল মানে না, এমনকি নিজের প্রকাশভঙ্গির সৌকর্য সম্পর্কেও সচেতন থাকতে পারে না। সে কেবল প্রকাশিত হতে চায়—অন্তত এতটুকু, যাতে নিজের অস্তিত্বের ভারে নিজেকেই আর নীরবে বহন করতে না হয়।

অবশ্য, আমার এই লেখনীর অন্তরালে একটি দুর্বোধ্য অভিলাষও রয়েছে। হৃদয়ের প্রাপক যদি স্বয়ং অপর হৃদয়ের অধিকারী হন, তবে পরস্পরের হৃদয়বাক্য শ্রবণ করতেই তো একটি জীবন অতিবাহিত হয়ে যেতে পারে। আপনার নীরবতার অন্তর্নিহিত ভাষা অনুধাবন করতে করতে, আপনার অনুভূতির অপ্রকাশিত অধ্যায়গুলো উন্মোচন করতে করতে, আপনার চিন্তার অলিগলিতে সঞ্চিত কথামালার অর্থ খুঁজতে খুঁজতে হয়তো জীবনের সমস্ত প্রহরই নিঃশেষিত হয়ে যাবে।

কিন্তু বলুন তো, হৃদয়ের ভাষা শ্রবণ করতেই যদি জীবনের সমুদয় অবসর অতিবাহিত করে ফেলি, তবে সংসার নামক বিচিত্র সমরাঙ্গন সাজাব কখন? জীবনের তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক বোঝাপড়ার দুরূহ অনুশীলন, অভিমান-অনুযোগের ক্ষুদ্র অথচ তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়, দৈনন্দিনতার ক্লান্তি ভাগ করে নেওয়ার প্রশান্তি—এসবের মধ্য দিয়ে যে ভালোবাসা তার বাস্তব অস্তিত্বের পরিচয় দেয়, সেই অভিজ্ঞতাগুলো অর্জন করব কখন?

ভালোবাসা কি কেবল হৃদয়ের অন্তঃপুরে রচিত কোনো স্বপ্নিল উপাখ্যান, নাকি সেই উপাখ্যানকে জীবনের রুক্ষ বাস্তবতায়ও অর্থবহ করে তোলার নিরন্তর সাধনা? ভালোবাসা কি কেবল অনুভূতির নান্দনিক বিনিময়, নাকি পরস্পরের অসম্পূর্ণতাকে স্বীকার করে, ভিন্নতাকে সম্মান জানিয়ে, জীবনের প্রতিকূলতার মধ্যেও পাশাপাশি পথ চলার এক সচেতন অঙ্গীকার?

জানি না। তবে এটুকু বুঝতে শিখেছি, কল্পনার মখমলি প্রাঙ্গণে ভালোবাসাকে যতখানি নিখুঁত মনে হয়, বাস্তবের বন্ধুর পথে তার পদচারণা ততখানিই পরীক্ষাসাপেক্ষ। অনুভূতির উচ্ছ্বাস দিয়ে সম্পর্কের সূচনা হতে পারে, কিন্তু তার স্থায়িত্বের জন্য প্রয়োজন বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, দায়বদ্ধতা এবং প্রতিদিন নতুন করে একে অপরকে বুঝতে চাওয়ার আন্তরিকতা। আর সেই বাস্তব ভালোবাসার সম্ভাবনাটুকুই হয়তো আমার হৃদয়ে এত প্রশ্নের জন্ম দেয়।

আচ্ছা, হৃদয়েশ, একটি কথা কি আপনাকে বলা হয়নি?

আপনাকে ঘিরে এত প্রশ্ন, এত আকুলতা, এত অনুচ্চারিত অনুভূতির আয়োজন করলেও একটি সত্য আজও আমার কাছে অনাবিষ্কৃত—আপনি কে?

