বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / খোলা চিঠি / নিবন্ধ

পথপ্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, প্রয়োজন সামান্য সহানুভূতি

Author

মো জাহিদুল ইসলাম জাহিদ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ পাঠ: ৩৬ বার

আজ দুপুরে মেসে খাবার খাচ্ছিলাম। আমার রুমমেট আশিক খাবার শেষ করে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমি একা খাচ্ছিলাম। ঠিক তখনই বাইরে থেকে একটি বিড়ালের কান্না কানে আসে। শুরুতে বিষয়টি খুব সাধারণ মনে হয়েছিল। এমন দৃশ্য আমরা প্রায়ই দেখি এবং বেশিরভাগ সময়ই এড়িয়ে যাই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সেই কান্না আমার মনোযোগ কেড়ে নেয়। কান্নাটি ছিল অস্বাভাবিক রকমের করুণ, যেন কোনো ছোট শিশু ক্ষুধায় কাঁদছে।
বাইরে থেকে আশিকের ডাকাডাকি আর বিড়ালটির ক্রমাগত কান্না আমাকে আর বসে থাকতে দেয়নি। খাবারের প্লেট হাতেই বাইরে বেরিয়ে যাই। আমাকে দেখামাত্র বিড়ালটি দৌড়ে আমার দিকে ছুটে আসে, যেন বহুক্ষণ ধরে এটাই ছিল তার শেষ ভরসা। প্লেটের খাবার সামনে দিতেই সে মরিয়া হয়ে খেতে শুরু করে। কাছে গিয়ে লক্ষ্য করি, বিড়ালটির পেটে বাচ্চা। নিজের ক্ষুধা আর অনাগত বাচ্চাগুলোর দায় একসঙ্গে বয়ে নিয়ে সে আমাদের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল।
এই ঘটনাটি আমাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। একটি গর্ভবতী পথপ্রাণী ক্ষুধা ও অসহায়তায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে, আর আমরা বেশিরভাগ সময় তা দেখেও না দেখার ভান করছি। প্রশ্ন জাগে, মানুষ হয়েও আমরা কি এতটাই উদাসীন হয়ে পড়েছি যে একটি নিরীহ প্রাণীর কষ্ট আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় না?
পথপ্রাণী, বিশেষ করে বিড়াল, আমাদের পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা ইঁদুর দমন করে ঘরবাড়ি সুরক্ষিত রাখে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। অথচ এই নীরব উপকারের বিনিময়ে তারা পায় অবহেলা ও তাড়িয়ে দেওয়া। বিশেষ করে গর্ভবতী ও দুর্বল পথপ্রাণীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আরও বেশি হওয়া উচিত।
একটি বিড়ালের প্রয়োজন খুব সামান্য—একটু খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং সামান্য সহানুভূতি। আমরা চাইলে মেস, বাসাবাড়ি বা দোকানের সামনে একটি পাত্রে খাবার ও পানি রেখে এই প্রাণীগুলোর কষ্ট অনেকটাই লাঘব করতে পারি। এটি কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।
এই চিঠির মাধ্যমে পাঠকসমাজের প্রতি অনুরোধ—আসুন, আমরা আমাদের আশপাশের পশু-পাখিদের প্রতিও দায়িত্বশীল হই।মো: জাহিদুল ইসলাম জাহিদ
শিক্ষার্থী : ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

মোবাইল : ০১৭০৬৫০০৩২৯
ইমেইল : jahid.iu.cmj.5@gmail.com
লেখক: সহযোগী সদস্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!