চাকরির পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে নেওয়া হোক।

চাকরির পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে নেওয়া হোক।আরিফুল কাদের
বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে চাকরি পাওয়ার আশায়। শহরে বসবাসরত অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিউশন করে বা পার্ট টাইম কোনো কাজ করে নিজের খরচ নিজে চালায়। বর্তমানে বাজারের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্তদের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। কোনো রকম মাস পার করতে সবাইকে হিমশিম খেতে হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যা ইনকাম করে তা দিয়ে তারা ঠিক মতো চলতেও পারে না। বাহ্যিক কোনো টাকা পয়সা তাদের কাছে জমা থাকে না। বর্তমান চাকরির বাজারে কোনো চাকরিতে আবেদন করতে গেলে ১১২ টাকা থেকে শুরু করে ক্ষেত্র বিশেষে ৬০০ টাকারও বেশি লাগে। এই টাকা কোনো রকমে যোগাড় করে শিক্ষার্থীরা চাকরিতে আবেদন করে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা শুরু হয় পরীক্ষার সময়। সরকারি চাকরির বেশিরভাগ পরীক্ষা হয়ে থাকে রাজধানী ঢাকায়। আগেই বলেছি বর্তমান শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই টিউশন করে বা পার্ট টাইম কোনো কাজ করে কোনো রকমে নিজে চলতে পারে, সেখানে ঢাকায় গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া তাদের প্রতি যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা এর মতো। ঢাকা শহরে একবার আসা যাওয়া করতেও গুণতে হয় কয়েক হাজার টাকা, যা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পক্ষে অসম্ভব হয়ে যায়। ফলে অনেকে সরকারি চাকরিতে আবেদন করলেও অর্থাভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত অহরহ ঘটছে। অথচ বিভাগীয় শহরে পরীক্ষাগুলো হলে প্রত্যেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারতো। আসা যাওয়ার খরচ, সময়, যাতায়াত সমস্যাসহ বহু কারণে অনেক মেধাবী মুখ ঝরে যাচ্ছে যারা সমাজ, জাতি ও দেশের কল্যাণে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারতো। দেশের প্রতিটি সেক্টরে অবাধ বিচরণ করে যারা দেশের কল্যাণ সাধিত করার যোগ্যতা রাখে তারা নিরবেই অকালে ঝরে যাচ্ছে। তাই আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, বাংলাদেশের চাকরির পরীক্ষাগুলো বিভাগীয় শহরে নেওয়া হোক। এতে করে কোনো মেধাবী আর অকালে ঝরে যাবে না।