আপনার প্রকৃত পরিচয় কী, আপনার চোখের গভীরে কী ধরনের বিষণ্নতা কিংবা প্রশান্তি আশ্রয় নিয়ে আছে, আপনার হাসির আড়ালে কতখানি সরলতা, আপনার নীরবতার অন্তরালে কতখানি চিন্তা, আপনার হৃদয়ের গভীরে কী ধরনের স্বপ্ন প্রতিনিয়ত ডানা মেলছে—আমি তো তার কিছুই জানি না! এমনকি এই মুহূর্তে আপনি জীবনের কোন অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে নিজের আগামীকাল নির্মাণ করছেন,তারও কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ আমার কাছে নেই।

হয়তো আপনি নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত; হয়তো কোনো এক অপরিচিত শহরের রাস্তায় হেঁটে চলেছেন, হয়তো নিজের স্বপ্নপূরণের সংগ্রামে ক্লান্ত হয়ে কোনো নিভৃত সন্ধ্যায় একাকী বসে আছেন। হয়তো আপনার জীবনেও এমন কিছু প্রশ্ন রয়েছে, যাদের উত্তর আপনি আজও খুঁজে পাননি। আবার এমনও হতে পারে, আপনার পৃথিবী এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ, যেখানে আমার অস্তিত্বের কোনো পরিচিত চিহ্নই নেই।

আর আমি?

আমি সম্পূর্ণ পরিচিত না হয়েও আমার ভবিষ্যতের কোনো এক অনির্ধারিত অধ্যায়ে আপনাকে কল্পনা করে বসে আছি।

কী বিচিত্র এই হৃদয়ের স্বভাব! যার মুখচ্ছবি অনিশ্চিত, যার কণ্ঠস্বর হয়তো এখনো অস্পষ্ট আমার কাছে- তার জন্যও হৃদয়ের অন্তঃপুরে একটি স্থান সংরক্ষিত ! সেখানে আপনার পরিচয়ের কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই, আপনার উপস্থিতির কোনো দৃশ্যমান সাক্ষ্য নেই । অথচ সেই শূন্য স্থানটুকুকে ঘিরেই কত কল্পনা, কত প্রশ্ন, কত নীরব প্রত্যাশার জন্ম হয়েছে !

তবে কি আমি আপনাকে ভালোবাসি, নাকি ভালোবাসার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে নিজের মনের মধ্যে আপনার একটি কাল্পনিক ধারণা নির্মাণ করেছি? আমার এই অনুভূতির যথার্থ নাম কী—প্রেম, প্রত্যাশা, আকাঙ্ক্ষা, নাকি অনিশ্চিত কোনো আত্মিক সান্নিধ্যের জন্য দীর্ঘকাল ধরে সঞ্চিত এক নীরব তৃষ্ণা?

আমি জানি না।

হয়তো আপনাকে আমি সম্পূর্ণ চিনি না, কিন্তু আপনাকে ঘিরে আমার প্রত্যাশার স্বরূপটুকু কিছুটা চিনি। আমি জানি, আমি এমন একজন মানুষকে চিনতে চাই, যার কাছে আমার নীরবতা ব্যাখ্যার অপেক্ষায় অবহেলিত হয়ে থাকবে না; যার কাছে আমার অনুভূতির গভীরতা দুর্বোধ্য মনে হলেও তা উপহাসের বিষয় হবে না; যার সামনে আমাকে প্রতিনিয়ত নিজের অস্তিত্বের যথার্থতা প্রমাণ করতে হবে না। এমন একজন মানুষ, যাঁর সান্নিধ্যে ভালোবাসার পাশাপাশি নিজের স্বতন্ত্র সত্তাটুকুও অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হবে।

কিন্তু আপনি সেই মানুষ কি না, তা তো আমার জানা নেই!

