বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ইসলাম / নিবন্ধ

লাইলাতুল কদর : হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনী

Author

আশা মনি , ইডেন মহিলা কলেজ

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৭২ বার

লাইলাতুল কদর : হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনী।

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে কাঙ্খিত রাত শবে কদরের রাত।একে লাইলাতুল কদর বলা হয়।যার অর্থ “মর্যাদাপূর্ণ রাত” বা “ভাগ্য নির্ধারণের রাত”।রমজান মাসের শেষ দশ দিন অর্থাৎ নাজাতের দশ দিনের যেকোনো এক বিজোর রাতকে লাইলাতুল কদরের রাত হিসেবে গণ্য করা হয়।এই রাতেই মহান আল্লাহ তায়ালা প্রথমবারের মতো পবিত্র কুরআন নাজিল করেন।এরপর থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের সকল মানুষ গোনাহ মাফের আশায় মহিমান্বিত এই রাতে ইবাদতে মশগুল থাকে।তাই মুসলিম ঘরে ঘরে এই রাত কে ঘিরে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।আত্মশুদ্ধি লাভের চেষ্টায়,মুমিনরা দুনিয়াবি সকল ব্যস্ততা ভুলে আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকে।
পবিত্র কুরআনে শবে কদরের রাত কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাত হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।কুরআনে বলা হয়েছে – “লাইলাতুল কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম”(আল-কদর,আয়াত-০৩)।কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী,এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম কারণ এই এক রাত ইবাদত করলে ৮৩ বছরের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।কদরের রাতের রহমত ও মর্যাদা উপলব্ধি করতে আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-কদর নাজিল করেছেন।যেখানে সুস্পষ্ট ভাবে পবিত্র কদরের রাতের মহিমা ও করণীয় বর্ণিত হয়েছে।কুরআনে বর্ণিত আছে, “নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে” (আল-কদর,আয়াত:০১)।এ রাতে অগণিত ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন,যার কারনে এ রাত শান্তি ও রহমতে পরিপূর্ণ থাকে।এ বিষয়ে কুরআনে আছে,”সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরাইল) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজের জন্য অবতীর্ণ হয়”।
ইতিহাস অনুযায়ী,৬১০ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কাছে অবস্থিত হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ)।এমতাবস্থায় হযরত জিবরাইল (আঃ) আল্লাহর ওহী নিয়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয় হেরা গুহার সামনে।তিনি ধ্যানমগ্ন থাকা হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর ধ্যান ভঙ্গ করেন আল্লাহ প্রেরিত ওহী পাঠ করানোর জন্য।যার প্রথম শব্দ ছিলো “ইকরা” অর্থাৎ “পড়ো”।এভাবেই প্রথমবারের মতো পবিত্র কুরআনের আয়াত নাজিল এবং পাঠ করা হয়।পরবর্তীতে ধাপে ধাপে হযরত জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে ওহী প্রেরিত হয়ে সম্পূর্ণ কুরআন নাজিল হয়।
পবিত্র শবে কদরের রাতে মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে বলে মুসলিম সম্প্রদায় বিশ্বাস করেন।সম্পূর্ণ রাত ইবাদতে মশগুল থাকে মুমিনগণ।অসংখ্য ফেরেশতাদের আনাগোনা বয়ে আনে শান্তি ও রহমত।যার কারণে সাধারণ যেকোনো রাতের তুলনায় এই রাতের অন্যরকম সৌন্দর্য ও আত্মিক শান্তি উপলব্ধি করা যায়।ইবাদতে থাকা মুমিনগণের উপর সারা রাত রহমত বর্ষণ হতে থাকে।যার কারণে মসজিদ গুলোতে সম্পূর্ণ রাত মুসল্লীদের ইবাদত করতে দেখা যায়।বিভিন্ন বয়সের শিশু কিশোরদের রাতভর আনাগোনা চলতে থাকে।নামাজ,জিকির,কুরআন তিলাওয়াত,হাদিসি আলোচনায় মশগুল থাকে সকলে।শয়তানের প্রভাব কম থাকায়,নিদ্রাহীনভাবে চলতে থাকে সকল ধর্মীয় আলাপ-আলোচনা।এই রাতের রহমত ও শান্তি প্রায় ফজর পর্যন্ত বিরাজ করে।
হাদিস অনুযায়ী,রমজানের শেষ দশকের মধ্যে সকল বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদরের খোজ করতে বলা হয়েছে।এক্ষেত্রে সম্ভাব্য রাত গুলো হলো ২১ রমজান,২৩ রমজান,২৫ রমজান,২৭ রমজান এবং ২৯ রমজান।তবে আমাদের দেশে ২৭ রমজান শবে কদরের রাত হিসেবে প্রচলিত রয়েছে।যা পরিপূর্ণভাবে সঠিক নয়।তাই মুমিনদের কে রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বিজোড় রাতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে যেনো প্রকৃত কদরের রাত সকলে চিহ্নিত করতে পারে।বর্তমানে বিভিন্ন আলেমদের বক্তব্যের কারণে ২৭ রমজানকেই শবে কদরের রাত হিসেবে গণ্য করার প্রচলন কিছুটা কমেছে।এটি মানুষকে শবে কদরের বিষয়ে আরো বেশি সচেতন ও আগ্রহী করে তুলেছে।
লাইলাতুল কদর চেনার জন্যেও বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।হাদিসে কিছু লক্ষণ বলা হয়েছে।যেমন- কদরের রাতটি হবে প্রশান্ত ও সুদীর্ঘ।এ রাতের তাপমাত্রা মাঝামাঝি থাকবে।রাত পেরিয়ে সকালে সূর্য মৃদু আলোয় উদয় হবে।তাই মুসলমানদের এ রাতে বেশি বেশি ইবাদত করতে বলা হয়েছে।নামাজ,কুরআন তিলাওয়াত,দোয়া করা,তওবা করা,তাসবিহ পাঠ করা,ইস্তেগফার পাঠ করা,দ্বীনি শিক্ষা প্রদান ও গ্রহণ করার মাধ্যমে এই রাতের পবিত্রতা বজায় রাখতে হয়।
শবে কদরের রাতে আল্লাহর নিকটস্থ লাভ করে,নিজের পূর্ববর্তী সকল গোনাহের জন্য বারংবার ক্ষমা চেয়ে,আত্মার পরিশুদ্ধ করাই মুমিনগণের প্রধান উদ্দেশ্য।আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের ক্ষমা লাভের এক মহান সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন এই রাতের মাধ্যমে।যার কারণে প্রকৃত মুমিনবান্দা তার ইবাদতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকে পরম করুণাময় কে সন্তুষ্ট করতে।৬১০ খ্রিস্টাব্দ হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত,এই দীর্ঘকাল ধরে প্রকৃত মুসলমান এই মহিমান্বিত রাত ইবাদতের মাধ্যমে উদযাপন করে আসছে।যা পৃথিবী শেষ হওয়ার আগ মূহুর্ত পর্যন্ত বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস করে মুমিনগণ।

আশা মনি
ইংরেজি বিভাগ,
ইডেন মহিলা কলেজ,ঢাকা।

লেখক: সাধারণ সদস্য, ইডেন মহিলা কলেজ।
এই লেখাটি ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে শেয়ার বিজ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!