আমার এই প্রত্যাশার সঙ্গে আপনার বাস্তব সত্তার কতটুকু মিল থাকবে ,তাও অজানা। আপনি হয়তো আমার কল্পনার মতো হবেন না। আপনারও সীমাবদ্ধতা থাকবে, দ্বিধা থাকবে, অভ্যাসের ভিন্নতা থাকবে; হয়তো এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকবে, যেগুলো আমার পূর্বকল্পিত প্রত্যাশার সঙ্গে মিলবে না। আর সেই অমিলের মুখোমুখি দাঁড়িয়েই হয়তো আমাকে শিখতে হবে—কোনো মানুষকে ভালোবাসার অর্থ তাঁকে নিজের কল্পনার অনুগত করে তোলা নয়, বরং তাঁর প্রকৃত সত্তাকে জানার, বোঝার এবং সম্মান করার অবকাশ রাখা।

তবু হৃদয় যে কখনো কখনো পরিণয়ের আগেই প্রত্যাশার একটি অবয়ব নির্মাণ করে ফেলে, সেই অদ্ভুত সত্যটিকে অস্বীকার করব কী করে?

তবু, হে হৃদয়েশ, অসম্ভবের প্রতিই কি মানুষের আকর্ষণ সবচেয়ে দুর্নিবার?

যা সহজলভ্য নয়, যা হাত বাড়ালেই স্পর্শ করা যায় না, যা প্রত্যাশার দিগন্তে থেকেও প্রাপ্তির সীমানায় এসে অধরা থেকে যায়—মানুষের হৃদয় কি তার প্রতিই অধিকতর নিবিড় অনুরাগ অনুভব করে? নাকি অসম্ভবের প্রতি এই আকর্ষণ আসলে নিজেরই কোনো অপূর্ণতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ কোনো অনিশ্চিত সত্তার অবয়বে খুঁজে ফেরে নিজের অপ্রাপ্ত স্বপ্নের পরিপূর্ণতা?

যদি তা-ই হয়, তবে বলুন তো, আমার হৃদয়েশ—আপনি কি আমার সেই অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা? আমার সমগ্র অস্তিত্বের গভীরে প্রোথিত এমন কোনো অভিলাষ, যার পূর্ণতা কল্পনা করতে পারি, অথচ যার বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা আমার অধিকারে নেই? নাকি আপনি সেই অধরা ইচ্ছা, যাকে লাভ করার আকাঙ্ক্ষায় আমি প্রতিনিয়ত নিজের সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হই?

আরও আশ্চর্যের বিষয়, আমি যখন এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বসি, তখনই উপলব্ধি করি—আপনাকে ঘিরে আমার সমস্ত আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অধিক অনিশ্চিত আপনি নিজেই। আমি জানি না, আপনি আমার জীবনে আদৌ স্থায়ী হয়ে আসবেন কি না। এমনকি আপনি যে আমার কল্পনার কোনো এক অবয়বমাত্র নন, বরং ভবিষ্যতে আমার সঙ্গে আবদ্ধ হতে পারেন এমন একজন বাস্তব মানুষ—এই সম্ভাবনাটুকুরও কোনো নিশ্চয়তা আমার কাছে নেই।

তবু আমি অপেক্ষা করি।

অবশ্য, সেই অপেক্ষার অর্থ এই নয় যে, আমি আমার জীবনে আপনার পরিপূর্ণ আগমন সম্পর্কে কোনো অদৃশ্য নিশ্চয়তা লাভ করেছি। বরং আমি অপেক্ষা করি এমন এক সম্ভাবনার জন্য, যা এখনো আমার জীবনে বাস্তব হয়ে ওঠেনি। আমি অপেক্ষা করি এমন এক পরিচয়ের জন্য, যার মধ্যবর্তী অধ্যায়গুলো এখনো রচিত হয়নি, যার পরিণতি সম্পর্কে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করার সাধ্য আমার নেই।

হয়তো কোনো এক অনির্ধারিত মুহূর্তে আমাদের পথ পরস্পরের কাছাকাছি এসে দাঁড়াবে। আবার এমনও হতে পারে, আমার এই প্রত্যাশা কখনো কোনো নির্দিষ্ট মানুষের পরিচয়ে রূপ নেবে না। এই সম্ভাবনাগুলোর কোনোটিকেই আমি নিশ্চিত সত্য বলে দাবি করতে পারি না। শুধু এটুকু জানি, আমার হৃদয়ে ভালোবাসার যে আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিয়েছে, তাকে বোঝার জন্য আমার সময় প্রয়োজন। তাই হয়তো আমার এই প্রতীক্ষার সবচেয়ে সুন্দর নাম—অনিশ্চয়তা।

আচ্ছা, পূর্ণতা বলতে আমরা আসলে কী বুঝি ?

দৃষ্টিগোচরভাবে চার হাত এক হওয়াই কি পূর্ণতার চূড়ান্ত সংজ্ঞা? সামাজিক স্বীকৃতি, পারস্পরিক অধিকারের প্রতিষ্ঠা, একই ছাদের নিচে বসবাস কিংবা জীবনের সমস্ত প্রাত্যহিক অনুষঙ্গে একে অপরের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই কি ভালোবাসার সার্থক পরিণতি? যদি তা-ই হয়, তবে যে ভালোবাসা কোনো অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে সেই পরিণতিতে পৌঁছাতে পারে না, তাকে কি নিঃসংকোচে অপূর্ণ বলে অভিহিত করা যায়?

যে অনুভূতি দুটি হৃদয়ে গভীরভাবে শিকড় বিস্তার করেও পার্থিব বাস্তবতার কোনো অমোঘ বিধানে একত্রে জীবন অতিবাহিত করার সুযোগ পায় না, তার সমস্ত গভীরতা কি কেবল একটি অনুপস্থিতির কাছে পরাজিত হয়ে যায় ? হয়তো আমার এই প্রশ্নগুলো আগামীর জন্য, কোনো অনিশ্চিত সম্ভাবনার জন্য, অথবা আমার নিজের হৃদয়কে বোঝার জন্য।

তবু কল্পনা করি, যদি আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গভীরতম রূপ নেয়, আর তারপরও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আমাদের একসঙ্গে পথ চলার সুযোগ কেড়ে নেয়—তবে কি আমাদের অনুভূতির সমস্ত অর্থ নিঃশেষিত হয়ে যাবে? পার্থিব জীবনের অনিবার্য সমাপ্তি কি হৃদয়ে সঞ্চিত ভালোবাসার স্মৃতিকেও অর্থহীন করে দেয়, নাকি কিছু অনুভূতি তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি হারিয়েও মানুষের স্মৃতি, চেতনা ও আত্মোপলব্ধির মধ্যে স্বতন্ত্র তাৎপর্য বজায় রাখে?

আমি জানি, এসব প্রশ্নের হয়তো কোনো একক উত্তর দিয়ে তাদের সমস্ত জটিলতা নিরসন সম্ভব নয়। তবু আমার মনে হয়, ভালোবাসার পূর্ণতাকে কেবল তার বাহ্যিক পরিণতির নিরিখে বিচার করা যায় না। প্রাপ্তি ভালোবাসার একটি সম্ভাব্য পরিণতি হলেও অনুভূতির গভীরতা নির্ধারণের একমাত্র মানদণ্ড নয়। কোনো সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে পারে, তার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি তার দৃশ্যমান অস্তিত্বও একদিন বিলীন হয়ে যেতে পারে; কিন্তু তাতে সেই সম্পর্কের মধ্য দিয়ে অর্জিত উপলব্ধি, আত্মিক পরিবর্তন কিংবা জীবনের অর্থবহ অভিজ্ঞতাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিথ্যা হয়ে যায় না।

তবে, হৃদয়েশ, আমার এই দার্শনিক উপলব্ধি যতই সুদৃঢ় হোক, হৃদয়ের ভেতরে জমে থাকা আশঙ্কাগুলোকে কি সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারি?

কখনো কি আপনার হৃদয়ের নির্জন প্রকোষ্ঠে আমার জন্য সংরক্ষিত স্থানটি আপনার কাছে কেবল অতীতের কোনো অধ্যায়মাত্র হয়ে থাকবে? আপনি কি আপনার জীবনে অন্য কারও সঙ্গে এমন এক সম্পর্ক গড়বেন, যেখানে আপনার প্রতিদিনের আনন্দ-বেদনা, স্বপ্ন-সংগ্রাম ও নীরবতার সঙ্গী হয়ে উঠবে অন্য একজন?

অবশ্য, আমি যখন এসব প্রশ্ন করি, তখন একটি সত্য আমাকে থামিয়ে দেয়—আমি তো এখনো আপনাকে সম্পূর্ণ চিনিই না! আপনার জীবনে আমার কোনো বাস্তব স্থান আছে কি না, তা-ও এখনো অনিশ্চিত। সম্ভবত এই প্রশ্নগুলোর মধ্যেই আমার অনুভূতির সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বটি লুকিয়ে আছে। একদিকে আমি এমন এক সান্নিধ্যের প্রত্যাশা করি, যেখানে নিজেকে নিঃসংকোচে প্রকাশ করতে পারব; অন্যদিকে আমি জানি, সেই প্রত্যাশার সম্ভাব্য প্রাপক সম্পর্কে আমার ধারণা এখনো কল্পনার সীমা অতিক্রম করেনি। একদিকে হৃদয় একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের জন্য অপেক্ষা করতে চায়, অন্যদিকে বিবেক স্মরণ করিয়ে দেয়—অনিশ্চিত কাউকে নিজের কল্পনার সঙ্গে বেঁধে ফেলা যায় না।

তাই আমি আপনাকে কোনো প্রতিশ্রুতির ভারে আবদ্ধ করতে চাই না, কোনো অদৃশ্য অধিকারের দাবি নিয়ে আপনার সামনে উপস্থিত হতেও চাই না। আমি শুধু চাই, আমাদের পরিচয়ের মধ্যে সত্যিকারভাবে একে অপরকে জানার অবকাশ থাকুক। আমি যেন আপনার কল্পিত প্রতিরূপকে নয়, আপনার প্রকৃত সত্তাকে চিনতে পারি; আপনিও যেন আমার অনুভূতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষটিকে জানার সুযোগ পান।

হয়তো তখন বুঝতে পারব, এত দিন ধরে যে মানুষটিকে ঘিরে আমার কল্পনার বিস্তার ঘটেছে, তাঁর প্রকৃত সত্তা আমার ধারণার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। হয়তো আমার প্রত্যাশাগুলো কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে বদলে যাবে, কিছু আকাঙ্ক্ষা নতুন অর্থ লাভ করবে, আর কিছু প্রশ্নের উত্তর এমনভাবে প্রকাশিত হবে, যা আজ আমার কল্পনারও অতীত।

হিমালয়, আপনি জানেন কি, মানুষের হৃদয় কখনো কখনো এমন এক আশ্রয়ের কল্পনা করে, যার সম্পর্কে তার কাছে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই? সেই আশ্রয়ের কোনো ঠিকানা নেই, কোনো দৃশ্যমান অবয়ব নেই, তবু তার সম্ভাবনাটুকু হৃদয়ের মধ্যে এমন এক প্রশান্তির জন্ম দেয়, যেন অজান্তেই কোথাও একটি দরজা খোলা রয়েছে। হয়তো আমার প্রতীক্ষাও তেমনই—কোনো অনিশ্চিত মানুষের উপস্থিতির নিশ্চয়তা নয়, বরং এমন এক সম্পর্কের সম্ভাবনা, যেখানে ভালোবাসা ও আত্মমর্যাদা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে না।

জানেন, কাব্য ? আপনার প্রতি আমার এই অজ্ঞাত আকর্ষণের স্বরূপটি আমাকে বারবার ভাবিয়ে তোলে।

এ কি ক্ষণিকের আবেগ, নাকি দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চিত কোনো গভীর প্রত্যাশা? এ কি বিদ্যুতের ঝলকানি—যার আকস্মিক দীপ্তি মুহূর্তের জন্য দিগন্তকে আলোকিত করে, অথচ পরক্ষণেই অন্ধকারের কাছে নিজের সমস্ত অস্তিত্ব সমর্পণ করে? নাকি এ এমন এক নদীর প্রবাহ, যার গন্তব্য এখনো অনিশ্চিত, অথচ যার গতিপথে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বাঁক সৃষ্টি হচ্ছে?

আপনার প্রেম কেমন হবে, তা তো আমি জানি না। আপনার অনুভূতির গভীরতা, ভালোবাসা সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি, সম্পর্কের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা কিংবা জীবনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর মানসিকতা—এসবের কোনো প্রত্যক্ষ ধারণা আমার কাছে নেই। তবু আমি কল্পনা করি, যদি এমন একজন মানুষের সঙ্গে পরিণয় হয়, যিনি ভালোবাসাকে কেবল আকস্মিক আবেগের উচ্ছ্বাস হিসেবে দেখবেন না, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অর্থকে আরও গভীর করে তুলতে চাইবেন, তবে সেই সম্পর্কের সম্ভাবনা কেমন হতে পারে?

আমি কি এমন কাউকে খুঁজছি, যাঁর অনুভূতি আমার অনুভূতির প্রতিধ্বনি হয়ে উঠবে? নাকি এমন কাউকে, যিনি আমার থেকে ভিন্ন হয়েও আমাকে বুঝতে চাইবেন? আমার নিবেদন কি একপাক্ষিক আবেদনের অনুচিত দীর্ঘশ্বাস হয়ে থাকবে, নাকি কোনো একদিন দুটি স্বতন্ত্র হৃদয়ের মধ্যে পারস্পরিক অনুভূতি ও দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে একটি সম্পর্কের সম্ভাবনা জন্ম নেবে?

বলবেন কি, হৃদয়েশ?

অবশ্য, এই মুহূর্তে আপনার কাছ থেকে উত্তর পাওয়ার কোনো উপায় আমার জানা নেই। এমনকি আপনি আদৌ এই পত্রের সম্ভাব্য প্রাপক কি না, তাও আমার অজানা। হয়তো এই প্রশ্নগুলো কোনো একদিন আপনার কাছে পৌঁছাবে, হয়তো কখনোই পৌঁছাবে না। তবু প্রশ্নগুলো লিখে রাখছি, কারণ এগুলোর মধ্য দিয়ে আমি শুধু একজন অনিশ্চিত মানুষের সন্ধান করছি না; নিজের হৃদয়ের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষাকেও বুঝতে চাইছি।

আমি জানতে চাই, আমার এই প্রতীক্ষার অন্তরালে কী রয়েছে—কোনো মানুষকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, নাকি ভালোবাসার মধ্যে নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক স্থান খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছা? আমি কি একজন নির্দিষ্ট মানুষকে খুঁজছি, নাকি এমন এক সম্পর্কের সম্ভাবনা, যেখানে নিজের অনুভূতিগুলোকে লুকিয়ে রাখতে হবে না, যেখানে ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য নিজেকে ছোট করতে হবে না, যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা সম্পর্কের স্বাভাবিক ভিত্তি হয়ে উঠবে?

হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার কাছে এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। আর সেই কারণেই হয়তো এই পত্র এত দীর্ঘ, এত প্রশ্নবহুল, এত অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ।

শ্রদ্ধাস্পদেষু, আমার হৃদয়ের কথামালা তো ফুরোতেই চাইছে না। একেকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরও দশটি প্রশ্নের জন্ম হচ্ছে; একটি অনুভূতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অনিবার্যভাবে উন্মোচিত হচ্ছে আরও বহু অনুচ্চারিত অনুভব। মনে হচ্ছে, আমার হৃদয়ের অন্তঃপুরে যেন কথার এক অন্তহীন জনপদ—যেখানে প্রতিটি অলিগলি কোনো না কোনো স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা কিংবা সংশয়ের দিকে নিয়ে যায়।

হয়তো এই পত্রের সবচেয়ে বড় অসম্পূর্ণতা এখানেই—আমি যাঁকে উদ্দেশ করে এত কথা লিখছি, তাঁকেই এখনো সম্পূর্ণ চিনি না। আমার সম্বোধন আছে, অথচ সম্বোধিত মানুষের নিশ্চয়তা নেই; আমার অনুভূতি আছে, অথচ তার নির্দিষ্ট প্রাপক সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান নেই; আমার প্রত্যাশা আছে, অথচ সেই প্রত্যাশা বাস্তবে পূর্ণতা পাবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তবু এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও একটি বিষয় আমার কাছে স্পষ্ট—আমি এমন একটি সম্পর্কের সম্ভাবনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই, যেখানে ভালোবাসা কেবল আকর্ষণের নাম হবে না। যেখানে দুটি মানুষ একে অপরের জীবনে প্রবেশ করবে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বিসর্জন দিয়ে নয়, বরং সেই স্বাতন্ত্র্যকে সম্মান করতে শিখে। যেখানে ভালোবাসা কাউকে নিজের অধিকারে আবদ্ধ করার অজুহাত হবে না, বরং একে অপরের পাশে থাকার সচেতন সিদ্ধান্ত হয়ে উঠবে।

আপনি যদি সত্যিই আমার জীবনে আসেন, তবে আশা করব, আমাদের পরিণয়ের সূচনা হবে বাস্তব দুটি মানুষের মধ্যে—আমার কল্পনার কোনো প্রতিমার সঙ্গে আপনার তুলনা করে নয়। আমি আপনার প্রকৃত সত্তাকে বুঝতে চাইব, আপনার সঙ্গে আমার প্রত্যাশার মিল-অমিলগুলোকে বাস্তবতার আলোয় পরখ করব। আর আপনিও যদি আমাকে জানতে চান, তবে আশা করব, আমার অসম্পূর্ণতা ও স্বাতন্ত্র্যকে সঙ্গে নিয়েই আমাকে চিনবেন।

আর যদি আপনার আগমন আমার জীবনের অংশ না-ও হয়, তবে এই প্রতীক্ষাকে আমি আমার জীবনের একমাত্র প্রাপ্তি বলে দাবি করব না। কারণ, আমার জীবনের অর্থ কোনো অনিশ্চিত মানুষের আগমনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল নয়। আমি আমার জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাব, নিজের স্বপ্নের প্রতি দায়বদ্ধ থাকব, নিজের অনুভূতির গভীরতা বুঝতে শিখব। ভবিষ্যতের কোনো সম্পর্কের জন্য অপেক্ষা করার অর্থ বর্তমান জীবনকে স্থগিত করে রাখা নয়। তবু আমার হৃদয়ের কোনো এক নিভৃত প্রকোষ্ঠে ভালোবাসার যে সম্ভাবনাটুকু সঞ্চিত আছে, তাকে অস্বীকার করারও প্রয়োজন বোধ করব না।

হয়তো একদিন কোনো এক সাধারণ মুহূর্তেই আপনার সঙ্গে আমার পরিণয় হবে। হয়তো সেই মুহূর্তে কোনো অলৌকিক সংগীত বেজে উঠবে না, আকাশের সমস্ত নক্ষত্রও নতুন করে জ্বলে উঠবে না। আর যদি কখনো এমন কোনো মুহূর্ত আসে, যখন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারব—এত দিন ধরে যে মানুষটিকে ঘিরে আমার কল্পনার বিস্তার ঘটেছে, তিনি আসলে আমার কল্পনার চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব—তবে হয়তো সেদিনই আমার প্রতীক্ষা একটি নতুন অর্থ লাভ করবে।

সেদিন আপনাকে বলব কি না, জানি না; তবে হয়তো আপন মনে স্বীকার করব, এত দিনের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর কোনো এক অলৌকিক নিশ্চয়তার মধ্যে লুকিয়ে ছিল না। উত্তরটি ছিল পরস্পরকে জানার ধৈর্যের মধ্যে, বাস্তবতার সঙ্গে কল্পনার ব্যবধান স্বীকার করার মধ্যে। আমি আপনার জীবনের ওপর কোনো অদৃশ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই না। আপনার আগমনকে আমার জীবনের অনিবার্য পরিণতি বলেও ঘোষণা করতে চাই না। আমি শুধু আমার হৃদয়ের এই অজ্ঞাত প্রত্যাশাটুকুকে স্বীকার করে নিতে চাই—এমন এক প্রত্যাশা, যা ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতি উন্মুক্ত, অথচ বর্তমানের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন।

আমি জানি না, আপনি কোনো একদিন আমার জীবনের সত্যিকারের পরিচিত মানুষ হয়ে উঠবেন কি না। শুধু জানি, আমার হৃদয়ে ভালোবাসার যে আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিয়েছে, তাকে আমি আরও পরিণত, আরও বিবেচক ও আরও মানবিক করে তুলতে চাই।

হয়তো আপনাকে পাওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হবে, আপনাকে সত্যিকার অর্থে চিনতে পারা। হয়তো আপনার আগমনের চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণ হবে, সেই আগমনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে তোলা। আর হয়তো আমার এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার সবচেয়ে মূল্যবান প্রাপ্তি হবে—আপনার অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে নিজের হৃদয়কে নতুন করে চিনে নেওয়া।

অতএব, আজ আর কোনো উত্তর দাবি করছি না। কেবল আমার এই অগোছালো বাক্যসম্ভারের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা আন্তরিকতাটুকু অনুভব করার অবকাশ রাখবেন—যদি কোনো একদিন এই কথাগুলো আপনার কাছে পৌঁছায়।

আমার শব্দের অসম্পূর্ণতাকে আমার অনুভূতির অসারতা বলে বিবেচনা করবেন না; আবার আমার অনুভূতির গভীরতাকে আপনার ওপর কোনো অনিবার্য দায় হিসেবেও আরোপ করবেন না। আমি শুধু চেয়েছি, আমার হৃদয়ের এই অনুচ্চারিত অধ্যায়টি অক্ষরে ধরে রাখতে—যাতে একদিন ফিরে তাকিয়ে বুঝতে পারি, আমি কেবল কোনো অনিশ্চিত মানুষের অপেক্ষায় ছিলাম না; আমি অপেক্ষা করছিলাম নিজের অনুভূতিকে আরও গভীরভাবে বুঝতে শেখার, ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করার এবং ভবিষ্যতের কোনো সম্পর্কের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে তোলার।

আপনি আমার জীবনে কী হয়ে থাকবেন, তা হয়তো আজ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আপনি কোনো একদিন আমার জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠবেন, নাকি শুধু আমার স্মৃতির কোনো অনির্দিষ্ট প্রান্তেই থেকে যাবেন—তার উত্তরও আমার জানা নেই। তবু ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে অস্বীকার না করেও আমি সম্ভাবনার প্রতি উন্মুক্ত থাকতে চাই।

কেননা, সব প্রতীক্ষার পরিণতি প্রাপ্তি নয়, আর সব আকাঙ্ক্ষার গন্তব্য সুনিশ্চিত নয়। তবু কিছু প্রত্যাশা মানুষকে নিজের হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করতে শেখায়, কিছু প্রশ্ন তাকে নিজের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি দাঁড় করায়, আর কিছু অজানা সম্ভাবনা তাকে ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদী থাকতে সাহায্য করে। হয়তো আমার প্রতীক্ষাও তেমনই ।

ইতি,

আপনারই প্রতিক্ষীতা ।

লেখক: সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।